সম্পর্কের রেশ একটা সাইনেই শেষ কি হয়!

| শুভদীপ বন্দোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

নায়িকাদের যত বিয়ে তত সাহসিকতা কোথাও গিয়ে এটাই প্রচার করা হচ্ছে। সম্পর্কে বোঝাপড়া হচ্ছেনা ভেঙে বেরিয়ে এসে ভালো থাকো। হ্যাঁ মন খারাপে কলহে জর্জরিত বৈবাহিক জীবন থেকে মুক্তি ভালো। কিন্তু আজকালকার নায়িকাদের বহু-বিবাহ বিপ্লবটাকেই ফোকাস করা হচ্ছে।

বহু বিবাহে রিক্তা নায়িকাদের অন্য গুণ এ যুগে খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা। শ্রাবন্তী বিয়ে ভাঙতে গিয়ে আদালতে চত্বরে একজন অশিতীপর বৃদ্ধাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে চলে যায়। যে এতটা মানুষকে আহত করতে পারে এটিচিউডে সে কিভাবে সংসার লালন করবে জানা নেই? শ্রাবন্তী আমার অপছন্দের নায়িকা নয়, দশটা বিয়ে করলেও তাঁর জীবন তাঁর সিদ্ধান্ত। কিন্তু মানুষকে কুকুর বেড়াল ভেবে ধাক্কা মারা কোন দেশীয় ভদ্রতা? যে ভিডিও ভাইরাল!

বহু বিবাহই কি শুধু নারী স্বাধীনতা? পুরুষতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করতে? একটা সম্পর্কের রেশ একটা সাইনেই শেষ কি হয়? আমৃত্যু তো থেকে যাবে সেই স্মৃতি। অর্চনা কে যেমন অভিভাবক সম ভৃত্য বলেছিল, ‘একটা কাগজে সই করে দিলে সম্পর্ক শেষ! তোমাদের ব্যাপার বুঝিনা বাপু!’

উল্টোদিকে একটা ঘটনা বলছি আরেক নারীর। যিনি আস্তাকুড় থেকে উঠে এসে টলিউড সম্রাজ্ঞী হন। সুপারস্টার নায়িকা, গায়িকা, প্রযোজিকা, সাধিকা, ইন্ডাস্ট্রির ছাতা ইন্ডাস্ট্রির মা। বেশ্যা পাড়া থেকে গান শিখেও থেকেও যিনি দেবীর সম্মান পান।

কানন দেবী

কানন বালাও দু’দুবার বিবাহে ভাঙনে সমালোচনায় দহিতা। এমনকি বহু অভিনেতা পরিচালক তার টাকার অভাবের সুযোগ নিয়ে ক্যামেরার সামনে চুম্বন অবধি করে দেয়।

সেই সামাজিক সাংসারিক শোষনে দহিতা কানন বালা দেবী হন। কানন দেবীও বহু বিবাহে সমালোচিতা। কে বলেছে কানন থেকে অপর্ণা সেনরা সমাজের টিটকিরিতে লাঞ্ছিত হননি।

কিন্তু কানন সুপার স্টার প্রযোজক হয়েও তাঁর মাটি ভোলেননি। মানুষকে কুকুর বেড়াল ভাবেননি।ঠেলা মেরে ফেলে দেননি টাকার গরমে খ্যাতির গরমে।

একটা ঘটনা বলি। আর শ্রাবন্তী প্রোডিউসার কানন সমা নায়িকা অমন দরদী মন কিছুই নাহ। কানন দেবী অচেনা বাচ্চাদেরও ঠাকুরঘরে বসিয়ে গোপালের পায়েস খাওয়াতেন। একবার সরস্বতী পুজোয় কানন দেবীর পাড়ায় খাওয়া দাওয়া। হঠাৎ সেখানে ভিখিরিরা ঢুকে পড়ে খেতে। পাড়ার লোকরা ভিখিরি দের খেতে না দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ায় কানন রুখে দাড়ান।

কানন বলেন, ‘এরা যদি একজনও অভুক্ত থাকে আমি খাবনা। সেই বুঝে কাজ কর।’

কানন না খেলে তো পুজোই সম্পূর্ণ হবেনা। কানন দেবীর পাড়ার পুজো। সব ভিখিরি দের বসানো হল খেতে। সুপারস্টার কানন দেবী তদারকি করলেন স্টারডম ঝেড়ে ফেলে। এমনকি ভিখিরিদের বাড়তি খাবার সব বেঁধে দেন পরিবারের লোকদের জন্য।

সেখানে এই শ্রাবন্তী একজন বয়স্কা বৃদ্ধাকে ঠেলে ফেলে দিচ্ছে আদালত চত্বরে। কানন মলিনা ললিতা এদের সবার অনেক গুলো বিয়ে কিন্তু এরা মানুষকে জন্তু জানোয়ার মনে করতেন না। তফাৎটা এখানেই।

শুনছি, ‘বিয়ে ভেঙেছে বেশ করেছে কার বাপের কি?’ সবাই লিখছেন। সব সেলেবরাও। কোথাও গিয়ে ভালো থাকার জায়গায় ঔদ্ধত্যকে লালন করা হচ্ছে না কি?

সারদা মা’র একটা বাণী মনে পড়ে গেল, ‘ভাঙতে সবাই পারে, গড়তে ক’জন পারে?’ নারী স্বাধীনতা এটাই যা কানন দেবীকে দলিত থেকে রাজেন্দ্রাণী বানায়।

স্বামীদের সঙ্গে সেপারেশনে থেকে অত্যাচারিত হয়েও স্বামীদের বহু প্রণয়ে লজ্জিত হয়েও সেই স্বামীর শেষ জীবনের সেবায় খরচা জুগিয়েছেন কানন। এটাকে আসলে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে সবাই? কে জানে!

সম্পর্ক মানে আজকাল শুধু একে অপরের নামে কুৎসা রটানো। কোথাও গিয়ে ঔদ্ধত্যকে প্রশয় দিচ্ছেন। চোখ বুজলেই সব শেষ। এত ঔদ্ধত্য এত ইগো তো – ছাইতেই বিলীন হবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।