স্ট্রাইক রোটেশন ও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট: একটি কেস স্টাডি

বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুইটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে – বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রোটেশানে অদক্ষতা এবং জাতীয় দলে মানসম্মত পেস বোলারের ঘাটতি। একারনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচ পর্যালোচনা করে চেষ্টা করেছি কিছু কারণ অনুসন্ধানের।

এই লেখাটি মূলত একটি গাণিতিক বিশ্লেষণ। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক ম্যাচ মাঠে বসে দেখা হলেও এই ম্যাচটি দেখা হয়নি। শুধুমাত্র স্কোর কার্ড বিবেচনা করে কোনও ক্রিকেট ম্যাচ বিশ্লেষণ করা অনেকটাই দুঃসাধ্য, তথাপি এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু মৌলিক সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদি আমার বিশ্লেষণে ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি। যেকোনো মতামত এবং পরামর্শকে স্বাগত জানাই।

কেস স্টাডি

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব বনাম প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব,

সুপার লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ

তারিখ: ২১ এপ্রিল, ২০১৯

ভেনু: বিকেএসপি চার নং মাঠ, সাভার   

টসে জিতে প্রাইম দোলেশ্বর অধিনায়ক ফরহাদ রেজা আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। শেখ জামাল ধানমণ্ডির অধিনায়কত্ব করেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। দুই দলে এক জন করে ক্রিকেটারের অভিষেক ঘটে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে, তারা হলেন যথাক্রমে আসলাম হোসেন এবং রেজাউর রহমান রেজা।

  • ব্যাটিং

দুই দলের ব্যাটিং লক্ষ্য করলে দুইটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়- মাত্রাতিরিক্ত ডট বল এবং বাউন্ডারির আধিক্য। প্রথমে শেখ জামাল ক্লাবের ব্যাটিং কার্ড লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন তানভীর হায়দার ৬৯ (৬৩)। ৬৯ রানের এই ইনিংসে তিনি বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি থেকে সংগ্রহ করেছেন ৩২ রান, বাকি ৫৫ বল থেকে করেছেন ৩৭ রান, যেখানে কমপক্ষে ১৮ টি ডট বল খেলেছেন তিনি।

এছাড়া নাসির হোসেন, নুরুল হাসান এবং জিয়াউর রহমানের মত জাতীয় ক্রিকেটার থাকলেও শেখ জামাল ক্লাবের অন্যান্যদের রান সংখ্যা এবং স্ট্রাইকরেট সুবিধার নয়। অন্যদিকে রান তারা করতে নেমে ১১৬ বলে ১৪৮ রানের একটি অপরাজিত ঝরো ইনিংস খেলেন সম্ভাবনাময় ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান। ১০ টি চার এবং ১১ টি ছয়ে তিনি বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি থেকে সংগ্রহ করেছেন ১০৬ রান।

বাকি ৪২ রান করতে তিনি বল খেলেন ৯৫ টি, যেখানে কমপক্ষে ৫৩ টি ডট বল খেলেছেন তিনি। এছাড়া ফরহাদ হোসেন করেছেন ৭৮(৮০) রান যেখানে তিনি চার ও ছয় হাঁকিয়েছেন ১০টি। তিনিও কমপক্ষে ৩৫ টি ডট বল খেলেছেন।

  • বোলিং

উভয় দলই একাধিক বামহাতি স্পিনার খেলিয়েছে। শেখ জামাল ক্লাবের বামহাতি স্পিনারদের মধ্যে রয়েছে ইলিয়াস সানি, শাহবাজ চৌহান এবং তাইজুল ইসলাম, আর প্রাইম দোলেশ্বর ক্লাবের রয়েছে তাইবুর রহমান এবং এনামুল হক জুনিয়র। এছাড়াও এখাধিক অফ স্পিনার এবং একজন রিষ্ট স্পিনার রয়েছেন।

দুই দল মিলিয়ে ফাস্ট এবং মিডিয়াম ফাস্ট বোলার খেলেছেন ৪ জন, যেখানে প্রকৃত ফাস্ট বোলার শুধুমাত্র খালেদ আহমেদ। হয়তোবা পিচ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। একটি ইতিবাচক দিক হল কোনও বোলার নো বল করেননি, যদিও প্রাইম দোলেশ্বর ক্লাবের বোলাররা মাতারাতিরিক্ত ওয়াইড বল করেছেন। ১৩ উইকেটের মধ্যে ৬ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা, ৩ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ফরহাদ রেজা এবং তাইবুর রহমান।

  • অনুসিদ্ধান্ত

কেন অনেক প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করেননি – তার একটি উদাহরণ এই ম্যাচ। মাত্রাতিরিক্ত ডট বল খেলার শুরু আরও আগে থেকেই হয়, সেই আলোচনা অন্য একদিন হবে। পাশাপাশি কেন ভালো মানের ফাস্ট বোলার উঠে আসছে না – তাও এই কেস স্টাডি থেকে বোঝা যায়। দু’দল মিলিয়ে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একজন গতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার এবং তিনজন  মিডিয়াম ফাস্ট বোলার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।