এখন চাচাকেই আদর্শ মানতে পারেন তামিম

খেলাধুলার জগৎটা এমনই। ভাল সময়ে সমর্থনের অভাব হয় না এখানে। অর্জন থাকলে মিডিয়ার হাইপও থাকবে। কিন্তু দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই ব্যাপারটা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তামিম ইকবাল খান।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২০০ তম ওয়ানডে ম্যাচ। ম্যাচটায় অর্জন তো দূরের কথা ব্যর্থতাই সঙ্গী হল তামিমের। ম্যাচের শুরুতেই অমার্জনীয় এক ভুল করে বসলেন। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে রোহিত শর্মার ক্যাচ ফেললেন। সেটাও আবার এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে যেখানে ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগেও ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে ক্যাচ প্র্যাকটিস করে গেছেন তিনি।

কিন্তু, মূল ম্যাচের সময় আর পারলেন না। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে রোহিত সেঞ্চুরি করে ফেললেন। আর ভারত শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৩ রান করার পরও তুলনামূলক স্লো উইকেটে ৩১৪ রান করে ফেললো।

যতই বলি না কেন, ভুল হতেই পারে – কিন্তু তার সাথে অবধারিত ভাবেই সমালোচনার তীর আসবেই। রোহিতকে শুরুতেই সরাতে পারলে ভারতের ২৮০ অবধি যাওয়াটাও মুশকিল ছিল। আর ভারতকে কমে আটকাতে পারলে তো ম্যাচটায় বাংলাদেশ জিতেই যায়। তামিমকে ঘিরে সমালোচনাটা এজন্যই।

গালিগালাজ অবশ্যই পরিহারযোগ্য, তবে একজন ক্রীড়াবিদকে সমালোচনা মাথা পেতে নিয়েই খেলতে হয়। তামিমের সামনে সুযোগ ছিল সেই ব্যর্থতার জবাব দিয়ে দারুণ একটা ইনিংস খেলার। সেটার শুরুটাও তিনি বেশ ভালভাবেই করেছিলেন। কিন্তু, সেখানেও তিনি ৩১ বলে ২২ করে থামেন।

আউট হওয়ার ধরণটাও খুব আইকনিক। আবারো বলের পেস না বুঝে প্লেড-অন হয়েছেন। সর্বশেষ নয় ম্যাচের চারটিতেই এভাবে আউট হলেন তিনি। দেশ সেরা ওপেনারের এমন দুর্বলতা মেনে নেওয়া যায় না।

১৬, ২৪, ১৯, ৪৮, ৬২, ৩৬ ও ২২ – এই স্কোরগুলো তামিমের নামের সাথে যায় না। একই সাথে স্ট্রাইক রেটেও তিনি মারাত্মক ভাবে ‘ওল্ড স্কুল’ মানসিকতার। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে যদি বাংলাদেশের শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিমের সাথে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম নেওয়া হয় – তাহলেও পরিসংখ্যান বলবে  এই সবার মধ্যে স্ট্রাইক রেটে সবচেয়ে পেছনে আছেন তামিমই।

ক্যারিয়ারের বাজে সময় আসবেই। তামিমের জন্য এই বাজে সময়টা বেশি দৃষ্টিকটু কারণ এটা হয়েছে বিশ্বকাপের সময়ে। আর এবার প্রত্যাশার চাপ এতটাই বেশি ছিল যে এই ব্যর্থতার সামনে হয়তো তামিমের গেল এক যুগের অর্জনও মিথ্য হয়ে যেতে পারে।

তামিমের বয়স এখন ৩০। কাগজে-কলমে তিনি আর বিরাট কোহলি সমবয়সী। তবে বাজে সময় থেকে ফিরে আসার আদর্শ অনুসরণ করতে হলে খুব দূরে নয় নিজের চাচা মানে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জয়ী সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানকেই অনুসরণ করতে পারেন তামিম।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে টানা ১০ ওয়ানডেতে কোনো হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি আকরাম। এই সময়ে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৯ রানের। ১০ রানের নিচে আউট হয়েছিলেন পাঁচবার। ওই সময়ের বাংলাদেশ দলের প্রেক্ষাপটেও এটা বড় কোনো ব্যর্থতা নয়। তারপরও ফিটনেস ঘাটতি আর স্ট্রাইক রেটের কারণে দল থেকে বাদ পড়ার মঞ্চটা তৈরিই হয়ে গিয়েছিল আকরাম খানের।

সেখান থেকে ফিরে তিনি ১৯৯৯ সালের ২৪ ও ২৫ মার্চ টানা দুই ম্যাচে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করেন। ২০০০ সালে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে ৫২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন – যে টা ওই আমলে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি ওয়ানডে ইনিংস ছিল।

এখনকার তুলনায় এগুলো খুব সামান্য অর্জন। তবুও, এসব করেই হারানো সুখ্যাতিটা ফিরে পেয়েছিলেন আকরাম খান। আর তামিম তো সেই তুলনায় আরো বেশি প্রতিভাধর ও পরিশ্রমী। তাঁকে যে পারতেই হবে।

তামিম, চ্যালেঞ্জটা নিন এখন থেকেই। ২০২৩ বিশ্বকাপটা কিন্তু উপমহাদেশীয় কন্ডিশনেই। সেই বিশ্বকাপটা আপনার হোক!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।