সিরিয়া: রাশিয়া-আমেরিকার ‘যেমন ইচ্ছা তেমন খেলার মাঠ’

সিরিয়াতে এখন আপনারা যা দেখছেন, এর চাইতে অনেক ভয়ংকর এবং বীভৎস ঘটনা এই সিরিয়াতেই ঘটে গেছে; কিন্তু সেটা আমাদের দেখানো কিংবা জানানো হয়নি।

পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম কিংবা মিডিয়া আমাদের যা দেখায়, আমাদের তারা যা জানাতে চায়, আমরা তাই দেখি এবং তাই জানি।

বিবিসি, সিএনএন থেকে শুরু করে তাবদ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম গুলো এখন সিরিয়াতে গণহত্যা ফলাও করে প্রচার করছে। কেন করছে সেটা জানেন তো?

কারণ, এই মুহূর্তে এই গণহত্যা চালাচ্ছে সিরিয়ার আসাদ নিয়ন্ত্রিত সরকার এবং রাশিয়ার বিমান বাহিনী। যেহেতু রাশিয়া হচ্ছে সিরিয়ায় আমেরিকা এবং পশ্চিমা মিত্র বাহিনীর বিরোধী পক্ষ, তাই আমেরিকা এবং তার মিত্র শক্তি গুলো এখন পশ্চিমা গণমাধ্যম ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীকে দেখাতে চাইছে রাশিয়া কতো অমানবিক কাজ করছে সিরিয়ায়।

আমি বলছি না, রাশিয়ান বিমান গুলো অমানবিক কাজ করছে না। অবশ্যই করছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ তারা বিনা অপরাধে মেরে ফেলছে। এটা অবশ্যই অপরাধ।

তবে সিরিয়াতে এমন গণহত্যা কেবল এখনই হচ্ছে না। আমেরিকা এবং তাদের মিত্রশক্তি গুলো সিরিয়াতে এর চাইতে অনেক বড় গণহত্যা এই কিছু দিন আগ পর্যন্তও করে বেড়িয়েছে। যার কারণে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ সিরিয়া ছেড়ে অন্য দেশে শরণার্থী হয়েছে।

কিন্তু সেই গণহত্যার খবর আমরা জানি না। সেই সময়ে আমেরিকার বিমান বাহিনীর ফেলা বোমা আমরা দেখতে পাই না, সেই সময়ে হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুকে মেরে ফেলার খবরও আমরা জানতে পারি না।

এর কারন কি জানেন তো?

আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো আমাদের সেই খবর দেয়নি। তাই আমরা জানতেও পারিনি। এখন দিচ্ছে- কারন এখন এই খবর প্রচার করার তাদের দরকার আছে। রাশিয়া যে কতো খারাপ সেটা আমেরিকা’কে পুরো পৃথিবীর কাছে দেখাতে হবে না।

আগেও বলেছি, এখনো বলি- আমেরিকা- রাশিয়ার মতো সুপার পাওয়ার গুলোর একটা খেলার ময়দানের দরকার ছিল। যেই ময়দানে তারা তাদের শক্তি দেখাতে পারবে। এই মুহূর্তে সিরিয়া হচ্ছে তাদের খেলার ময়দান। যে যার মতো করে শক্তি দেখিয়ে বেড়াচ্ছে।

আজ হয়ত সিরিয়া, কিন্তু কাল হয়ত সিরিয়া নামক দেশটাকে তাদের আর ভালো লাগবে না, তখন তারা অন্য কোন খেলার ময়দান বেছে নেবে। সেই খেলার ময়দান আমার-আপনার দেশ হবে না, এমন কোন নিশ্চয়তাও নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।