শিক্ষক কেন ঘুষের রাস্তায় হাঁটবেন!

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। তার আত্মহত্যার কারণ হচ্ছে- তিনি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করেছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তিনি হতে পারেননি!

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা এই শিক্ষক পড়াশোনা শেষ করে কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শিক্ষক হবার জন্য।

ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হওয়া এই শিক্ষক লেকচারার পদে আবেদন করার পর তাকে জানানো হয়- ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি সেই টাকা জোগাড়ও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ইন্টার্ভিউ দেয়ার পর তিনি জানতে পারেন অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে না পেরে শেষমেশ তিনি আত্মহত্যা করেছেন দিন দুয়েক আগে!

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে তিনি আসলে ছাত্র-ছাত্রীদের কি শিক্ষা দিতেন?

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কোথায় এই নিয়ে প্রতিবাদ করার কথা, মানুষকে সচেতন করার কথা; সেখানে তিনি নিজেই উল্টো টাকা দিয়ে শিক্ষক হতে যাচ্ছিলেন!

বলা হচ্ছে তিনি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ছিলেন, তারই তো শিক্ষক হবার কথা ছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে -ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট তিনি হয়েছেন কি করে? তার শিক্ষকরাই তো তাকে বিচার বিবেচনা করে ফার্স্ট বানিয়েছে! তো ওই শিক্ষকরা শিক্ষক হয়েছেন কিভাবে? নিশ্চয় এই শিক্ষক যেভাবে শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই!

তো যেই শিক্ষক ১৫ লাখ টাকা দিয়ে শিক্ষক হবেন, তিনি ভবিষ্যতে এই টাকা কিভাবে তুলবেন? তার বেতন আসলে কতো? কেন তিনি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে শিক্ষক হতে চাইছিলেন?

নিশ্চয় ভবিষ্যতে বড় বড় পদ বাগিয়ে নেবেন, রাজনীতি করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। যার কোনটার সঙ্গেই কিন্তু শিক্ষকতা যায় না! অথচ তিনি কিন্তু শিক্ষকই হতে যাচ্ছিলেন!

আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হতে পারলে আত্মহত্যা করতে হবে কেন? আপনি যদি সত্যি’ই ভালো ছাত্র হয়ে থাকেন, আপনি যদি সত্যি’ই নিজ যোগ্যতায় ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে থাকেন; তাহলে তো জগতের সমুদয় সকল জায়গায় চাকরী আপনার জন্য খোলা থাকার কথা! আপনাকে আত্মহত্যা করতে হলো কেন? নাকি এই আত্মবিশ্বাস’টুকুও ছিল না? তাহলে আপনি শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের কি শিক্ষা দিবেন?

এই অবস্থা কেবল এই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে না; দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতে কম-বেশি এমন’ই! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যাদের আমরা জ্ঞানী-গুণী মানুষ হিসেবে জানি; এরা আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এখন আর কেউ পড়াশোনা করে না, করতে চায়ও না! কারণ সবাই জানে- পড়াশোনা না করেও শিক্ষকদের বাজার করে দিয়ে, পিছে পিছে ঘুরে, রাজনীতি করে কিংবা টাকা দিয়ে পাশ করে ফেলা যায়, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও হয়ে যাওয়া যায়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।