কাল হো না হো: শাহরুখের রোগটা আসলে কী?

‘কাল হো না হো’ মুভিতে শাহরুখ খানের রোগটা আসলে কী ছিলো?

নেট ঘেটে দেখলাম – ‘হার্টের রোগ’। মুভিতে একবার তাঁকে বলতে শোনা যায় ‘দিল বাড়ে কমজোর’। ধরে নেয়া যায় তাঁর হার্টে রোগ ছিলো।

দৌঁড়াতে গিয়ে থেমে যাচ্ছেন, ঘেমে যাচ্ছেন। কথা বলতে যেয়ে বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারছেন না – ইত্যাদি দেখে সঠিক রোগ সম্পর্কে জানা না গেলেও এগুলো হার্টে সমস্যা ইঙ্গিত করে।

এখন কিছু প্রশ্ন করা যাক।

১. শেষ দৃশ্যে দেখা যায় শাহরুখ সিসিইউতে। তিনি ক্রিটিকালি ইল। কিন্তু কোনো মনিটরিং নেই। ইসিজি দেখা যাচ্ছেনা। অক্সিজেনের মাত্রা দেখা যাচ্ছে না। কেন?

২. শাহরুখ সিসিইউতে। স্যালাইন চলছে! শাহরুখ হাসপাতালে, তখনও স্যালাইন চলছে! একজন ‘হার্টের রোগী’, কার্ডিয়াক ফাংশন কমপ্রোমাইজড। তাকে কেন পুরো সিনেমা জুড়ে শুধু স্যালাইনই দেয়া হলো? এত লোড হার্ট সামলাবে কীভাবে?

৩. বেশিরভাগ হার্ট ডিজিজই নিরাময়যোগ্য অথবা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। শাহরুখের এমন কী হলো যে তাকে মরেই যেতে হলো! এবং মরার আগে ডাক্তার মানে সোনালী বেন্দ্রে তাঁকে সময় পর্যন্ত বেধে দিয়েছিলেন। কী অদ্ভুত!

এরিদমোজেনিক রাইট ভেন্ট্রিকুলার ডিসপ্লাসিয়া? কনজেনিটাল প্রলোংড কিউটি? ব্রুগাডা সিন্ড্রোম? উহু! ডাক্তার এভাবে সময় বেধে দিতে পারেন না! তাছাড়া উন্নত দেশ, ডি-ফিব্রিলেটর ইমপ্লান্ট করার সুযোগ তো ছিলো!

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ? ওষুধ ছিলো, ইন্টারভেনশনের অপশন ছিলো। ভালভুলার প্যাথোলোজি? কনজেনিটাল কিছু? সার্জারির অপশন ছিলো!

সবকিছুরই চিকিৎসা ছিলো। মরেই কেন যেতে হলো?

৪. লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট! শাহরুখের আইভি ক্যানুলা কোনদিকে লাগানো ছিলো? হাতে ক্যানুলা করলে ডিরেকশন থাকতে হয় কবজি থেকে কনুই-এর দিকে। যাদের একবার হলেও স্যালাইন ট্যালাইন দেয়া হয়েছে তারা সবাই বিষয়টা জানেন। কিন্তু ডাক্তারের ফোন পেয়ে শাহরুখ যখন নিজের ক্যানুলা নিজেই খুলে ফেলে তখন দেখা যায় তাঁর ক্যানুলা দেয়া ছিলো কনুই থেকে কবজির দিকে। কোন ডাক্তার বা নার্স এই ডিরেকশনে তাঁকে ক্যানুলা দিলো!

বিশ্বাস হচ্ছে না? আবারো ছবিটা দেখে নিতে পারেন।

মুভিটা ভালো। আমার দেখা ৪/৫ টা মুভির মধ্যে একটা। কিন্তু এতএত ভুল মেনে নিতে পারি না দেখলে। ‘কাল হো না হো’র রিমেক করা হোক, শাহরুখকে প্রপার ওয়েতে মারা হোক। উলটা পালটা ক্যানুলা দিয়ে স্যলাইন ঢুকিয়ে না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।