হারিয়ে যাওয়া এক ফালি চাঁদ

‘তুমি হাসলে যেন এক ফালি চাঁদ, না হাসলে পূর্ণিমা!’

সুন্দরীতমার রুপের রহস্য বিজ্ঞাপনে জানা গেলেও বাস্তব জীবনে হারিয়ে যাওয়ার রহস্য দর্শকদের অগোচরেই থাকবে!

বাংলাদেশের মডেলিংয়ের দুনিয়ায় এক তিন্নি পরপাড়ে চলে যাবার পর দর্শকদের সামনে এসেছিলেন আরেক তিন্নি। পুরো নাম শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি। ২০০২ সালে লাক্স ফটোজনিকের মাধ্যমে আবিভূর্ত হয়ে যেন ধূমকেতু হয়ে এসেছিলেন মিডিয়া জগতে।

বিজ্ঞাপন কিংবা নাটক – সবখানেই অল্প সময়েই নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন।  নাটকে তাকে এনেছিলেন নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। ২০০৪ সালে ‘৬৯’ দিয়ে শুরু।

এরপর রমিজের আয়না-র মত নাটক কিংবা বিজ্ঞাপন করে যখন আলোচনায় এসেছিলেন ঠিক তখনই ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলকে। ২০০৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিনোদনের ভূবনে আলোচিত হয়েছিল সেই মিলন।

ওই সময়টাতে অনেকেই বলেছিলেন ক্যারিয়ার থেমে যাবে। সেটা হয়নি। থেমে যায় নি, বরং বাংলালিংক দেশের প্রথম নাচে গানে বিজ্ঞাপন করে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। ‘কবি বলেছেন’, ‘ভাল্লুককে শুভেচ্ছা টুনটুনি’-সহ অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রী হিসেবেও ছিলেন দর্শক নন্দিত।

অনেকদিনের প্রেম ছিল হিল্লোলের সাথে। তবে বিয়ের পর সেই প্রেম ফিকে হয়ে যেতে বেশিদিন লাগেনি। একমাত্র মেয়ে ওয়ারিশাকে স্বামীর কাছে রেখেই বিচ্ছেদ হয়ে চলে আসেন ফের বাবা- মায়ের কাছে।

এই ফেরায় তিনি মাদকাসক্ত হলেন, বিয়েও করলেন আবার। ২০১৪ সালে তিনি হন আদনান হুদা সাদের ঘরণী। তবে এবারও সংসার টিকেনি। বিচ্ছেদ হয় ২০১৬ সালে।

সিনেমা করেছিলেন, পরিচালক ডাবিং এর জন্য অনেক খুঁজেছিলেন কিন্তু কেউই খোঁজ দিতে পারিনি। নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী অবশ্য মাঝে ফিরে আনাতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেটা সুদূরপ্রসারী হয়নি।

‘ডুবসাঁতার’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘সে আমার মন কেড়েছে’ চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয় করেন। ২০১৬ সালে দুটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন তিন্নি। ২০১৭ সালে সর্বশেষ একটি টিভি নাটকে দেখা যায় তাঁকে।

শোনা যায় এখন তিনি থাকেন কানাডায়। কেমন আছেন, কি করেন – কিছুই জানা যায় না। হারিয়ে গেছেন, আর ফিরে আসবেন সেই আশাও নেই। যদিও, মাদকের ছোবল থেকে বের হয়ে তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনেই মন দিয়েছেন। সেজন্যই তাঁকে ঘিরে আক্ষেপটা আবারো বেড়েছে। গত দশকের উঠতি তারুণ্য প্রিয় দর্শকদের কাছে তিনি ক্ষনিকের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।