পেশাদার ক্রিকেটার এখন পুরোদস্তর গায়ক!

তারকা অভিনেতা অক্ষয় কুমারের হিট মুভি ‘এয়ারলিফট’ অনেকেই দেখেছি, মুভিটা যেমন সারা ফেলেছে, গানগুলোও তেমনই ভালো ছিল। এর মধ্যে একটি গান, ‘সোচ’ শ্রোতাদের মাঝে ক্রেজ তুলে ফেলেছিল।

সেই গানের গায়ক ছিলেন হার্দি সন্ধু। এসময়ের একজন উদীয়মান প্লেব্যাক সিঙ্গার। সোচের পর ব্যাকবোন, বর্ন ব্লো, জোকারের পর একের পর এক হিট হট গান উপহার দিয়ে গেছেন এই গায়ক। তাই তাকে বর্তমানে পাঞ্জাবের সেরা গায়ক বললে খুব একটা বেমানান হবে না।

এই পাঞ্জাবি প্লেব্যাক সিঙ্গারের ক্যারিয়ারের প্রথমাংশ সংগীত দিয়ে নয়, ক্রিকেট দিয়ে শুরু হয়েছিল। যেনতেন ভাবে নয়, রীতিমত প্রফেশনাল ক্রিকেটার হিসেবেই।

আরো বড় মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাঁর গানের জগতে আসারই ইচ্ছা ছিল না! তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিল ক্রিকেটই।

তাঁর পুরো নাম হরভিন্দ সিং সন্ধু। খেলেছেন চেতেশ্বর পূজারা, শিখর ধাওয়ানের মত বর্তমান ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে।

তাঁরও স্বপ্ন ছিল ভারতের জার্সি গায়ে চাপানোর, কিন্তু ২০০৬থেকে ভুগতে থাকা ইনজুরি সে সুযোগটি দেয়নি।  গলার স্বর ছিল মোলায়েম, গানের চর্চা ছিল মোটামুটি আর ছিল গানের প্রতি ভালবাসা।

এদের সঙ্গী করে ঢুকে পড়েন গানের জগতে।  তিনি বলছিলেন নিজের কথা, ‘আমি ১০বছর ধরে ক্রিকেট খেলেছি, অনুর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে খেলেছি, শিখর ধাওয়ান ছিল আমার রুমমেট, এরপর পূজারার সাথেও খেলেছিলাম। দেখছিলাম একসাথে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালের কনুইতে ইনজুরি আমাকে আমার পথ থেকে ছিটকে দেয়। আমি ছিলাম ফাস্ট বোলার। আমি কিছুতেই ফিরতে পারছিলাম না। ডানহাতে তখনো ব্যথা থাকায় পুরোটা ছন্দ কখনোই পেতাম না। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যখন শুরু হলো, আমার জুনিয়ররা চান্স পেয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু আমার কোথাও ঠাই হচ্ছিল না। আমার মনের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তারপর চিন্তা করলাম, অস্ট্রেলিয়া যাব, ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্টদের দেখাব, ট্রিটমেন্ট করিয়ে ভারত ফিরে আরেকবার ভাগ্যপরীক্ষা করব। কিন্তু আমি সেখানে প্রায় ১১মাস ধরে নামীদামী প্রায় সবাইকে দেখানো সত্ত্বেও কোন লাভ হলো না। আমার হাতে টাকা কমে এলো, আমি সেখানে ট্যাক্সি চালিয়ে উপার্জন করেছি। দুঃসময় যেন পিছুই ছাড়ছিল না।’

শোনালেন মিউজিক্যাল ওয়ার্ল্ডে প্রবেশের গল্প, ‘আমি গান ভালবাসতাম। ২০১০এ ফিরে এসে আবার রেওয়াজ শুরু করলাম। ২০১১পর‍্যন্ত আমি শিখতে লাগলাম, যখন ভারত বিশ্বকাপ জিতে গেল। আমি তখন বেশ বুঝে গেছি এবং মেনে নিয়েছি যে, আমার হয়তো কোনদিন ভারতের হয়ে খেলা হবেনা। আমি সঙ্গীতেই ডুবে গেলাম।’

সঙ্গীতাঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে রিলিজ হলো আমার প্রথম অ্যালবাম। ধীরেধীরে জনপ্রিয়তা পেয়ে এই পথেই রয়ে গেলাম।’

আসলে যা ঘটে ভালোর জন্যই ঘটে। সিন্ধু যদি খেলার মাঠে থাকতেন, আমরা অমন একজন গায়ককে পেতাম না! সিন্ধুও জানতে পারতেন না, তাঁর এই অপ্রকাশিত প্রতিভার কথা।

নিয়তির কাছে তিনি হারেননি, মেসেজ দিয়েছেন হতাশায় নিমজ্জিত যুবকদের, ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, জেগে ওঠো!’

তিনি মনে করিয়ে দেন আমাদের পরিচিত গানের একটি লাইন, ‘হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে!’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।