তামিমের প্রাপ্য স্বীকৃতি ও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার গল্প

লিটন দাস সেঞ্চুরি করে যতটুকু এক্সপোজার পাওয়া উচিত ছিল তার চাইতে অনেক বেশি এক্সপোজার পেয়েছে এক দর্শক তামিম ইকবালকে কটূক্তি করায় পুলিশে সোপর্দিত হয়েছে সেই ঘটনা। খুবই পছন্দ হয়েছে ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্ট্যাটাসটা।

মাত্র এক লাইনে তিনি তামিম ইকবালের ব্যাটিং যেভাবে বর্ণনা করেছেন, গত বিশ্বকাপের পর থেকে আমি অন্তত ৯০০ শব্দ ব্যবহার করেও তার ধারেকাছে যেতে পারিনি। তিনি লিখেছেন- ‘তামিম এখন ব্যাটিং করেন করুনা পাওয়ার মতো করে, কোনোরকমে টিকে থাকা আর কি’! এই ব্যক্তির শর্ট ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লেখার প্রতিভা আছে নিশ্চিত।

একই সঙ্গে প্রচণ্ড হতাশ হয়েছি ক্রিকেট লেখক এবং কোচ জালাল চৌধুরীর স্ট্যাটাস পড়ে। তিনি তামিমের ব্যাটিংয়ের সাফাই গেয়েছেন অত্যন্ত দুর্বল আর একপেশে যুক্তি দিয়ে। তামিমের ৫৫ স্ট্রাইকরেটের ব্যাটিং নাকি দলের ফাউন্ডেশন তৈরি করেছে। ফাউন্ডেশন যদি বলি সেটা শান্ত এর সাথে লিটনের ৮০ রানের যে পার্টনারশিপ সেটা।

একবার ভাবুন ভারত বা পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ৫৫ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করছে, লিটন রান বাড়াতে গিয়ে ২৫ এর ঘরেই আউট হয়ে যেত; নেহায়েতই দুর্বল বোলিং হওয়ায় তামিমের তৈরি করা ক্ষতটা বোলিং ইউনিট কাজে লাগাতে পারেনি। এটা না বোঝার মনন জালাল চৌধুরীর নেই সেটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পছন্দ রেশনালিটিকে হটিয়ে দিয়েছে এক্ষেত্রে।

আরেক শীর্ষ মিডিয়া প্রথম আলো অনলাইনে লিখেছে তামিম নিজে স্লো খেলে লিটনকে স্বচ্ছন্দে খেলতে দিয়েছে। এর চাইতে বড়ো জোক গত দেড় বছরে শুনিনি বা পড়িনি। লেগ স্ট্যাম্পে বল পিচ না করলে তামিম যে এখন আর বাউন্ডারিরই চেষ্টা করে না, সেটা কি কেউ খেয়াল করে না? ফুড পান্ডা, ম্যাগি নুডলস, ডানো সহ অনেকগুলো কোম্পানীর ব্রান্ড এনডোর্স করছে তামিম। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তার যা ফর্ম তাতে সেগুলো আর রিনিউ হবে না।

তখন হয়তোবা বিজ্ঞাপন পাওয়ার অনিশ্চয়ত কেটে যাওয়ায় শীর্ষ মিডিয়াতে তামিমের ব্যাপারে নির্মোহ সমালোচনা আসবে। তামিমের রিফ্লেক্স নষ্ট হয়ে গেছে; এটা ফর্মের সাথে জড়িত নয়। এককালে সে ভালো ব্যাটসম্যান ছিল, সুতরাং মাঝেসাঝে সে রান পেতেও পারে, তবে সাদা বলের ক্রিকেটে উপরের টায়ারের দলের বিপক্ষে পারফর্ম করতে একজন ওপেনারকে যতটা ক্ষিপ্র হতে হয়, বয়স সেটা কেড়ে নিয়েছে তামিমের কাছ থেকে।

অন্যদিকে নাঈম শেখ কড়া নাড়ছে, সৌম্য-লিটন হারিয়ে যায়নি, এবং অনূর্ধ্ব ১৯ এর তানজিদও আগ্রাসি ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছে; সাদা বলে তামিমের সময় ফুরিয়ে গেছে। এটা বুঝেও সে জবরদখল স্টাইলে খেলা চালিয়ে যাবে, এবং ফলশ্রুতে যে ফরম্যাটটাতে সে হয়তো আরো ২ বছর খেলতে পারতো সেই টেস্ট থেকেও বাদ পড়ে যাবে।

এমন বিদায় তামিমের প্রাপ্য ছিল না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার বিদায়টাও টেন্ডুলকারের মতো করে হতে পারতো। কিন্তু তার শুভাকাংখীরাই তার বড় শত্রু; তার সীমাবদ্ধতাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো করে আড়াল করতে চাইছে। ফলে তামিমকে ট্রলিংয়ের মাধ্যমেই বাদ পড়তে হবে, প্রাপ্য স্বীকৃতি বা মূল্যায়নটা আর হবে না। দুঃখিত হলাম!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।