সব গানেই হিট যার কণ্ঠ!

সেটা ১৯৯৯ সালের কথা। উর্মিলা ও আফতাবের ‘মাস্ত’ সিনেমা তখন বেশ আলোচিত। তার চেয়েও আলোচিত হল একটি গান – ‘রুকি রুকি সি জিন্দেগি’। অচেনা একটা কণ্ঠ এসে বাজিমাৎ করলো বলিউডে।

সেই কণ্ঠটি সুনিধি চৌহানের। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে ইন্ড্রাস্টিতে কাজ করলেও সেবারই প্রথম আলোচনার ঝড় তোলেন সুনিধি। দিল্লীর এই গায়িকা সেই গানটা দিয়ে সেবার এক ঝাঁক পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। সেটাই শুরু। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট গানের মাধ্যমে বলিউডে স্থায়ী ভাবে ঠাঁই করে নেন তিনি। পরবর্তীতে ধুম মাচালে, ক্রেজি কিয়ারে, শিলা কি জাওয়ানিসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়েছেন তিনি।

অনেকের ধারনা, সুনিধির কণ্ঠ শুধুই আইটেম গানের জন্য। আসলে সুনিধির কণ্ঠ যেকোনো ধারারা সাথে খুব দারুণ ভাবে মানিয়ে যায়। তিনি খুব ভার্সেটাইল একজন গায়িকা। সব ধরনের গানেই সুনিধি হিট।

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির আধুনিক সঙ্গীতকে একধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনিধির অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। একটা গানে শুধু কণ্ঠ দিয়ে কত রকমের নতুনত্ব আনা যায় সেটা সুনিধির সৌজন্যে দেখা গেছে।

সুনিধি চৌহানের গানে ঠোট মিলিয়েছেন বলিউডের প্রায় সব মহারথী অভিনেত্রীরা। রেখা, শ্রীদেবী, মাধুরী থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের আলিয়া ভাট সবার জন্যই গান গেয়েছেন সুনিধি।  শুধু বলিউডে নয়, রীতিমত ঢাকার বাংলা সিনেমাতেও কাজ করেছেন সুনিধি।

সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা। আরেফিন রুমির সঙ্গীত আয়োজনে ‘তাঁরকাটা’ সিনেমায় ‘বন্ধন’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দেন দিনি। এই গানে অভিনয় করেন মৌসুমী ও আরেফিন শুভ।

১৯৮৩ সালের ১৪ আগস্ট দিল্লীর এক রাজপুত পরিবারে জন্ম হয় দারুণ প্রতিভাবান এই শিল্পীর। ক্যারিয়ারেও রাজপুতদের মত তাঁর যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখা যায়। গানের তালিম নেওয়া শুরু করেন মাত্র চার বছর বয়সে। ‘শাস্ত্র’ ছবি দিয়ে যখন প্লে-ব্যাকে নিজের অভিষেক করেন, তখন বয়স মোটে ১৩!

গানের জন্য নিজের পড়াশোনাটাই বিসর্জন দিয়েছেন। টেন্থ স্ট্রান্ডার্ডের পর আর পড়াশোনা এগোয়নি, গানের ভূবনে মনোযোগ দিতে গিয়ে। ভারতের ইতিহাসে সঙ্গীত বিষয়ক প্রথম যে রিয়েলিটি শো হয়েছিল তাতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এই সুনিধিই। ভারতের জাতীয় সম্প্রচারযন্ত্র দূরদর্শনে প্রচারিত সেই অনুষ্ঠানটির নাম ছিল ‘মেরি আওয়াজ সুনো’।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় ৩৫০ টির ওপর গান গেয়ে ফেলেন। আর এখন সেই সংখ্যাটা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।