সৌম্যর ফেরা ও আমাদের হিপোক্রেসি

এই বিষয়টা নিয়ে লেখার খুব বেশি প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টে সৌম্যকে দলে নেওয়া নিয়ে যে পরিমান মানুষকে ফাস্ট্রেটেড হতে দেখলাম তাতে জাতিকে কিছু পরিসংখ্যান স্মরণ করিয়ে দেওয়াটা খুবই জরুরী হয়ে গেছে।

বিগত জাতীয় ক্রিকেট লিগে তুষার ইমরান করেছেন ৯ ইনিংসে ৫১৮ রান, গড় ৫৭.৫৫। সৌম্য এক ইনিংস কম খেলে করেছেন ৪৭১ রান, গড় ৬৪.৬০। এর মধ্যে জাতীয় লিগ চলা কালে জিম্বাবুয়ের সাথে খেলে একটা সেঞ্চুরি করে গেছেন। সেঞ্চুরি করেছেন জিম্বাবুয়ের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচেও।

ক্যারিবিয়ানদের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন সত্তরোর্ধ ইনিংস। গত ৯ টি ফার্স্ট ক্লাস ইনিংসে সৌম্য করেছেন ৫৪৯ রান যা তুষার ইমরানের গত ৯ ফার্স্টক্লাস ইনিংসের রানের থেকে ৩১ রান বেশি। গড় বেশি ১১(সৌম্যঃ ৬৮.২৩, তুষারঃ ৫৭.৫৫)। সাথে উইকেটও আছে ১০টি।

কিন্তু আপনারা এতটাই হিপোক্রেইট যে যেই ফার্স্টক্লাসের দোহাই দিয়ে আপনারা তুষারকে দলে নিতে আন্দোলন করেন সেই ফার্স্ট ক্লাসে তুষার থেকে বেটার পারফর্ম করা ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার কোন কারণই আপনারা খুজে পান না।

আচ্ছা সৌম্যের সমস্যা কি? দ্রুত রান করে? ভাগ্যিস ভিভ রিচার্ডের সময় আপনাদের জন্ম হয় নি। ভাগ্য শেবাগ গেইলদেরও। তাদের দেশে আপনাদের জন্ম হলে তাদের মত ‘রঙিন পোশাক’ এর ব্যাটসম্যানদের কপালে দুই-দু’বার করে ৩০০ জুটত না।

একটা কথা আছে, টেস্টে স্ট্রাইক রেট ম্যাটার করে না। জ্বি, সেটা ৩০ হোক কিংবা ১৩০ কিছুই মেটার করে না। মেটার করে আপনার গড়। সৌম্যের গড়টা অবশ্য আহামরি না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ফার্স্ট ক্লাসে যেমন খেলেছেন, তারপর প্রস্তুতি ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল, রোচ, বিশুদের যেভাবে সামলেছে সেখানে সুযোগ একটা তার পাওনাই ছিল।

তারপর টিম যখন এক পেসার স্ট্যাট্যাজিতে গিয়েছে তখন ব্যাকআপ হিসাবে অ্যাটলিস্ট মোটামুটি বল করতে পারে এমন কাউকে লাগতোই। সবদিক বিবেচনায় সৌম্যেকে দলে নেওয়াটা ট্যাকটিক্যালি দারুণ সিদ্ধান্ত ছিল। এবার হয়ত ক্লিক করেননি। তবে সিদ্ধান্তটা বাজে ছিল না।

অবশ্য যদি ভাবেন ন্যাচারাল স্ট্রোক মেকার হলে টেস্টে খেলা যাবে না, তাহলে অবশ্য কিছু বলার নেই। কি জানি, আপনাদের হাত থেকে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্যই হয়তবা তামিম ইকবাল খোলসে বন্দী হওয়া শিখে ফেলেছেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।