রাজামৌলি: সিনেমার রাজা

ভদ্রলোকের বয়স ৫০ ছুঁতে এখনো ৩-৪ বছর বাকি। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তিনি পান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি হলেন শংকরের পর মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, যার জীবনে কোনো ফ্লপ নেই। নামটা যখন এসএস রাজামৌলি, তখন নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, তার ব্যাপারে বলা প্রতিটা স্তুতিবাক্যের সবগুলোই অক্ষরে অক্ষরে সত্য।

জন্ম ১৯৭৩ সালের ১০ অক্টোবর, কর্ণাটকের রাইচুরে। পুরো নাম কোদুরি শ্রীসাইলা শ্রী রাজামৌলি। সংক্ষেপে পর্দায় লেখেন ‘এসএস রাজামৌলি’। আর এই নামটিই এখন তেলেগু, তথা ভারতীয় ছবির সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ডগুলোর একটি।

সিনেমা ঘেষা পরিবারেই জন্ম হয় রাজামৌলির। বাবা হলেন স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক কেভি বিজয়ানন্দ্র প্রসাদ। পরিবারের সবার কাছে রাজামৌলির নাম ‘নন্দী’। কে জানে এজন্যই হয়তো দক্ষিণী ছবির বড় খেতাব নন্দী পুরস্কারে পাঁচবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর নাম।

অবশ্য শুধু নন্দী নয়, সবরকম পুরস্কারের সাথেই রাজামৌলির দারুণ সখ্যতা। তিনি তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমটি ২০১২ সালের ‘এগা’র জন্য। এরপরের দু’টি তিনি পেয়েছেন ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাহুবলির দু’টি কিস্তির সৌজন্যে। এর বাদে চারটি ফিল্মফেয়ারও পান তিনি।

রাজামৌলির পড়াশোনা অবশ্য পৌকশল বিভাগে। ইলুরুর সিআরআর কলেজ থেকে ডিগ্রিও নেন তিনি। কিন্তু, শরীরে যে তাঁর সিনেমার রক্ত। তাই, পা বাড়ান সেদিকেই। সিনেমায় আসার আগে তেলেগু টেলিভিশনের জন্য অনুষ্ঠান বানাতেন।

সিনেমায় নির্মাতা হিসেবে তাঁর অভিষেক হয় ২০০১ সালে। প্রথম ছবি ‘স্টুডেন্ট নম্বর ওয়ান’। সেবছরই অভিষেক হওয়া জুনিয়র এনটিআরের কেন্দ্রীয় চরিত্রে এটা ছিল দ্বিতীয় ছবি। সিনেমাটা সুপারহিট হয়, সমালোচকদের কাছ থেকেও আসে ইতিবাচক সাড়া।

দুই বছরের অপেক্ষার পর আসে রাজামৌলির দ্বিতীয় ছবি – ‘সিমহাদ্রি’। ছবিটি বক্স অফিসে এতই আলোড়ন তোলে যে আর পেছনে ফিরেই তাকানোর প্রয়োজন হয়নি এই তেলেগু রাজার। এরপর থেকে তিনি যেখানেই হাত দিচ্ছে, তাই সোনা হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মত পরশপাথর দক্ষিণী ছবিতে আর আসেননি বললেই চলে।

‘বাহুবলি ২: দ্য কনক্লুশন (২০১৭)’ ছবিটি তাঁকে সিনেমারই চূড়ায় তুলে দেয়। ছবিটি প্রথম ভারতীয় ছবি হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা ব্যবসা করে। এই অভাবনীয় সাফল্য রাজামৌলিকে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে পৌঁছে দেয় বিশ্ব দুয়ারে। এর মধ্যে অভিনয়ও করেছেন। ‘বাহুবলি: দ্য বিগিনিঙ’-এ ছোট্ট একটা চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে।

দক্ষিণ ভারতের খ্যাতনামা হৈসল সাম্রাজ্যে জাকান্না বলতে একজন ভাস্কর ছিলেন। তাঁর সুবাদে হৈসল স্থাপত্যশৈলীর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বিশ্বেই। অভিনেতা রাজিব কানাকালা ও জুনিয়র এনটিআরের মতে রাজামৌলি হলেন টলিউডের জাকান্না। তাঁর সুবাদেই তেলেগু ভাষার ছবি প্রশংসা কুড়াচ্ছে বিশ্ব মঞ্চে!

বাস্তব জীবনে রাজামৌলি বিয়ে করেছেন রামাকে। স্ত্রীই এখন তাঁর ছবির কস্টিউম ডিজাইনার। এখানে স্বজনপ্রীতির মোক্ষম একটা ব্যাখ্যাও আছে রামার কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি হতে চেয়েছি বলে ও আমাকে কস্টিউম ডিজাইনার বানায়নি। বানিয়েছে, কারণ ও নিজেই আমাকে চেয়েছে। ও এমন কাউকে খুঁজছিল যে ওর মনের কথা পড়তে পারে।’

তাত্ত্বিক আলাপ বলে সিনেমা পরিচালকের ভাষায় কথা বলবে। কিন্তু, আজকালকার সিনেমায় সেটা আর হয় কোথায়। বিশেষ করে ভারতীয় স্টার কাস্টিং ছবিতে পরিচালকের সেই মূল্য থাকে খুব সামান্যই। এদের মধ্যে রাজামৌলি অনন্য। তিনি নিজেই তাঁর সিনেমার নায়ক, তিনিই সিনেমার রাজা!

– ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।