বেটার লেট দ্যান নেভার

শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে শেষ আনঅফিসিয়াল ওয়ানডের বাংলাদেশ ‘এ’ দলে ডাক পান সোহাগ গাজী। এই ডাক পাওয়া আরও কদিন আগেই প্রাপ্য ছিল সোহাগের। তবু অবশেষে পেলেন, এটাও কম নয়!

প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডারকে। এই সিরিজে শেষ পর্যন্ত যদি রাখা নাও হয়, ভবিষ্যতের জন্য বেশ গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে তাকে। ভাবার মূল কারণ, কার্যকরি একজন অফ স্পিনার দলে রাখার তাগিদ।

মিরাজ লঙ্গার ভার্সনে দারুণ করছেন। তবে নির্বাচকদের মতে, রঙিন পোশাকে তার আরও অনেক উন্নতির প্রয়োজন। নাঈম হাসান ভালো করছেন। তবে তাকে আরেকটু পরিণত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাই মনে পড়েছে সোহাগের কথা।

গত বিপিএলে সোহাগ ১১ উইকেট নিয়েছিলেন। উইকেটসংখ্যা কম মনে হতে পারে, তবে নতুন বলে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ছিল বেশ কিছু। তার চেয়ে ভালো ছিল কন্ট্রোল। নতুন বলে নিয়মিত করেও ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৬.৮৩! গত ঢাকা লিগে শেখ জামালের হয়ে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন, ওভার প্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৪.০২।

গত বিসিএলে নিয়েছিলেন ২৯ উইকেট, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যদিও বেশ খরুচে ছিলেন বিসিএলে, তবে নিখাদ ব্যাটিং উইকেটে দুর্দশা ছিল প্রায় সব বোলারেরই। সেই বিবেচনায় খারাপ ছিল না সোহাগের পারফরম্যান্স, আর ব্যাটিংটা তো বোনাস আছেই।

সব মিলিয়ে এজন্যই বলছিলাম আরও আগে ডাক পেতে পারতেন। সেটা শুধু জাতীয় দল বা ‘এ’ দল নয়। প্রাইমারি ক্যাম্পে ডাক পেতে পারতেন, নইলে অন্তত এইচপির স্পিন ক্যাম্পে থাকতে পারতেন। সেটাও রাখা হয়নি। কোনো কিছুতেই না থাকলে যেটা হয়, ফিটনেস নিয়ে ধুঁকতে হয়। সোহাগের ফিটনেসও এই মুহূর্তে হয়ত খুব ভালো নয়। একাই ট্রেনিং করছিলেন বলে জানি। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় সেটা আর কতটা ভালো হয়।

এখন তবু ‘এ’ দলে অন্তত ডাক পেয়েছেন। একটা ম্যাচ আছে, খেলার সুযোগ আসতে পারে, নাও পারে। ভালো করতে পারেন, নাও পারেন। জাতীয় দলে ফিরতে পারেন আবার, নাও পারেন, সেসব পরে। অন্তত একটা সিস্টেমে যেন রাখা হয় এই ম্যাচের পর। নইলে বিপদটা দেশের ক্রিকেটেরই!

এবারই যেমন, মনে হচ্ছে শর্ট ফরম্যাটে একজন কার্যকরি অফ স্পিনার লাগবে, হুট করে মনে হচ্ছে মিরাজ ততটা ভালো করছে না, নাঈমকে আরও সময় দেওয়া উচিত, দেখা যাচ্ছে আর কোনো বিকল্পই নেই!! সোহাগের দুয়ারে তাই কড়া নাড়তেই হলো। কিন্তু যেহেতু কোথাও রাখা হচ্ছিল না, তার ফিটনেস ভালো থাকার কারণ নেই। এটা তার প্রতিও তো অন্যায়! অন্তত এইচপির স্পিন ক্যাম্পে রাখলে এমনটা হতো না।

এখনও টেস্ট ইতিহাসে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের একমাত্র কীর্তি সোহাগের। হইচই ফেলেছিলেন ক্রিস গেইলকে বোতলবন্দী করে রেখে। তুমুল সম্ভাবনা থেকে যে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিলেন, তাতে বড় দায় তার নিজেরই। অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অনেক ছিল, আছে। খেসারত দিয়েছেন তিনি। দিয়েছে দেশের ক্রিকেট। তবে কেউ যদি ফেরার চেষ্টা করে, পারফর্ম করে, তখন প্রাপ্যটাও তাকে দেওয়া উচিত।

যা হোক, বেটার লেট দ্যান নেভার, যেটা বলছিলাম, এই ম্যাচে ভালো করুক বা না করুক, দলে ফেরানো হোক বা না হোক, সিস্টেমে যেন রাখা হয়। সোহাগকে যেমন, তেমনি সোহাগের মতো অন্যদেরও!

ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।