হলিউডি ছবির যত হাস্যকর ও ‘ক্ষমার অযোগ্য’ ভুল!

সিনেমা মানেই বিশাল একটা কর্মযজ্ঞ। শতাধিক, কখনো হাজারের অধিক মানুষ কাজ করেন একেকটি সিনেমার পেছনে। অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা, অনেক সম্পাদনা ও পর্যবেক্ষণের পরই মুক্তি পায় একেকটি সিনেমা। তারপরও কথায় আছে না, মানুষ মাত্রই ভুল। তাই ছোট খাটো কিন্তু হাস্যকর ভুল থেকেই যায়। এমনকি এমন অসংখ্য ভুল দেখা গেছে হলিউডের মত নিখুঁত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও।

  • পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিরিজ

জ্যাক স্প্যারোর ভূমিকায় কাজ করা জনি ডেপের টুপির নিচে একবার অ্যাডিড্যাসের লোগো সম্বলিত ট্যাগ দেখা গিয়েছিল। নি:সন্দেহে এটা বড় ভুলই বটে।

এমনকি জাহাজের মধ্যে এক দৃশ্যের কোনো সাদা টি-শার্ট আর কাউবয় হ্যাট পরিহিত একজনকে দেখা যায়। নিশ্চয়ই প্রোডাকশনের কেউ হবেন।

পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ড ছবিতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে সমুদ্র যাত্রা দেখানো হয়। যদিও, সিনেমাটি যে সময়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সেই শতকে তো বটেই, তার পরের শতকেও ব্রিটিশরা সিঙ্গাপুরের খোঁজ পাননি।

  • দ্য মামি

টম ক্রুজের ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির গোড়াতেই ছিল ভুল। প্রাচীন মিশরে কোনো নারী ফারাও-এর পদে বসতে পারতেন না। বরং, তিনি উত্তরাধিকার হলেও পরিবারের অন্য কোনো পুরুষকেই ফারাও বলে বিবেচনা করা হত।

  • দ্য গ্ল্যাডিয়েটর

প্রাচীন রোমের কাহিনী নিয়ে ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া রিডলি স্কটের সিনেমায় রাসেল ক্রো’র চরিত্রটিকে ‘দ্য স্প্যানিয়ার্ড’ হিসেবে দেখানো হয়। যদিও, ১৪০০ শতকের আগে এই শব্দটা একেবারেই পরিচিত ছিল না। যদিও সিনেমাটি ১২০০ শতকের একটা গল্প অবলম্বনে নির্মিত।

একই ছবির আরেকটি দৃশ্যে ঘোড়ার চালিত গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করতে দেখা যায়! ১২০০ শতকে কি গ্যাস সিল্ডিারের প্রচলন ছিল? কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারই বা কেন দরকার পরবে?

  • গন উইদ দ্য উইন্ড

চার ঘণ্টার এই ক্লাসিক ছবিতে দেখা যায় একটা ল্যাম্প একটা বৈদ্যতিক তারের সাথে সংযুক্ত। যদিও আমেরিকান গৃহযুদ্ধের জমানায় বৈদ্যতিক ল্যাম্পের কোনো নিদর্শন পাওয়া যায়নি।

  • দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশন

যে পোস্টারের নিচে সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে কাজ করা টিম রবিন্স জেলখানায় তার ঘরের একটি পোস্টারের নিচে দিনের পর দিন গর্ত করে পালানোর পথ বের করে। পোস্টারটি ছিল ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়ান মিলিন ইয়ার্স বিসি সিনেমার র‌্যাকুয়েল ওয়েলচের। যদিও, দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশনের গল্প শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে।

  • দ্য শিন্ডলার’স লিস্ট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটিতে প্লাস্টিকের স্ট্যাম্প প্যাড ব্যবহার করতে দেখা যায়। যদিও, ওই যুগে এর প্রচলন ছিল না।

  • কাস্ট অ্যাওয়ে

কাস্ট অ্যাওয়ে সিনেমায় শক্তিমান অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস সমুদ্রে ভেসে আসা একটা ফেডএক্সের বাক্স খুঁজে পান। যদিও, ফেডএক্স কখনো ‘ওয়াটারপ্রুফ’-এর নিশ্চয়তা দেয় না, তারপরও সাগরের পানি বাক্সের ভেতরে থাকা সামগ্রীর কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। পর্দায় কি না সম্ভব!

  • রেইডার্স অব দ্য লস্ট আর্ক

জিন্স ও টিশার্ট পরা একজন এক্সট্রা শিল্পী – তাও আবার ১৯৩০ সালের গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায়। এমন ভুতুড়ে ঘটনা ঘটে রেইডার্স অব দ্য লস্ট আর্ক সিনেমায়।

  • থ্রি হানড্রেড

যুদ্ধের সিনেমা থ্রি হানড্রেড। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৭৯ সালের এক যোদ্ধা স্রেফ বোমার সাহায্যে একা লড়ে যাচ্ছেন। নি:সন্দেহে রোমহর্ষক। কিন্তু, মজার ব্যাপার হল ওই সময় তো বটেই এর হাজার বছর পরও বোমা আবিষ্কৃত হয়নি।

  • পাল্প ফিকশন

গোলাগুলি শুরুই হয়নি, অথচ দেয়ালে আছে বন্দুকের দাগ। পাল্প ফিকশনে এমনই দেখানো হয় একটি অ্যাপার্টমেন্ট।

  • জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড

কোয়েন্টিন টারান্টিনো রচিত ও পরিচালিত ২০১২ সালের ছবিটা ১৮৬০-এর সময়কার আমেরিকান প্রেক্ষাপটে নির্মিত। সিনেমায় সব সময় চোখে সানগ্লাস দিয়ে থাকেন জ্যাঙ্গো। মজার ব্যাপার হল, ১৯২৯ সালের আমে আমেরিকায় সানগ্লাসের প্রচলনও হয়নো। বোঝাই যাচ্ছে, স্বয়ং টারান্টিনোও নিজের গবেষণায় গোলমাল করে ফেলেছিলেন।

  • ওসান’স ইলেভেন

ওসান’স ইলেভেন ছবিতে ব্র্যাট পিট একাধারে ধূর্ত ও ভোজনরসিক ছিলেন। সব সময়ই এটা-ওটা খাওয়ার মধ্যে থাকতেন। সেজন্যই কি না একই দৃশ্যেই তাকে প্রথমে ওয়াইন গ্লাস, ও পরে খাবারের প্লেট হাতে দেখা যায়।

– মাই ডেইলি ম্যাগাজিন ও স্কুপহুপ অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।