করণজিৎ কউর থেকে সানি লিওন: একটি অজানা অধ্যায়

সানি লিওন – এই নামটার সাথে বোধকরি এখন আর কেউই অপরিচিত নন। আর কম বেশি সবারই এটা জানা বলিউডের এই তারকা এক কালে ছিলেন পর্ন স্টার। আর তারই জের ধরে সানিকে বলিউডের এলিট ক্লাসের অবমাননার শিকার হতে হয় প্রায়ই।

তবে কিভাবে ভারতীয় একজন নারী হয়ে উঠলেন নীল দুনিয়ার নায়িকা? – এই গল্পটা খুব কম লোকেরই জানা। আজ সেই অজানা অধ্যায়টাই জানা যাক, চলুন।

সানি লিওন নয়, গল্পটা করণজিৎ কউরের। পাঞ্জাবের মেয়ে। বাবা-মা চলে এসেছিলেন কানাডায়। ১৯৮১ সালের ১৩ মে কানাডার ওন্টারিওর সেই শিখ পরিবারে জন্ম সানির। বাবার জন্ম হয় তিব্বতে, মা’র হিমাচল প্রদেশে। ২০১০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সানির বাবা।

সানি লিওনের পড়াশোনা কানাডাতেই। মজার ব্যাপার হল ক্লাসে খুব নম্র আর লাজুক বলে পরিচিত ছিলেন তিনি।

বাবা-মার সাথে সানি

বয়স তখন ১৯ বছর। একদিন বন্ধুদের সাথে ডিভিডি এনে নীল ছবি দেখলেন। ওই সময়ে সানি একটা জার্মান বেকারিতে  চাকরি পেয়েছেন। পরে একটা ট্যাক্স অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট ফার্মে কাজ নেন।

সানির পরিবার তখন কানাডা থেকে আমেরিকার চলে যায়। সানি তখনও অরেঞ্জ কাউন্টিকে পেডিয়াট্রিক নার্সিংয়ের ওপর পড়াশোনা করছেন। নিজের খরচ নিজেরই চালাতে হয়। যা আয় করেন তা দিয়ে মোটেও পোষাচ্ছিল না।

সানির এক বান্ধবী ছিলেন বার ড্যান্সার। তাঁর সূত্র ধরে সানির সাথে পরিচয় হয় জন স্টিভেন্সের। তিনি হলেন মূলত একজন এজেন্ট। সেই এজেন্টের হাত ধরে সানির পরিচয় হয় জে অ্যালেনের সাথে। জে অ্যালেন হলেন পেন্টহাউজ ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফার।

সানি ছিল করণজিতের ডাকনাম। আর এর সাথে পেন্টহাউজের সাবেক মালিক বব গুচিওনে যোগ করেন লিওন। ব্যস, করণজিৎ হয়ে গেলেন সানি লিওন।

১৯ বছর বয়সী সানি

নীল ছবির প্রস্তাব পাওয়ার পর সানি দ্বিধাদ্বন্দে ছিলেন। অর্থকষ্টে ছিলেন বলেই অন্ধকার এই জগতে আসতে বাধ্য হন। তবে, তিনি পরিবারের অমতে কিছু করতে চাইতেন না। পরিবারও বাধ্য হয়ে রাজি হয়ে যায়। অন্ধকার জগতের ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০১ সালে।

ওই সময়ে মানসিক ভাবে এখনকার মত শক্ত ছিলেন না সানি। একেকদিন একেকজন পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে হত। ব্যাপারটা সানির কাছে কতটা মানসিক অত্যাচার আর বিভৎষ লাগতো সেসবের কথা তিনি বলেছেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। বিস্তর অর্থ রোজগার করেছেন, তবে তাতে শান্তি পাননি এক বিন্দুও।

তাঁর জীবন পাল্টে যায় ২০১১ সালে। সেবার তিনি ভারতের বিগ বসে নাম লেখান তিনি। তখনই সানের ওপর নজর পড়ে মহেশ ভাট কন্যা পূজা ভাটের। ‘জিসম ২’ ছবির জন্য সানিকে প্রস্তাব দেন পূজা। অন্ধকার জগৎ থেকে ফিরে আসার এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি সানি। আর এখন সময়ের সেরা আইটেম গার্লদের মধ্যে একজন হলেন সানি লিওন।

সানির পরিবার

২০১১ সালে সানি লিওন বিয়ে করেন ড্যানিয়েল ওয়েবারকে। তাদের জমজ ছেলে সন্তান আছে। এছাড়া ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মহারাষ্ট্রের লাথুর গ্রাম থেকে একটি ২১ মাসের মেয়েকে দত্তক নিয়েছেন এই দম্পতির।

করনজিৎ কউর কিংবা সানি লিওন এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। অন্ধকার জগত থেকে ফিরে বলিউডে সুনাম কুড়িয়েছেন, অর্থবিত্তও কম নেই। তবে, শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি যে, আগের জীবন ভুলটা আজীবনই তাঁর নামের সাথে লেগে থাকবে।

– মাসালানিউজ.কম ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।