রাজপুতের রাজকীয় উত্থান: দ্য আনটোল্ড স্টোরি

তিনি কি না করেছেন? ছোট পর্দায় ছোট চরিত্র যেমন করেছেন, বড় পর্দায় বড় চরিত্রও করেছেন। হৃতিক রোশনের পেছনে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার ছিলেন যেমন, তেমনি সময়ে সেরা ড্যান্সারদের একজন বলেও খ্যাতি পেয়েছেন। তিনি দর্শকদের প্রিয় পাত্র, সমালোচকরাও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

তিনি হলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। পরিশ্রমি আর প্রতিভাবান এই অভিনেতার প্রসঙ্গ আসলে ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র কথা না বললেই নয়। এই সিনেমাটির জন্য তিনি পরিশ্রমের সব সীমাই অতিক্রম করে গেছেন।

বড় বোন রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেটার ছিলেন, ফলে সুশান্তের জন্য ক্রিকেটটা নতুন কোনো ব্যাপার নয়। এরপরও, ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়কের চরিত্রটি করতে তিনি ছয় মাসেরও বেশি সময় নিয়েছেন নিজেকে প্রস্তুত করতে। ধোনির চলন, কথা বলার ধরণ, ব্যাটিংয়ের ধরণ সব তিনি দেখেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করে ধোনি হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই সময়ে তিনি রোজ ২২৫ বার করে হেলিকপ্টার শটটা প্র্যাকটিস করতেন। সেজন্যই তো সিনেমায় অবিকল ধোনির মতই মনে হয়েছে তাঁকে। পরিশ্রমের কথা যখন আসে, তখন বলতেই হয় সুশান্তের যুদ্ধটা শুরু হয়েছে আরো আগে থেকে।

সুশান্তের জন্ম পাটনায়। চার বোনের সাথে একমাত্র ছোটভাই তিনি। বাবা ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা। যখন দ্বাদশ শ্রেণিতে ছিলেন, তখন সুশান্তের মায়ের মৃত্যু হয়। আজো, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ফলো করলে বোঝা যায় তিনি মাকে কতটা মিস করেন। মা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছিলেন তিনি।

সুশান্ত প্রথম পরিচিত হয়েছিলেন টেলিভিশন সিরিয়াল ‘পবিত্র রিশতা’র সৌজন্যে। যদিও, খুব কম লোকই জানেন যে সুশান্তের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ‘কিস দেশ মেয় হ্যায় দিল মেরা’ সিরিয়ালটি দিয়ে।

বিনোদন জগতে তিনি এর আগেও ছিলেন। তিনি হলেন জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার শামাক দাভারের শিক্ষার্থী। এই সুবাদে ছোট পর্দায় পা রাখার আগে বলিউডের অনেক গানেই তিনি ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে ছিলেন।

পড়াশোনায় বরাবরই সুশান্ত ছিলেন সবার চেয়ে এগিয়ে। স্কুল কলেজে তিনি ছিলেন তুখোড় ছাত্র। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ফিজিক্সে অলিম্পিয়াড জিতেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির জন্য ভারতে যে পরীক্ষা হয় সেখানে তিনি সপ্তম হয়েছিলেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিনি ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু চতুর্ষ বর্ষে গিয়ে সেসব ছেড়ে দেন। কারণ, তিনি যে অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন।

বড় পর্দায় নায়ক হওয়ার জন্য সুশান্তের প্রস্তুতি পর্বটাও একটু বলা দরকার। তিনি অ্যাশলে লোবো’র ট্রুপের সাথে ড্যান্সার হিসেবে বিশ্ব ঘুরেছেন। অ্যালান আমিনের কাছ থেকে মার্শাল আর্ট শিখেছেন। ‘রাজ ২’ সিনেমায় মোহিত সুরির পাশে সুশান্তই ছিলেন সহকারী পরিচালক। তিনি ছোট পর্দায় থাকার সময়ই ‘জারা নাচকে দিখা’ ও ‘ঝালাক দিখলা জা’র মত নাচের রিয়েলিটি শো-তে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

ফলে, আজকের দিনে তাঁর যে জনপ্রিয়তা, তার পেছনে আছে লম্বা সময়ের অধ্যাবসায়। শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না, সেটাকে পরিশ্রম দিয়ে বিকশিত করা জানতে হয়। শুনতে সহজ মনে হলেও এই কাজটা খুবই কঠিন, সেটাই করতে পেরেছেন সুশান্ত। তাই এখন তিনি বক্স অফিসে হিট হচ্ছেন, তেমনি ‘কাই পো চে’, ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’ কিংবা ‘কেদানাথ’-এর মত সিনেমায় সমালোচকদের মনও জয় করে চলেছেন।

স্বপ্ন যদি দেখতেই হয়, সেটা বড় দেখতে দোষ কি? সেই বড় স্বপ্নটাই দেখতে পেরেছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তাই তো বলা হয়, বলিউডেই যদি অনুপ্রেরণার গল্প খুঁজতে হয়, তাহলে এই প্রতিভাবান অভিনেতার নজীরটা মনে রাখতেই হবে।

ইন্ডিয়া.কমস্টোরিপিক অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।