সামান্য বাজেট, অসামান্য হিট: কনটেন্টের জয়গান

অর্থ সবসময় অর্থবহ হয় না। তাই কখনো কখনো বিশাল অংকের টাকা খরচ করে বানানো সিনেমাও মুখ থুবড়ে পড়ে ব্যর্থতায়। কোনটায় গল্পের দূর্বলতা, কোনটায় অভিনয়, কোনটায় বা দূর্ভাগ্য। আবার এমন অনেক ছবি আছে যেখানে আহামরি বাজেট না পেয়েও গল্পের সাবলীলতা, পরিচালকের মুন্সিয়ানা, সুন্দর অভিনয়ে তৈরি হয় পারফেক্ট প্যাকেজ। দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি বক্স অফিসেও মেলে সাফল্য। তেমন কয়েকটি বলিউড মুভি সম্পর্কে চলুন জেনে আসি, অল্পতেই যারা বাজিমাত করেছে!

  • তানু ওয়েডস মানু

আনন্দ এল রাইয়ের রোমান্টিক ড্রামা। কঙ্গনা রানৌত, মাধবন মিলে এই সিনেমার প্রথম কিস্তিতেই কিস্তিমাত করেছেন। ২০১১ সালে মুক্তি পায় এটি। ১৫ কোটি বাজেটে ৫৬ কোটি আয়, সুপারহিটের তকমা লাগিয়ে বক্সঅফিসে সাফল্যের মুখ দেখে তনু ওয়েডস মনু৷

  • পিপলি লাইভ

২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া অনুশ রিজভীর চলচ্চিত্রটির বক্সঅফিস সাফল্য সবাইকে অবাক করে। ভারতে নিপীড়িত কৃষকের আত্নহত্যা করা একপ্রকার মহামারি আকার ধারণ করে একসময়। সেই ইস্যুতে তৈরি হয় পিপলি লাইভ। ১০ কোটি টাকা খরচে পকেটে পুরে নেয় ৬৩ কোটি রূপি। সিনেমার অন্যতম প্লাস পয়েন্ট এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, যার দায়িত্বে ছিল আমির খানের প্রোডাকশন হাউজ।

  • নো ওয়ান কিলড জেসিকা

১৯৯৯ সালে ভারতীয় মডেল জেসিকা লালের হত্যা রহস্য নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাণী মুখার্জি, বিদ্যা বালান। পরিচালনায় ছিলেন রাজকুমার গুপ্তা। ২০১১ সালে মুক্তির পায় নো ওয়ান কিলড জেসিকা। আইএমডিবিতে ৭.২, টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ৪/৫ রেটিং প্রমাণ করে এর দর্শকপ্রিয়তা। আর ৯ কোটি রূপির সিনেমার বক্সঅফিস কালেকশন ৫৮ কোটি দেখলেই বুঝা যায় এর সাফল্য কতখানি!

  • প্যায়ার কা পাঞ্চনামা

২০১১ সালে পরিচালক লাভ রঞ্জন নিয়ে আসেন ভিন্ন আবহের এক গল্প। তিন ব্যাচেলর বন্ধুর তিনজন মেয়ের প্রেমে পড়া, তারপর গার্লফ্রেন্ডদের সামলানোর প্যারা নিয়ে এগোয় গল্প। খানিক অ্যাডাল্ট ধাঁচের রোমান্টিক কমেডি জনরার সিনেমা তরুণ দর্শকমহলের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পায়। সিনেমায় যেন তরুণরা নিজেদেরকেই দেখতে পায়। তাতে পকেট ভারী হয় প্রযোজকেরও। ১০ কোটি বাজেটের বিনিময়ে আয় ৫০ কোটি রূপি।

  •  প্যায়ার কা পাঞ্চনামা ২

২০১৫ সালের অক্টোবরে মুক্তি পায় প্যায়ার কা পাঞ্চনামা ছবির দ্বিতীয় কিস্তি। এটির গল্পও এগিয়েছে প্রেমের সাইড ইফেক্ট নিয়ে। লাভ রঞ্জন তিন জোড়া তরুণ তরুণীকে সাথে নিয়ে ভালো কাজ উপহার দেন। যার উপহারস্বরুপ, ২২ কোটি রূপি আউটপুটে ইনপুট আসে ৮৮ কোটি! এই ছবি দু’টো করেই কালক্রমে বড় তারকা হয়ে ওঠেন কার্তিক আরিয়ান।

  • পান সিং তমার

ভারতে জীবনীনির্ভর সিনেমার বাজারটা দারুণ রমরমা। ক্রীড়াবিদ পান সিং তমারের জীবনী নিয়ে ২০১২ সালে তৈরি হওয়া সিনেমাতেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। তিমাংসু ঢুলিয়ার পরিচালনায় এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইরফান খান। ব্যস, নামটুকুই যথেষ্ট সিনেমার মান নির্ধারণে। সেবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা ফিচার ফিল্মের খেতাব পায় সিনেমাটি। আর সেরা অভিনেতার পুরস্কার বাগিয়ে নামের প্রতি সুবিচার করেন ইরফান। ৭ কোটি রূপি ব্যয়ে ২১ কোটি রুপি সংগ্রহ করা এই চলচ্চিত্র ভারতে মুক্তির আগেই প্রদর্শিত হয় লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে।

  • পিঙ্ক

এর আগে বেবি, নাম শাবানায় কাজ করলেও পিঙ্ক সিনেমা দিয়েই বলিউডে নিজের একটা পোক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন দক্ষিণী অভিনেত্রী তাপসি পান্নু। অমিতাভ বচ্চনের সাথে জুটি বেঁধে চমৎকার কোর্ট ড্রামা উপহার দেন দর্শকদের। ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে বিগ বি একজন অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। সুজিত সরকারের নিঁখুত পরিচালনায় বাহবা মেলে ভক্ত সমালোচক সকলের কাছ থেকে। ২৩ কোটি বাজেটের ছবিটি আয় করে ১০৭ কোটি রূপি।

  • কুইন

পরিচালক বিকাশ ভলের নারীকেন্দ্রিক এই কমেডি ড্রামায় রীতিমত ফাটিয়ে দিয়েছেন কঙ্গনা। বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া, প্রিয়জনের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে মুষড়ে পড়া এক তরুণীর একা একা ঘুরে দাঁড়ানো, সেখান থেকে জীবনকে নতুন চোখে দেখতে শেখানো! এভাবেই এগিয়েছে গল্প। নারীকেন্দ্রিক হলেও যেকেউ অনুপ্রেরণা নিতে পারে সিনেমাটি থেকে। এমন সিনেমাকে সাদর সম্ভাষণ জানাতে দর্শক তাই দ্বিতীয়বার ভাবেনি। সাড়ে ১২ কোটি ব্যয়ের মুভির ১০৮ কোটি রূপি কালেকশন সেই কথাই বলে!

  • কাহানি

চমৎকার সাসপেন্স থ্রিলার সিনেমাটির প্রাণ ছিল বিদ্যা বালানের অভিনয়। হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে খুঁজতে এক গর্ভবতী মহিলার কলকাতা শহর চষে বেড়ানোর যাত্রায় দর্শক সঙ্গী হবে দারুণ কিছুর। সুজয় ঘোষের পরিচালনায় ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রের বাজেট ছিল মাত্র ৮ কোটি, আয় ১০৪ কোটি রূপি!

  • তানু ওয়েডস মানু রিটার্ন্স

২০১৫ সালের ২২ মে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি ২০১১ সালের ‘তানু ওয়েডস মানু’র সিক্যুয়েল। আনন্দ এল রাইয়ের সুনিপুণ পরিচালনায় প্রথমটির মতো এটিকেও গ্রহণ করে দর্শক। তনু মনু জুটির ভূমিকায় কঙ্গনা রানৌত আর মাধবন উপহার দেয় সুন্দর সাবলীল অভিনয়, জিতে নেয় সমালোচকদের মন। ফলাফল, বক্সঅফিসে চূড়ান্ত সাফল্য। ৩৯ কোটি রূপি খরচে আয় উঠে আসে ২৪৩ কোটি রূপি! কঙ্গনা পান সেবারের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।