চৌকশ স্পিনারদের এলিট ক্লাব

হালের ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ শুরু করার জন্য বল হাতে যখন কোনো স্পিনার দৌড় শুরু করেন, তখন সেটাকে আমরা অনেকে স্মার্ট ক্রিকেট বলে থাকি। এখনকার সময়ে কিছু বোলার দিব্যি এমন কাজ করে যাচ্ছেন। সাকিব আল হাসান কিংবা আব্দুর রাজ্জাক থেকে শুরু করে তিলকারত্নে দিলশান, সনাথ জয়সুরিয়া, ইমাদ ওয়াসিম, স্যামুয়েল বদ্রিরা এটা বহুবার করেছেন। তবে প্রথম যিনি এটা শুরু করেছিলেন তিনি হচ্ছেন জর্জ পালমার।

১৮৮১ সালে মেলবোর্ন টেস্টে টেড পিয়েট ইংল্যান্ডের হয়ে এবং জোয়ি পালমার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্পিন দিয়ে বোলিং শুরু করেন। তবে অস্ট্রেলিয়া দল প্রথমে বল করে বিধায় ইতিহাসের পাতায় জয়ি পালমারের নাম প্রথমে লেখা হয়।  তবে মজার ব্যাপার হল টেড পিয়েটের খেলা আট টেস্টের ১৫ ইনিংসের ভিতর ১৪টি ইনিংসেই ওপেনিংয়ে বল করেন।

অস্ট্রেলিয়ার জোয়ি পালমার

টেস্ট ক্রিকেটে এই পর্যন্ত ৬৬ জন স্পিনার ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন বল হাতে নিয়ে। সবচেয়ে বেশি ১০ ম্যাচে ১২ ইনিংসে ওপেনিংয়ে বল করেন ভারতের রবিচন্দন অশ্বিন। তবে ওপেনিংয়ে বল করে সবচেয়ে বেশি ৬২ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার হাগ ট্রেম্বল (১৫ ইনিংসে)।

কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, ইংলিশ কিংবদন্তী ক্রিকেটার উইলফ্রেড রোডস তার ৫৮ টেস্টের ভিতরে মাত্র তিনটি টেস্টের ছয়টি ইনিংসে ওপেনিংয়ে বল হাতে নিয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২৯ উইকেট! এই উইলফ্রেড রোডস ১১১০টি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলে ৪২০৪ উইকেটের মালিক!

ছয় জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার টেস্টে ইনিংসের প্রথম বলটা করার গৌরব অর্জন করেন। তারা হলেন সাকিব আল হাসান, ইলিয়াস সানি, সোহাগ গাজী, আব্দুর রাজ্জাক, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ সর্বোচ্চ ৭ ম্যাচে ৮ ইনিংসে ওপেনিংয়ে বল করেন। সেই ইনিংস গুলোতে ১৮ উইকেট পান। পক্ষান্তরে যে ১টি ম্যাচে সাকিব ওপেনিংয়ে বল করেন, সেটিতে সাকিব ছিলেন উইকেট শূন্য।

পাকিস্তানের ওয়াসিম রাজা

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ক্লাবে সদস্য সংখ্যা ৪৮ জন। ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের ওয়াসিম রাজা ওডিআই ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ইনিংস গোড়াপত্তন করেন। মোহাম্মদ হাফিজ সর্বোচ্চ ১৬ টি ম্যাচে ওপেনিংয়ে বল করেন এবং আফগানিস্তানের আমির হামজা ১৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২১ উইকেট নেন (ওপেনিংয়ে বল করা দিনে)।

বাংলাদেশের হয়ে পাঁচ জন স্পিনার এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, নাসির হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আব্দুর রাজ্জাক ২০১১ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে এই ক্লাবে প্রবেশ করেন, তারপর সোহাগ গাজী (২০১২), সাকিব (২০১৫)।

ওপেনিংয়ে বল করে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের ভিতরে সেরা বোলিং গড় সাকিবের (১৬.৫৪)। ৪ ম্যাচে সেখানে সাকিব নেন ১১ উইকেট। অপরদিকে আব্দুর রাজ্জাক ওপেনিংয়ে বল করে উইকেট পাননি। রাজ্জাকের মত আরো ১০ জন বোলার উইকেট শূন্য থাকেন।

এখনকার সময়ে অন্যতম আলোচিত বোলার আফগানিস্তানের রশিদ খানকে কখনো ওপেনিংয়ে বল হাতে দেখা যায়নি। রশিদ খানের খেলা ৪১ ইনিংসের ভিতরে ৩৫টি ইনিংসেই ৫ -৬ নম্বর পজিশন বলে করেছেন। এই এই পজিশনে বল করে ৩৫ ইনিংসে ৮৯ উইকেট নিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ৭২ জন স্পিনার ওপেনিংয়ে বল ঘুরিয়েছেন। ২০০৯ সালে ইয়োহান বোথা প্রথম স্পিনার হিসেবে ওপেনিংয়ে হাত ঘোরান। সর্বোচ্চ ২৩ ইনিংসে হাত ঘুরিয়েছেন স্যামুয়েল বদ্রি (২৭ উইকেট)। বাংলাদেশের হয়ে সাত জন স্পিনার এই ক্লাবে নাম লেখান। তারা হচ্ছেন সাকিব আল হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, আরাফাত সানি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শুভাগত হোম এবং নাজমুল ইসলাম অপু।

রঙ বেরঙে ছেপে যাওয়া এখনকার ক্রিকেটে স্পিনারদের দ্বারা ইনিংস শুরু করতে দেখলে সেটা বরং ভালোই লাগে। ওরা বড্ড সাহসী। কেননা একটা সময় মানুষ হয়তো ভাবত ওপেনিং মানেই যেন দুর্দান্ত গতিতে ছুটে আসা ক্রিকেট বল। কিন্তু সেই বলেই যে ত্রিকোণমিতির কোণের মত বহু অংক মিশে আছে সেটা তখন কেউই বোঝেনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।