স্ট্রাইক রোটেশন: বিশ্বকাপের এক্স ফ্যাক্টর

এবারের বিশ্বকাপে রানের বন্যা হবে, চার-পাঁচশ রানও হয়ে যেতে পারে – এমন একটা ধারণা বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বেশ শক্ত ভাবে মনে গেঁথে গিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বদলে যাওয়া খুনে ব্যাটিং, ইংলিশ সামারে বলের পড়তি সুইং কিংবা এক্সট্রা বাউন্সের কমতি, ইংল্যান্ডের মাঠগুলোর দ্রুত আউটফিল্ড, সর্বোপরি বাণিজ্যিক ক্রিকেটের এই যুগে দর্শকদের রান দেখতে চাওয়া বা বেশি রান দেখিয়ে মাঠে আনার কৌশল, এই কী-ফ্যাক্টস গুলোর কারণে ভাবা হয়েছিলো রানবন্যায় ভাসবে এই বিশ্বকাপ।

কিন্তু না, এভাবে একপেশে বিশ্বকাপ আসলে কর্তৃপক্ষই হয়তো চায়নি, আমরা বিশ্বকাপের এই স্টেজে এসে যেটা দেখছি, পিচগুলোতে প্রথম কয়েকটা ওভার পেস বোলাররা কিছু পেলেও পরে স্পিনাররাও সহায়তা পাচ্ছেন, যেটা কয়েক বছর আগেও ইংলিশ কন্ডিশনে চিন্তাই করা যেতোনা। তার উপর টানা কয়েকটা ম্যাচ খেলার কারণে পিচগুলোও মন্থর হয়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় আপনি চাইলেও সমানে বাউন্ডারি কিংবা ওভার বাউন্ডারি খেলে যেতে পারবেন না। দরকার স্কিলের সর্বোচ্চ প্রদর্শনী, ইংল্যান্ডের বড় মাঠে যারা সিঙ্গেলস ও ডাবলস করে নিতে পারছে বেশি, তারাই হয়ে যাচ্ছে প্রচুর ইফেক্টিভ। মানে নিয়মিত এখানে আপনাকে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলতে হবে।

সর্বোচ্চ রানের তালিকায় থাকা ব্যাটসম্যানদের বাউন্ডারির পরিমান কত কম সেটা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। এক অ্যারন ফিঞ্চ ছাড়া অন্য কেউ তার রানের পঞ্চাশ ভাগেরই বেশি নিয়েছেন দৌড়ে অর্থাৎ সিঙ্গেলস-ডাবলসে।

আর সেই হিসেবে যদি পিচে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকা ব্যাটসম্যানদের তালিকা করেন, তাহলে খুঁজে পাবেন আমাদের সাকিব আল হাসানকে। কিভাবে একটা ব্যাটসম্যান বাউন্ডারি পার্সেন্টেজকে ৪৫ এর নিচে রেখে, ডট বল পার্সেন্টেজও ৪৫ এ ধরে রেখে ৯৯.১৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে টুর্নামেন্টের এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলো?

এখানেই চলে আসে ফিটনেসের কথা, আপনি ট্যালেন্ট হতে পারেন, আপনার রিফ্লেক্স কিংবা হ্যান্ড-আই কো-অর্ডিনেশন খুব ভালো হতে পারে কিংবা আপনার মাইন্ডসেট দুর্দান্ত হতে পারে তবে, আপনার ফিটনেস যদি এসবের পক্ষে কথা না বলে তাহলে আপনার দৌড় একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত, আপনি নিজেকে নিজে কখনোই ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না।

গত মাসখানেক সাকিব আল হাসান নিজেকে যেভাবে ফিট করেছে, বিশ্বকাপকে টার্গেট করে যেভাবে আত্মনিবেদন করেছে, সেটাই তাঁকে এত লম্বা টুর্নামেন্টে এখনো শীর্ষে রেখেছে। একই সাথে আমাদের আরেক সুপার ফিট ব্যাটসম্যান মুশফিকও এই বিজিয়েস্ট দের তালিকায় তিন নম্বরে আছে।

এরকম ইমপ্যাক্ট দুইজন খেলোয়াড় পেয়েও আমাদেরকে সেমিফাইনালে উঠতে পারা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে, আফসোস! ইশ বোলিং ইউনিটা যদি আরেকটু বৈচিত্র্যপূর্ণ কিংবা স্ট্রং হতো!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।
মাহবুব এলাহী

মাহবুব এলাহী

ভালবাসি ক্রিকেট। ভালবাসি বাংলাদেশ।