দ্য স্টাইলিশ স্টার

খুব বেশি নয়, এখন অবধি মোটে ২০ টার মত সিনেমা করেছেন তিনি। সবগুলোই দক্ষিণী। তারপরও তিনি ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির বড় তারকাদের একজন। না, কোনো গালগল্প নয়, ২০১৬ সালে টলিউড তারকাদের মধ্যে আল্লু অর্জুনের নামই সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে গুগলে।

তাঁর জন্মই আসলে হয়েছিল রুপালি পর্দার জন্য। বানি’র (ডাকনাম) দাদা হলেন বিখ্যাত কমেডিয়ান আল্লু রামা লিঙ্গিয়াহ। বাবা আল্লু অরবিন্দ হলেন প্রযোজক, মা নির্মলা। এক ফফুর বিয়ে হয়েছে মেগাস্টার চিরঞ্জীবীর সাথে। ১৯৮৩ সালের আট এপ্রিল জন্ম নেওয়া আল্লু অর্জুনকে আটকে রাখার সাধ্য তাই কার!

২০০১ সালে ‘ড্যাডি’ সিনেমা দিয়ে তাঁর অভিষেক। দু’বছর বাদে ‘গঙ্গোত্রি’ সিনেমায় তিনি পান আকাশছোঁয়া সাফল্য। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যদিও, ফিল্ম ইন্ড্রাস্টিতে অনেকদিন ধরেই আছেন তিনি। ‘ভিজেতা’ সিনেমায় ১৯৮৫ সালে মাত্র দু’বছর বয়সে শিশু চরিত্রে ছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর সাথে একই ‍দৃশ্যে ছিলেন ফুফা চিরঞ্জীবী। পরের বছর ‘সয়াতি মুত্তাম’ নামের আরেকটি সিনেমা করেন তিনি।

বিপুল জনপ্রিয় হয় তার ‘আরিয়া’ সিনেমাটি। এর দ্বিতীয় কিস্তিতে তিনি নিজেকেই ছাড়িয়ে যান। ‘আরিয়া ২’ থিয়েটারে টিকে ছিল ১০০ দিন।

আল্লু অর্জুন অবশ্য সিনেমাতে আসতে চাননি। তিনি অ্যানিমেশনকেব নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন।হায়দারাবাদের একটা অ্যানিমেশন কোম্পানিতে তিনি ইন্টার্নশিপও করেছিলেন।

আল্লু অর্জুনের অবশ্য গুণের কোনো শেষ নেই। তিনি একজন চারকোল আর্টিস্ট। এর বাদে তিনি দারুণ ছবি তোলেন। একটা সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ফটোগ্রাফি তাকে মানসিক বিষাদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। একটা বয়সে তিনি কি-বোর্ড বাজানো শিখেছিলেন। যদিও সেটা করেছিলেন মেয়েদের পটানোর জন্য।

গান গাইতে জানেন। যেন তেন নয়, রীতিমত প্লেব্যাকও করেছেন তিনি। ‘সারিয়ানড়ু’ সিনেমায় আছে তাঁর নিজের গাওয়া গান। আর হ্যা, অবসরে তিনি প্রচুর বই পড়েন।

সিনেমা করার সাথে সাথে প্রচুর সিনেমা দেখেনও তিনি। তার সবচেয়ে প্রিয় সিনেমা হল ‘ইন্দ্র’। চিরঞ্জীবীর এই সিনেমাটি তিনি ১৫ বার দেখেছেন। চাইলে আবার দেখতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া একবার বলেছিল আল্লু বলিউড ছাপিয়েও ভারতের সেরা নাচিয়েদের একজন। সেটা মন্দ বলেনি। যেকোন সিনেমাতেই তাঁর নাচ দর্শকদের মুগ্ধ করে। আল্লু ছোট বেলা থেকেই নাচ পছন্দ করতেন। কিশোর বয়সেই তিনি তাঁর এই গুণ দিয়ে মুগ্ধ করতেন অনেককেই।

২০১১ সালের ছয় মার্চ হায়দারাবাদে তিনি বিয়ে করেন স্নেহা রেড্ডিকে। তাঁদের ছেলে আয়ান ও আর্হা। আল্লুর জন্ম চেন্নাইয়ে। পরে পরিবারের সাথে চলে আসেন হায়দারাবাদে। আল্লু কখনো নিজের জন্মদিন ঘটা করে পালন করেন না। দিনটি তিনি কাটান মানসিক প্রতিবন্ধীদের সাথে।

তিনি কেরালায় এতটাই জনপ্রিয় যে, অনেকে পারলে তাঁকে মাথায় নিয়ে নাচে। তাঁর প্রতিটা সিনেমাই মালায়ালামে ডাব করা হয়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিবেচনায় শীর্ষ ১০০ সেলিব্রিটির তালিকায় তিনি বরাবরই থাকেন। ২০১৪ সালে তিনি ছিলেন ৮০ তম, ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন ৪২ তম, ও ২০১৬ সালে তিনি ৫৯ তম অবস্থানে ছিলেন। তিনি নয় বার ফিল্ম ফেয়ার ও দু’বার নন্দী পুরস্কার জিতেছেন।

ফেসবুকে তাঁর অফিসিয়াল পেজে লাইক ১২ ‍মিলিয়নের ওপর। এত বেশি লাইক দক্ষিণের আর কোনো নায়কের নেই। বাংলাদেশেও আছে তাঁর অসংখ্য ভক্ত। তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা সেটা এখান থেকেই স্পষ্ট!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।