শ্রীদেবী খুন হননি তো!

ননদের ছেলে মোহিতের সাথে অন্তরা মতিওয়ালার বিয়ে। দুবাইয়ে সেই বিয়েতে না থেকেই পারেনই না শ্রীদেবী। তিনি ছিলেনও। মৃত্যুর খানিকক্ষণ আগেও তাঁর ছবি মিলেছে ইনস্টাগ্রামে। একটা ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। তাতে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না।

অথচ, সেই শ্রীদেবীই এখন অতিত। চলে গেছেন জীবন নদীর ওপারে। ভক্তরা আছেন শোকের সাগরে। কেউ কেউ তো ‘অন্য কিছুরও’ গন্ধ পাচ্ছেন। এবার তাতে যোগ হল ফরেনসিক রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, হার্ট অ্যাটাক নয়, বাথটাবের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলিউড সুপারস্টার শ্রীদেবীর।

সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফরেনসিক রিপোর্ট পরিবারকে হস্তান্তর করার পর তাই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধে উঠলো। যদিও, পুলিশ এখনো নীরব। তাদের মতে এটা স্রেফ একটা দুর্ঘটনা। তাঁদের চোখে এই মৃত্যুকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ারের হোটেলের ওয়াশরুমে ঢোকার পর যে কোনো কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এই অভিনেত্রী। সেই অবস্থাতেই তার মাথা ডুবে যায় পানিভর্তি বাথটাবে। ওই সময় সংজ্ঞাহীন থাকায় পানি থেকে মাথা তুলতে পারেননি তিনি। ফলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

এমন সন্দেহ করার কারণ হল, ওই সময় মদ্যপ ছিলেন তিনি। তাঁর শরীরের রক্তের নমুনায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে। বিতর্কের আগুনটা মোটামুটি নিভেই এসেছিল। যদিও, তাতে নতুন করে ঘিঁ ঢেলেছেন বিজেপি সাংসদ ও নেতা সুব্রমানিয়ান স্বামী। বলিউড নায়িকা শ্রীদেবীকে খুন করা হয়েছে, এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অমর সিংও এমন মন্তব্যের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। শ্রীদেবীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন সুব্রমানিয়ান স্বামী ও অমর সিং। তাঁদের দাবী, সচরাচর নাকি খুব একটা মদ্যপ হতেন না শ্রীদেবী। তাহলে সেদিন কেন তিনি এত মদ খেলেন? নাকি তাঁকে জোর করে খাইয়ে দেওয়া হয়েছে? – এই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এত ছোট বাথটাবে তিনি কি করে ডুবে গেলেন সে প্রশ্নও উঠছে কোথাও কোথাও!

সুব্রমানিয়ান স্বামী

সুব্রমানিয়ান তো এখানে অপরাধজগতের হাতও দেখতে পাচ্ছেন, ঘটনা ঘটেছে দুবাইয়ে। তাই, এমন সন্দেহ একেবারেই অমূলক নয়। আর বলিউডে যে সময় প্রতিষ্ঠা পান শ্রীদেবী তখন বলিউডের সাথে অপরাধজগতের বেশ দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল।

এই নেতা বলেন, ‘গণমাধ্যমে যা আসছে তাঁর সবকিছুকে আমার সত্যি বলে মনে হচ্ছে না। ও কখনো হার্ড ড্রিঙ্ক করে না, তাহলেও কি কিভাবে এর সাথে জড়ালো? না কি জোর করে খাওয়ানো হয়েছে? সিসিটিভিরই বা কি হল, এটা নিয়ে তো কেউ কোনো কথাই বলছে না। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটা পূর্ব-পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। আমার মন্তব্য যদি চান তাহলে আমি বলবো এটা খুন।’

নামকরা এই অভিনেত্রীর মৃত্যু বিষয়ক রহস্যটা এখানেই শেষ হচ্ছে না। সন্দেহ আছে তাঁর মৃত্যুর সময় নিয়েও। রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার দুবাইয়ের স্থানীয় রাত ১০টা বেজে এক মিনিটে মৃত্যু হয় অভিনেত্রীর। অথচ, বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ স্বামী ও পরিচালক-প্রযোজক বনি কাপুর শ্রীদেবীকে হোটেলের বাথটাবে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান। বাথটাব থেকে ওঠানোর পর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। পুলিশকে জানানো হয় আরো চার ঘণ্টা বাদে। এরও এক ঘণ্টা পর শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগেই কেন পুলিশ ডাকা হল? এর মধ্যে কোনো চিকিৎসক তাঁকে দেখেছে কি না এই প্রশ্নের জবাবেও কোনো সদোত্তর পাওয়া যায়নি!

যে বিয়েতে অংশ নিতে দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী

স্বামী বনি কাপুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে দুবাই পুলিশ। এই মুহূর্তে তাঁকে দুবাই ছেড়ে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর সাথে আছেন প্রথম ঘরের ছেলে অর্জুন কাপুর। বনি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কল লিস্ট ঘেটে দেখা হচ্ছে। এমনকি খোদ শ্রীদেবীর ফোনও চলছে ঘাটাঘাটি। বাথটাবের পানিতে তিনিই স্ত্রীকে প্রথম দেখতে পান। শ্রীবেদীর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে ‘দুবাই পাবলিক প্রসিকিউশনে’ স্থানান্তর করা হয়েছে – জানিয়েছে খোদ আরব আমিরাত সরকার।

দুবাইয়ে কর্মরত ভারতীয় দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা এবং শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরের আত্মীয় সৌরভ মালহোত্রাকে হাসপাতালের মর্গে ডেকে পাঠানো হয় সোমবার। সেখানে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ফরেনসিক দপ্তর শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। তাই, দ্বিতীয়বারের জন্য ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন নেই।

স্বামৗ ‍ও দুই কন্যার সাথে শ্রীদেবী

তাঁর মরদেহ নেয়ার জন্য ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির ১৩ আসনের ব্যক্তিগত জেট বিমান রবিবার দুবাই বিমানবন্দরে পৌছেছে। মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ পৌঁছেছে মুম্বাইয়ে।

এদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হতে পারে এমন কারণ দেখিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শ্রীদেবীর বাবা-মা। কোনো কিছু গোপন করতে চাইছেন না তো তাঁরা?

-টাইমস অব ইন্ডিয়া, নিউজএক্স, হিন্দুস্থান টাইমস, ফার্স্টপোস্ট, খালিজ টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।