আজ তুমি নেই অ্যান্ড আই ডোন্ট কেয়ার!

এখনো বৃষ্টি পড়ে তোমার মাঝে, সে বৃষ্টির ফোঁটা আমি নই!

প্রকৃতির যত নিয়ম আছে তার মাঝে সবচেয়ে বেশি ঘৃনা করি ‘কাউকে ছেড়ে যাওয়ার’ নিয়মটা। যে মানুষটা একসময় মিশে থাকে সমস্ত চিন্তা জুড়ে, সেই মানুষটাই একসময় হয়ে যায় রংহীন। যাকে ঘিরে থাকে হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা, সময়ের ব্যবধানেই সেই ভালোবাসার রং বদলে যায়।

এ যেন চরম সত্য, এই সত্যের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে তাহসান আর মিথিলার মত আরো অসংখ্য জুটি-দম্পতি নিজেদের আলাদা করে নিয়েছে।

বান্ধবীর সাথে ব্ল্যাকের তাহসানের অটোফ্রাফ নিতে যাওয়া, আর এক অচেনা মেয়ের জন্য বুকের গভীরে ভালোবাসা অনুভব করা, এখান থেকেই শুরু হয় প্রতিটা ভালোবাসা। যে ভালোবাসায় থাকে স্বর্গের শান্তি। তখন ভালোবাসার চেয়ে সুন্দর কিছু আর পৃথিবীতে হয়না, ও যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি।

অনস্ক্রীন কিংবা অফস্ক্রিন – সবখানেই আলোচনায় থাকতো তাহসান-মিথিলা জুটি। দর্শকরা যেন ভাবতো মিডিয়া জগতের সবচেয়ে সুখী দম্পতি তাঁরা, হয়তো ছিল। কিন্তু এখন আর নেই।

এখন তারা আলাদা, তারা এখন আর কাঁদে না। হয়ত দু এক ফোটা, কিন্তু ভালোটা এখন আর বাসেনা। এখন আলোর মতই চীর অধরা থেকে যাবে একে অপরের কাছে, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো কিংবা চাদের আলো আর কখনোই তাদের হবেনা।

কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ যখন স্মৃতি রোমন্থন করবে তখন যেন বুকের বা পাশটা চিন চিনিয়ে উঠবে। পুরোনো ছবি, পরিচিত জায়গা আর বৃষ্টি ভেজা বেইলি রোড তাঁদের কুড়ে কুড়ে খায়। তাহসান যেমন বলেই দিলেন গানের কথায় – ‘একদিন এই বেইলি রোডে কত ভিজেছি রিকশায়। আর আজ তুমি নেই অ্যান্ড আই ডোন্ট কেয়ার। তুমি দূরেই দাঁড়িয়ে থাকো। থ্যাঙ্ক ইউ!’

আর তার চেয়েও বেশি যন্ত্রণা দেয় যখন আমি – আপনি তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে একটার পর একটা কুরুচিপূর্ণ ট্রল বানিয়ে যাই। সেলিব্রিটি মানেই আমার আমাদের আকর্ষণের সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের সব ধরনের খবরাখবরেই আমাদের আগ্রহ আর মাতামাতি একটু বেশিই থাকে।

তবুও সবশেষে স্ক্রিন আর মঞ্চের বাইরে একটা ব্যক্তিগত জীবন থাকে। তাদের সবচেয়ে দুঃসময়টাতে তাদের নিয়ে ট্রল না করি।

কেন যে জাতিস্মরের মত জন্মান্তরের নিয়ম ভেঙ্গে কয়েক জনম ভালোবাসা যায়না, কেন যে শেষ নিশ্বাসের আগ পর্যন্ত ভালোবাসায় যতটুকু ভালোবাসা থাকে তা নিয়ে কাউকে ভালোবাসা যায়না।

যে মানুষগুলো এখনো তাদের ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে একসাথে আছেন, আকড়ে ধরে রাখুন ভালোবাসা। ভেঙে দিন ছেড়ে যাওয়ার নিয়ম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।