আমিরকে কাজলের ব্যাপারে ‘সতর্ক’ করেছিলেন শাহরুখ

বলিউডে সবচেয়ে বড় রোম্যান্টিক জুটি কারা? – এই প্রশ্নে অনেক তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু, সব শেষে একটা জুটিকে কম বেশি সবাই রাখবেন ওপরের দিকে। আর তাঁরা হলেন – শাহরুখ খান ও কাজল।

অথচ, সেই শাহরুখ খানই নাকি একটা সময় অমনোযোগী আর ‘খুব খারাপ’ বলে মনে করতেন কাজলকে। আর কিং খানের এই ভাবনাটা এতটাই তীব্র ছিল যে, তিনি এই ব্যাপারে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন বলিউডের আরেক খান, ‘দ্য পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত আমির খানকে।

শাহরুখ এই ব্যাপারে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমি যখন ওর (কাজল) সাথে বাজিগরে কাজ করছিলাম তখন আমির আমার কাছে ওর ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। আমির তখন ওর সাথে কাজ করতে চাচ্ছিলো। আমি আমিরকে বলেছিলাম – কাজল খুবই খারাপ, কাজে কোনো মনোযোগ নেই, তুমি ওর সাথে কাজ করতে পারবে না।’

প্রথম দেখাতে কাজলকে সত্যিই ঠিক মনে ধরেনি শাহরুখের। ভুল ভাঙা মাত্রই অবশ্য কাজলের ব্যাপারে নিজের বোধদয়টা আমিরকে জানিয়ে দেন শাহরুখ। তিনি বলেন, ‘আমি ওইদিন সন্ধাতেই নিজের ‍ভুলটা বুঝতে পারি। আমি আমিরকে ফোন দেই। ভুল ভাঙিয়ে বলি – আমি জানি না আসলে ও কি করে, কিন্তু পর্দায়ই সত্যিই ওকে অনেক জাদুকরী লাগে।’

শাহরুখকে নিয়ে কাজলের প্রথম অভিজ্ঞতাটাও সুখকর নয়। কাজল বলেন, ‘আমার মনে আছে, শাহরুখ যখন সেটে আসতো, তখনও ওর মধ্যে একটা হ্যাঙওভার কাজ করতো। আমি মারাঠিতে ওর মেকাপম্যানকে বকে দিতাম। ওর আমাকে দেখে ভাবটা এমন ছিল যে – এটা আমার কেমন কণ্ঠ। ও খুবই গম্ভীর হয়ে থাকতো, আমিই আগ বাড়িয়ে কথা বলতাম। একবার তো ও না পেরে বলেই দিল – উইল ইউ প্লিজ শাট আপ… চুপ করে থাকো। আমরা আসলে এভাবেই বন্ধু হয়ে উঠেছি।’

কাজল যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, পাশ থেকে শাহরুখ আর চুপ থাকতে পারলেন না। পাশ থেকে বলেই ফেললেন, ‘এমনকি এখনো ওকে আমার বাধ্য হয়ে চুপ থাকতে বলতে হচ্ছে।’

শাহরুখ আর কাজল এক সাথে জুটি বেঁধে ‘বাজিগর’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কাভি খুশি কাভি গম’ আর ‘দিলওয়ালে’ ছবিগুলো করেছেন। এখন অবশ্য আর কাজলের ব্যাপারে নিজের মুগ্ধতা লুকিয়ে রাখেন না শাহরুখ।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে (সুহানা) অভিনেত্রী হতে চায়। আমি চাই ও এই অভিনয়ের ব্যাপারটা শিখে ফেলুক। আমি আশা করবো এটা ও শিখবে কাজলের কাথ থেকে। আমি আসলে ঠিক বোঝাতে পারবো না, পর্দায় কাজল অন্যরকম একটা ব্যাপার।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।