এই তামিম সুন্দর, ভয়ংকর সুন্দর!

৩১ তম বলে পৌঁছে যান হাফ সেঞ্চুরিতে। সেখান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন আর মাত্র ১৯ বল। ইনিংস শেষে তামিম ইকবালের রান ১৪১। মানে শেষ ১১ বলে আরো ৪১ রান করেন তিনি। এটুকু বললেই বোঝা যায় কি ভয়ংকর ঝড় তোলা এক ইনিংস খেলেছেন খান সাহেব।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শেষ করে ১৯৯ রানে। মানে বাকিরা মিলে করেছেন আর মাত্র ৫৮ রান। সেটা করতে গিয়ে তাঁরা খেলেছেন ৫৯ বল। টি-টোয়েন্টির বিবেচনায় এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে, কুমিল্লার ইনিংসটা ২০০-এর ওপরে উঠতে না পারার দায়টা ইমরুল কায়েস বা এনামুল হক বিজয়দের নিতেই হবে।

আবার তামিমে ফিরি। ফর্মে থাকা আত্মবিশ্বাসী তামিম নিজের দিনে কি করতে পারেন সেটা আরেকবার প্রমাণিত হল। ১০ টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন, ওভার বাউন্ডারি ছিল ১১ টি। সাকিব আল হাসান, আন্দ্রে রাসেল বা রুবেল হোসেন – কাউকেই এক বিন্দুও ছাড় দেননি তামিম ইকবাল।

প্রথমবারের মত বিপিএল ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন। সেটা স্মরণীয় করে রাখলেন অনন্য এক সেঞ্চুরি দিয়ে। বিপিএলে এটাই তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়। টি-টোয়েন্টি তামিমের আগের সর্বোচ্চ ইনিংসটাি ছিল ১৩০ রানের। এবার আগের সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলেন।

তবে, এত কিছুর পরও একটা আক্ষেপ অবশ্যই থাকবে তামিমের। ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে এই ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষেই ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ক্রিস গেইল। মাত্র ৫ রানের জন্য সেই ইনিংস স্পর্শ করতে না পারলেও এবারের আসরের সর্বোচ্চ ইনিংসটা গেইল খেলে ফেললেন। তবে, তারপরও কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, এটাই বিপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ইনিংস। তামিমের নিজের ক্যারিয়ারেও এটা অন্যতম সেরা।

তামিম ইকবাল বিপিএল শেষ করলেন ৪৬৭ রান নিয়ে। এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন রংপুর রাইডার্সের দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান রাইলি রুশো। তিনি করেছেন ৫৫৮ রান। এর ঠিক পরেই আছে তামিমের নাম।

তামিমের জন্য এবারের বিপিএলটা স্পষ্ট দুভাগে বিভক্ত। প্রথমটা ছিল একদমই সাদামাটা। টুকটাক রান পাচ্ছিলেন। এরপর জোড়া ডাক। সেখান থেকে ফিরে এসে ফাইনালের আগে শেষ সাত ম্যাচে ছিল দু’টো হাফ সেঞ্চুরি। আর নিজেকে এই আমূল পাল্টে ফেলার শেষটা হল নান্দনিক আর ভয়ংকর সুন্দর এক সেঞ্চুরি দিয়ে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।