দক্ষিণ কোরিয়ার চমকপ্রদ যত রীতি

পার্শ্ববর্তী দেশ উত্তর কোরিয়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী আগ্রহের কোনো কমতি নেই। কথায় আছে না, নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহ সকলের একটু বেশিই থাকে। সেদিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ততটাও নজর কাড়তে পারে না। যদিও, দক্ষিণ কোরিয়াও কম চমকপ্রদ নয়। দেশটির কিছু আইন রীতি আমাদের চমকে দিতে যথেষ্ট।

  • চপস্টিকের ব্যবহার

চপস্টিক বা খাবারের জন্য ব্যবহৃত জোড়া কাঠির ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ানরা খুব সিরিয়াস। কোথাও খেতে গিয়ে চপস্টিক দিয়ে কাটাচামচের মত খেলে সেটাকে আপ্যায়নকারীরা খুব অপমান হিসেবে দেখে। খাবার খাওয়া ফাঁকে চপস্টিক খাবারের ওপরে গেঁথে নয়, রাখতে হবে খাবারের বাটির পাশে। খাবারের ওপর চপস্টিক গেঁথে রাখাকে দক্ষিণ কোরিয়ান মৃত্যুর সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করে।

  • ট্যাটু

এশিয়ার আরো কিছু দেশের মত দক্ষিণ কোরিয়াতেও ট্যাটু আর্টিস্টদের কাজ করা বেআইনি। শুধু ডাক্তারী স্বার্থে বিশেষ প্রয়োজনে শরীরে আঁকিবুকি করা যায়। আর কারো শরীরে যদি ট্যাটু থেকেও থাকে সেটা জনসম্মুখে দেখানো মানা। দেখালে সে আর কখনো কোথাও চাকরি করতে পারবে না।

  • ডিপ নেকলাইন

ডিপ নেকলাইন বা বড় গলার জামাকে দেশটিতে খুব খোলামেলা ও আবেদনময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও, সেখানে মিনি স্কার্টে কোনো বাঁধা নেই, বরং এটা খুবই জনপ্রিয়।

  • টিপস

ইউরোপ-আমেরিকাতে যেমন খেয়ে রেস্টুরেন্টে বিলের পাশাপাশি টিপস না দেওয়াটা প্রচণ্ডরকমের অভদ্রতা বলে বিবেচিত হয়, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ায় উল্টোটা। টিপস দিলে ওয়েটারা অপমানিত বোধ করেন।

  • খাবার

খাবারের ব্যাপারে কোরিয়ানদের দৃষ্টিভঙ্গী অভিনব। সেখানে খাবার নষ্ট করা খুবই বাজে কাজ বলে বিবেচিত। বিশেষ করে যখন উত্তর কোরিয়ার সাথে যুদ্ধ ও জাপানি দখলের স্মৃতি এখনো তাঁজা। কারো বাড়িতে গেলে বা কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়ে, বা ক্যান্টিনে খাবার নষ্ট করাকে তারা মেনে নিতে পারে না। যে পরিমান খাবার প্লেটে নেবে, তার পুরোটাই তাঁকে খেঁয়ে শেষ করতে হবে।

  • ব্যক্তিগত স্পেস

কোরিয়ানরা ব্যক্তিগত স্পেসের ব্যাপারে খুবই সচেতন। অপরিচিত কারো দিকে তাকিয়ে থাকা সেখানে দৃষ্টিকটু। অনুমতি ছাড়া কারো ছবি ‍তুলে ফেললে তো কথাই নেই! চাইলে যার ছবি তোলা হচ্ছে, তিনি গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে দিতে পারেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল-জরিমানা হয়ে যেতে পারে। সাবধান!

  • বড়-ছোটদের সম্পর্ক

দক্ষিণ কোরিয়ায় ঝামেলায় জড়ানো ব্যাপারে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। বড়-ছোটদের সম্পর্কের বেলায় তাঁরা খুব সতর্ক। ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, তাঁদের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করবে না – এমনটাই রীতি। বড়রা ভুল কিছু করলেও সেটা সবাই মেনে নিতে বাধ্য, সেটা তাঁর চরিত্র ভাল হোক কিংবা হোক খারাপ। ঝামেলা হয়ে গেলে এলাকার সব বড়রা মিলে সেটার সমাধান করেন।

  • টয়লেট বিষয়ক আলোচনা

যেখানে সেখানে ‘টয়লেট’ বিষয়ক আলোচনা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো ট্যাবু নেই। স্বাচ্ছন্দ্যেই তাঁরা এই বিষয়ে আলোচনা করে। প্রেমিকের সাথে লাঞ্চ করতে করতে কিংবা বন্ধুদের সাথে সাথে ঘুরতে ঘুরতে তাঁদের মধ্যে এসব নিয়ে আলোচনা চলে। ‘আজ সকালে ঠিক মত টয়লেট হয়েছে?’ – এটা তাঁদের খুব কমন প্রশ্ন। ‘টয়লেটের সংস্কৃতি’ নিয়ে দেশটির রাজধানী সিওয়ে একটা পার্কও আছে। তাঁদের দাবী, প্রাকৃতিক একটা ব্যাপার কখনো নোংরা হতে পারেনা।

  • ধরাছোয়ার বাইরের

দক্ষিণ কোরিয়ানরা ধরাছোয়ার বাইরে থাকতে পছন্দ করেন। বুঝলেন না? একটু ভেঙে বলি। অ্যালকোহলের প্রতি প্রচণ্ড নেশা থেকে এই ধারণার জন্ম হয়েছে। তাঁর প্রচণ্ড পরিশ্রম করে এবং অনেক মদ খায়। যেকোনো উপলক্ষ্যে, কোনো বেদনাদয়ক ঘটনায় হোক, কিংব চাকরিতে প্রমোশন পেলেই হোক। মদ খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে কেউ ওই ব্যক্তিকে ধরতে যান না, মাথায় হাত বোলান না। তারা নিজেরাই একটা সময় উঠে বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁরা তো কোনো ডাকাতি করে বসেননি, স্রেফ মদ খেয়ে মাতাল হয়েছেন।

  • ধূমপান

ধূমপান দেশটিতে নিষিদ্ধ নয়। তবে, চাইলেই যেখানে সেখানে ধূমপান করা যায় না। নির্দিষ্ট স্মোকিং জোনে গিয়ে করতে হয়। তবে, সেই বিশেষ জায়গাটি একটি ঘরে মত। সেখানে ছাই ফেলার জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা। এটা করা হয়েছে, যাতে করে ধোয়ায় অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। অন্য কোথাও ধূমপান করলেই জরিমানা হয়ে যাবে!

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।