সানি দেওল: দ্বিতীয় সারির নায়ক কিংবা অগোচরের সুপারস্টার

বলিউডে যখন ‘সুপারস্টার’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়, তখন অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, দিলীপ কুমার, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান কিংবা অক্ষয় কুমারের নামও আসে। যদিও, খুব কম সময়ই আছে সানি দেওলের নাম।

কেন? ‘পোস্টার বয়’ সিনেমার প্রমোশনের সময় এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল সানির ভাই ববি দেওলকে। চার দশক ধরে সানি দেওল ও ধর্মেন্দ্ররা বলিউড কাঁপানোর পরও কেন এই পরিবারটির প্রতি এই অবিচার? ববি জবাবে বলেছিলেন, ‘আসলে আমরা কখনোই সেই অর্থে কোনো জনসংযোগ করি না। এই যুগে নিজের বিক্রি-বাট্টা বাড়ানোর জন্য প্রচার-প্রচারণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব সময় ভেবে এসেছি আমাদের কাজই আমাদের হয়ে কখা বলবে। তবে, আজকে দিনে এটা অবাস্তব একটা ধারণা।’

সত্যিই সানি দেওল ছিলেন নব্বই দশকের সুপারস্টার। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ – এই আট বছর সময়ে তিনি তিনটি ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন – ডার, বর্ডার ও গাদ্দার। এছাড়া ব্যবসা সফল আরো ছয়টি ছবিতে কাজ করেছেন – জিত, ঘাতক, জিদ্দি, ইন্ডিয়ান, কাহার ও অর্জুন পন্ডিত।

‘ডার’ সিনেমাটিকে এখন শাহরুখ খানের কল্যানে লোকে স্মরণ করে, তবে ওই যুগে সিনেমাটির সেলিং পয়েন্ট ছিলেন সানি দেওল। কারণ, ওই যুগে কিং খানের চেয়ে অনেক বড় মাপের স্টার ছিলেন সানি দেওল।

১৯৮৩ সালে ‘বেতাব’ দিয়ে বলিউডে অভিষিক্ত সানি ২০ টি হিট সিনেমায় কাজ করেছেন, ব্যবসাসফল-অ্যাভারেজ মিলিয়ে সংখ্যাটা ৩০-এর আশেপাশে থাকবে। বড় বড় কুতুব অভিনেতাদেরও এই সাফল্য নেই।

সানি দেওলের ব্যাপারে যেকোনো লেখাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি না সেখানে ‘গাদার’ সিনেমার প্রসঙ্গ না আসে। অনিল শর্মা পরিচালিত এই ছবিটা ওই সময়ে ভারতীয় সিনেমায় সবচেয়ে আয় করা সিনেমা ছিল। হারিয়ে দিয়েছিল সালমান-মাধুরীর ‘হাম আপকে হ্যা কওন’কেও। অথচ, আমির খানের ‘লগন’-এর সাথে একই সময়ে মুক্তি পায় সিনেমাটি।

এই শতকে (২০০০-২০১৮) এই গাদার সিনেমাটিই সবচেয়ে বেশিবার দেখা হয়েছে। যেখানে ‘বাহুবলি ২’ সিনেমার টিকেট বিক্রি হয়েছে ৫.০২ কোটি, গাদারের বিক্রি হয়েছিল ৫.০৫ কোটি।

এসব পরিসংখ্যানের আড়ালে গিয়েও, সানি দেওল ছিলেন ওই সময়ে খুবই জনপ্রিয়। তিনি ছিলেন আমজনতার নায়ক। সাধারণ দর্শক ধরেই নিত, পর্দায় সানি যা বলছেন সত্যি বলছেন; যা করছেন, ঠিক করছেন। সিনেমায় তাঁর ব্যবহৃত ডায়লগগুলো লোকের মুখে মুখে ঘুরতো। আজকের দিনে সালমান খানের মুভি হলে যা হয় আর কি!

২০০৩ সাল অবধি শাহরুখ, সালমান, আমির, অক্ষয়, সুনিল শেঠি কিংবা অজয় দেবগনদের ভিড়েও সানির পায়ের নিরে মাটি শক্ত ছিল। যদিও, তিনি সেটা হারিয়ে ফেলেন মাল্টিপ্লেক্স যুগে এসে।

এমনকি সানির ব্যর্থ সিনেমা ফার্জ, চ্যাম্পিয়ন, হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই, মা তুঝে সালাম সিনেমাগুলো বক্স অফিসে প্রথম দিনের শুরুটা ভাল করেছিল। কিন্তু, টিকতে পারেনি লম্বা দৌঁড়ে। কিছু তথ্য জানলে রীতিমত চমকে উঠবেন। যেমন ২০০৩ সালের সিনেমা ‘হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’ প্রথম দিন আয় করেছিল ২.২৫ কোটি রুপি। সেখানে ‘কাল হো না হো’ ও ‘দেবদাস’-এর মত হিট সিনেমার প্রথম দিনে বক্স অফিস কালেকশন ছিল যথাক্রমে ২.১৮ ও ২.১০ কোটি রুপি।

আবার ২০০২ সালের ‘মা তুঝে সালাম’-এর প্রথম দিনে বক্স অফিস কালেকশন ছিল ১.৭৫ কোটি রুপি। সেখানে একই বছরের সফল ছবি শাহরুখ-রানীর ‘চালতে চালতে’র প্রথম দিনে আয় ছিল ১.৫৫ কোটি রুপি।

এখানে শাহরুখ খানের সাথে সানির তুলনার অর্থ হল, শাহরুখ ছিলেন ওই সময়ের সেরা তারকা। তবে, ওই বাজারেও সানির যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কিন্তু, কনটেন্টে এগিয়ে থাকার কারণে লম্বা দৌঁড়ে টিকে যায় শাহরুখের সিনেমা। আর পথ হারায় সানি দেওলের সিনেমা।

সানি দেওলের অ্যাকশন সিনেমার প্রতি ভক্ত-দর্শকদের আগ্রহ আজো টিকে আছে। অ্যাকশন সিনেমায় সানি দেওল থাকার অর্থই হল, প্রথমদিনে সিনেমা বাজিমাৎ করা। এই যেমন কয়েক বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘ঘায়েল ওয়ান্স এগেইন’ সিনেমাটির প্রথম দিনে বক্স অফিস কালেকশন ছিল সাত কোটি রুপি।

এই অংকটা অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন এমনকি নতুন প্রজন্মের বরুণ ধাওয়ান, রণবীর সিংদের জন্যও ঈর্ষণীয়। হোক বয়স ৬০, সাধারণ মানুষের কাছে আজো সানি দেওল মানেই অ্যাকশন সুপারস্টার!

– কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।