চেহারার জন্য তাঁরা বাদ পড়েছিলেন

প্রতিভার চেয়ে বাহ্যিক রূপে বলিউডের পক্ষপাতিত্ব নতুন কিছু নয়। চেহারা একটু এদিক সেদিক হলেই ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্টি বেঁকে বসে। তাদের সাফ কথা, তুমি যদি সুন্দরই না হও তাহলে এখানে খামোখা স্বপ্ন দেখো না।

যদিও, সময়ের সাথে সাথে এই আদি চিন্তায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। বলা ভাল, এমন অনেক কিংবদন্তি কিংবা সু-অভিনয় শিল্পীর আবির্ভাব ঘটেছে, যারা স্রেফ অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেদের গ্ল্যামারের ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছেন।

এই তালিকায় যারা আছেন, তাদের নাম শুনলে আপনি রীতিমত আকাশ থেকেও পড়তে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

  • অমিতাভ বচ্চন

কিংবদন্তির চেয়েও বড় কিছু তিনি। অথচ, অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের শুরুতে যারপরনাই খাটাখাটনি করতে হয়েছিল। এমনকি দেউলিয়া হয়ে যেতে হয়েছিল। রোগা আর ভারি গলার অমিতাভ বচ্চনকে নায়ক হিসেবে দেখতে রাজি ছিলেন না পরিচালক-প্রযোজকরা। তাতে, হতাশ হলেও আশা হারাননি। আক্ষরিক অর্থেই তাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে আট বছর সাধনার পর মূল চরিত্র পেয়েছেন, পেয়েছেন আকাশ ছোঁয়া সাফল্য।

  • ক্যাটরিনা কাইফ

সময়ের অন্যতম সুন্দরী, গ্ল্যামারাস বলিউড নায়িকা তিনি। তবে, সেই আকর্ষণীয় চেহারাই ক্যারিয়ারের শুরুতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিচালকদের বক্তব্য ছিল, এত বিদেশি ঘরানার অভিনেত্রীকে ভারতের দর্শক ‘খাবে’ না। যদিও, অভিনয়ে খুব পারদর্শী না হলেও এক গ্ল্যামার দিয়েই অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়ে চলেছেন ব্রিটিশ বংশদ্ভুত ক্যাটরিনা।

  • ইরফান খান

ইরফানের খ্যাতি কোথায় নেই! বলিউড, হলিউড কিংবা বাংলা সিনেমা – সব খানেই তিনি আলোচিত। বক্স অফিসে এক গাদা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন প্রতিভাবান এই অভিনয় শিল্পী। যদিও, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সিনেমার জন্য কোনো পারিশ্রমিক পেতেন না তিনি। প্রযোজকরা বলতেন, তার কাজের জন্য তাঁকে কোনো অর্থ দেওয়া নাকি অর্থহীন!

  • গোবিন্দ

নায়ক হিসেবে নাকি গোবিন্দ খুব একটা ‘পুরুষালি’ ছিলেন না। অতিরিক্ত তরুণ দেখায় – এই অজুহাতে অনেকবার ছিটকে গেছেন। যদিও, নিজের একাগ্রতা ধরে রেখে ঠিকই সাফল্য পেয়েছেন নব্বই দশকের এই হিট নায়ক।

  • ধানুশ

না আছে চেহারা, না আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন, তার ওপর গায়ের রংও ঠিক নায়ক হিসেবে মানানসই না। ক্যারিয়ারের শুরুতে অ্যাকশন সিনেমার জন্য প্রযোজকদের মুখ থেকে এমন কথা শুনতে শুনতে কান পঁচে গিয়েছিল ধানুশের। কিন্তু, সেই ধানুশই এখন দক্ষিণের সিনেমায় সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন।

  • আনুশকা শর্মা

দেখতে ভালই। তবে, চেহারার মধ্যে বাড়তি কিছু নেই। আনুশকার বিরুদ্ধে এমনটাই ছিল অভিযোগ। যদিও, আনুশকার মধ্যে আসলে কি আছে সেটা চলতি সময়ে তার সিনেমাগুলোর তালিকা দেখলেই আন্দাজ করা যায়। মজার ব্যাপার হল স্ক্রিন টেস্ট দিয়েও আনুশকা যে ছবিতে সুযোগ পাননি তার নাম হল ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’।

  • অর্জুন কাপুর

বাবা খোদ বনি কাপুর, চাচা অনিল কাপুর। অর্জুন কাপুরকে নায়ক মানবে না – এমন সাধ্য কার আছে। এমন সুযোগ পেয়েও অর্জুনের শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কারণ, তিনি ছিলেন খুবই মোটা।

  • অজয় দেবগন

কালো, রোগাটে গড়নের কারণে সিনেমায় অজয়কে নিতে চাইতেন না প্রযোজকরা। এখন তার বাড়ির সামনেই পারলে প্রযোজক-পরিচালকদের লাইন লেগে যায়।

  • নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী

তার জীবনের স্ট্রাগলের গল্পটাই রীতিমত সিনেমাকে হার মানায়। বলিউডে নিজের পায়ে দাঁড়াতে তিনি কি না করেছেন। প্রতিভা থাকার পরও স্রেফ চেহারার জন্য বার বার হতাশ হয়েছেন। এমনকি দাড়োয়ানের কাজও করেছেন, না পেরে ছোট খাটো চরিত্র করেছেন। আর এখন শাহরুখ খান, সালমানদের সাথে পাল্লা দিয়ে একই ফ্রেমে চুটিয়ে অভিনয় করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, চেহারা খারাপ মানেই পৃথিবীর শেষ নয়!

  • রণবীর সিং

চেহারায় উত্তর ভারতের ছাপ বেশি – এই যুক্তিতে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকবার প্রযোজকরা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর এখন কালজয়ী সব চরিত্র করে বেরান রণবীর সিং, বক্স অফিসে সাফল্য পান, জিতে নেন এক গাদা পুরস্কার।

  • শাহরুখ খান

টিভি থেকে সিনেমায় এসেছেন তিনি। শুরুর জীবনে যে কয়টা ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছেন, তার অধিকাংশতেই তিনি প্রযোজক-পরিচালকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। কেউ চরিত্রগুলো করতে রাজি না হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই পরিচালকরা তাকে নেন। আর সেই শাহরুখ খান এখব বলিউড বাদশাহ। টানা ২৫ বছর বলিউডে রাজত্ব করা তো আর মুখের কথা নয়।

  • কঙ্কনা সেন শর্মা

মা অপর্ণা সেনের অভিনয় গুণ তাঁর মধ্যে আসলেও আসেনি মায়ের মত চেহারা। তাই, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক সমালোচনা হজম করতে হয় তাঁকে। এরপর ভিন্ন ধারার সব চরিত্র দিয়ে প্রমাণ করেন হারিয়ে যেতে আসেননি তিনি।

বলিউডপাপা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।