ইতিহাস কাঁপিয়ে দেওয়া একটি ইনিংস!

শিরোনামটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার লোকের অভাব হবে না। যেমনটা নিয়মিতই বাংলাদেশ দলে সৌম্যর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে, এই ইনিংসটা আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাস কাঁপানো। কারণ, লিস্ট এ ক্রিকেটে এর আগে কখনেই যে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারই ডাবল সেঞ্চুরি পাননি।

রকিবুল হাসান কিংবা মুমিনুল হকরা ডাবল সেঞ্চুরির দুয়ার থেকে ফিরেছেন। তবে, সৌম্য সরকারকে সেই হতাশাকে সঙ্গী করতে হল না। যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন প্রতাপের সাথেই ব্যাট চালিয়েছেন।

আবাহনীর হয়ে বিকেএসপিতে ১৫৩ বলে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সৌম্য। ১৪৯ তম বলে ২০০-রানে পৌঁছান তিনি। চার মেরে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই ইনিংসে ১৬ টি ছক্কা মেরেছেন বাহাতি এই ওপেনার। এটা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড।

এর আগে ১১ টি ছক্কা ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেই আগের রাউন্ডে ১১ টি ছক্কা মেরেছিলেন প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের সাইফ হাসান। এ ছাড়া সৌম্য সরকার ও মাশরাফি বিন মুর্তজারও ছিলো ১১ টি করে ছক্কা।

বিকেএসপিতে শেখ জামালের ছুড়ে দেওয়া ৩১৮ রানের লক্ষ্য টপকে ৯ উইকেটে জয় পেলো আবাহনী। আবাহনী জিতলো ২০ তম লিগ শিরোপা। লিস্ট-এ ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকে আবাহনীর এটা তৃতীয় লিগ শিরোপা। গত আসরের চ্যাম্পিয়নও ছিল তাঁরা।

শেখ জামালের বিপক্ষে রান তাড়া করতে নেমে ৩১২ রানের জুটি গড়েন সৌম্য ও জহুরুল ইসলাম অমি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যে কোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি এটা্। প্রথম ৩০০-এর ওপরের ‍জুটিও এটাই। সব মিলিয়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইতিহাসে এটা ১৫ তম ৩০০ রানের জুটি।

আগে এই রেকর্ড ছিল মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষের। ২০০৭ সালে আগের সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৯০ রান যোগ করেছিলেন। তারা। আর প্রথম উইকেটে আগের সর্বোচ্চ ছিল আবাহনীর এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্তর। তাঁদের জুটি থেকে এসেছিল ২৩৬ রান। সেটা ২০১৮ প্রিমিয়ার লিগের ঘটনা।

মজার ব্যাপার হল, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটাই সৌম্যর প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি নয়। এর আগে ২০১২ সালে অনুর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপে কুয়েতের বিপক্ষে ২০৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য সেই ইনিংসের চেয়ে এক রান কম করলেন তিনি।

বিশ্বকাপের আগে সৌম্যর ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে, টানা দুই সেঞ্চুরিতে এবার সেই দুশ্চিন্তা মুছলো। এবার সেই ফর্ম বিশ্বকাপে ধরে রাখার পালা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।