ফেসবুক জনতার ‘হটেস্ট টপিক’ ছেড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘কুলেস্ট’ জগতে

জাতীয় লিগ দুই স্তরে হয়ে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর জন্য। প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা খুব বেড়েছে বলে মনে হয় না, উল্টো ম্যাচের সংখ্যা হয়ে যাচ্ছে কম। এবার এই মৌসুমের বিসিএলও হচ্ছে সিঙ্গেল লিগে। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ম্যাচ কমে যাচ্ছে আরও…

আপাতত ‘হট টপিক’ যদিও টি-টোয়েন্টি। তো জেনে রাখুন, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি এবার কবে হবে, ঠিক নেই। গতবার ছোট করে হয়েছিল, এবার আরও বড় পরিসরে হবে, বলা হয়েছিল। খবর নেই!

‘হটেস্ট টপিক’ অবশ্য জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি। হতাশা তো কেবল এই সিরিজের নয়, বরাবরের। আমার মনে হয়, ফ্রেশ একটা থট প্রসেস দরকার। ‘এই নেই, সেই নেই, এটার ঘাটতি, ওটার সীমাবদ্ধতা’, এসব তো হয়েছে অনেক। রসদ যা আছে, সেটির সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন ভাবনা, নতুন প্রক্রিয়া, নতুন পথ। একদম খোলনলচে পাল্টে ফেলতে হবে প্রয়োজনে।

জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে ক্যাম্প করে টি-টোয়েন্টি নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। একটি গ্রুপ ঠিক করে তাদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ, কোনো ফাঁক থাকবে না। প্রয়োজন হলে সেই ক্যাম্পে স্পেশালাইজড কনসালট্যান্ট আনা হোক। গভীরভাবে কাজ করতে হবে।

এটিই একমাত্র উপায়, তা অবশ্যই বলছি না। তবে কোনো উপায় বের করতেই হবে। কোনো কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছে না, নতুন কিছু করতেই হবে। কারণ, পরপর দুই বছরে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে!

এবছর বিশ্বকাপের আর ৯ মাসের মতো আছে। ততদিনে নতুন ভাবনার ফল পাওয়া যাবে কিনা, বলা কঠিন। তবে আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে যেন অন্তত ফল মেলে।

ফেসবুক জনতার ‘হটেস্ট টপিক’ ছেড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘কুলেস্ট’ জগতে ফেরা যাক। শুরু করেছিলাম যা দিয়ে, ঘরোয়া ক্রিকেট।

ক্রিকেটের ধর্মঘটের সময় অন্যতম একটা দাবি ছিল, ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেণ্ডার করা ও ঠিক রাখা। এটা নিয়ে সেসময় বিসিবি কর্তারা বলেছেন, পরেও আমাদের প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন, ‘ক্যালেন্ডার তো হয়ই। ক্যালেণ্ডার না হলে খেলা কিভাবে হয়…’ ইত্যাদি ইত্যাদি। ক্যালেণ্ডার কেমন হয়, সেটির নমুনা প্রতিবার দেখা যায়, এবারও দেখা যাচ্ছে।

গত ২৩ জানুয়ারি জানানো হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি থেকে বিসিএল শুরু হবে। তাড়াহুড়ো করে আজকে প্লেয়ার্স ড্রাফট হয়েছে। মানে, ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্টের ৩ দিন আগে জানতে পারলেন, কে কোন দলে। পরশু আর তার পরের দিন, মাত্র ২ দিন প্র্যাকটিস করে টুর্নামেন্টে খেলবেন তারা। দলগুলি কিভাবে গোছাবে, ক্রিকেটারদের শারীরিক-মানসিক প্রস্তুতি কেমন হবে?

জাতীয় লিগে ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে, এজন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই লিগ চালু করা হয়েছিল। সেটার অবস্থাও তথৈবচ। এভাবে স্রেফ করার জন্য আয়োজন করে, দায়সারা টুর্নামেন্ট করে কি লাভ?

একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট, অথচ টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই একটি দলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল না। বিসিবি নিজেই পরিচালনা করেছে উত্তরাঞ্চল দলটি। ৮ বছর ধরে বিসিবি, তাদের মার্কেটিং বিভাগ একটা দলের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি আনতে পারেনি। বাংলাদেশে ক্রিকেট এমনিতেই আকর্ষণীয় পণ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পন্সরদের আকৃষ্ট করার জন্য স্রেফ একটি সাজিয়ে-গুছিয়ে পণ্যটিকে উপস্থাপন করতে হবে। স্পন্সর না আসার কারণ নেই। বিসিবি সেটুকুও পারে না। উল্টো, পুরোনো একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রাইম ব্যাংক এবার সরে গেছে। তাদেরকে দায় দেওয়ার বিন্দুমাত্র উপায় নেই। বিসিবি টুর্নামেন্টকে এমন কিছু করে তুলতে পারেনি, যেটায় এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকতে উৎসাহী হবে।

এখন দেখুন, একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। অথচ চার দলের মধ্যে কেবল দুটির ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, দুটি বিসিবি চালাবে। এটা কেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ?

সেই ৭ বছর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে একটা ম্যাচ হয়েছিল গোলাপী বলে। ভারত সফরে হুট করেই গোলাপী বলে খেলতে রাজী হয়ে গেল বাংলাদেশ, সামনেও খেলতে হবে। তার কোনো প্রস্তুতি আছে? ঘরোয়া ক্রিকেটে কিছু ম্যাচ গোলাপী বলে করা যায় না? কোনো পরিকল্পনা আছে? ছিল? এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে, বিসিএলের ফাইনাল গোলাপী বলে করার। এখনও তা আশ্বার্সের পর্যায়েই আছে।

এসব নিয়ে প্রশ্ন করব? বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান আজকে মিডিয়ার মুখোমুখিই হতে রাজি হলেন না।

প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি গতবার বিসিবি বেশ ভালো উদ্যোগ ছিল। আমরা প্রশংসা করেছিলাম। বিপিএল থেকে ক্রিকেটার বের করে আনা সম্ভব নয়। ৪ জন বিদেশি খেলে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও নবীনদের সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকি নেয় না। সেটা স্বাভাবিকই। এজন্য আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট লাগবেই। কথা ছিল, এবার গতবারের চেয়ে বড় পরিসরে প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি হবে। এখন আদৌ হয় কিনা, কে জানে!

প্রিমিয়ার লিগের ৫০ ওভারের আসরের দল গোছানো দলছে। টুর্নামেন্ট শুরুর সম্ভাব্য সময় আছে, মুখে মুখে। সুনির্দিষ্ট তারিখ নেই। অথচ ক্যালেণ্ডার নাকি করা হয়।

লিখতে চাইলে, এভাবে লেজ লম্বা হতেই থাকবে। সবচেয়ে হতাশার, এই বোর্ড ৭ বছর ধরে দায়িত্বে আছে। ৭ বছর! কত কিছু করা যেত, পেশাদারীত্বে মুড়িয়ে ফেলা যেত দেশের ক্রিকেটকে। অথচ এত বছর পরও, পেশাদারীত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।