ওভার থ্রো’র ছয় রান, বিতর্ক-বাস্তবতা ও আক্ষেপ

আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা কি জানতেন নিয়মটা?

গতকাল রাত থেকেই মাথার ভেতর সেই ওভার থ্রো’র ছয় রান ঘোরাফেরা করছে। ম্যাচ ডিফাইনিং ভু্তুড়ে ছয় রান!

রাতেই আইসিসি আইন নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছিলাম, খুব একটা সুবিধা করতে পারি নি। অস্পষ্ট কিছু হিন্টস অবশ্য পেয়েছিলাম, কিন্তু ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে থ্রো করা বল ডিফ্লেক্ট সম্পর্কিত কিছু খুজে পাই নাই। তবে, যেটা পেয়েছিলাম, সেটা তো কেচো খুড়তে সাপ বের হবার মত ঘটনা। যেটুকু বিষয় নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না, সেটা আজ ইএসপিএন ক্রিকইনফোর আর্টিকেল থেকে পেয়ে গেছি।

ঘটনা ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ের ৫০ তম ওভারের। ৩ বল থেকে ৯ রান সমীকরণে স্টোকসের ব্যাটে ভরসা খুঁজছে ইংল্যান্ড। বোল্টের বল সজোরে চালিয়েই রানের জন্য ছুটলেন দুই ব্যাটসম্যান। বাউন্ডারি থেকে ফিরে আসা থ্রোটা গিয়ে লাগলো ২ রানের জন্য ছুটতে থাকা স্টোকসের ব্যাটে। বল ডিফ্লেক্ট হয়ে হয়ে বাউন্ডারির বাইরে! স্টোকস সাথে সাথে ক্ষমা চেয়ে নিলেন!

কিন্তু ব্ল্যাক ক্যাপদের স্বপ্ন নৌকা ততক্ষণে ডুবে যাবার পথে। আম্পায়ার ধর্মসেনা ২+৪= ৬ রানের নির্দেশ দিয়ে দিলেন। ইকুয়েশন তখন দুই বলে তিন রানের! প্রায় ডুবে যাওয়া ইংল্যান্ড জাহাজ নতুন লাইফ সাপোর্ট পেয়ে ম্যাচ টাই করে ফেলল এবং পরবর্তীতে সুপার ওভারেও টাই করে বাউন্ডারি পার্থক্যে চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেলো।

সব কিছুই তো হলো নিয়মের ভেতরে থেকে! কিন্তু আসলেই কি তাই?

আইসিসি আইনের ১৮.৬ নম্বার ধারা অনুযায়ী অভার থ্রোতে যদি বাউন্ডারি আসে, তাহলে দৌড়ে নেয়া রানের সাথে সেটা যোগ হয়। তবে সেক্ষেত্রে বাউন্ডারির সাথে দৌড়ে নেয়া রান ততগুলোই যোগ হবে যতগুলো ব্যাটসম্যানরা পূর্ণ করেছে। অর্থাৎ, ফিল্ডার বল থ্রো করার মুহুর্তে যদি ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে অতিক্রম করেন তবেই সেই রান যোগ হবে।

গতকালের ঘটনায় ফিল্ডার যখন বল থ্রো করেছিল তখন দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটছিল, কিন্তু একে অপরকে ক্রস করেনি। সো, নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ডের দৌড়ে নেয়া দ্বিতীয় রান তাই কাউন্ট হবার কথা নয়। কাউন্ট হবার কথা ১+৪ = ৫ রান! কিন্তু ধর্মসেনার সিগন্যাল ছিল মোট ৬ রানের! ম্যাচ ডিফাইনিং ১ রান, নয় কি?

এখন কথা হচ্ছে, ধর্মসেনা কি জানতেন নিয়মটা? অথবা মাঠে উপস্থিত কোন খেলোয়াড় কি জানতেন না? উইলিয়ামসন? জানলে হয়ত নিউজিল্যান্ডকে ট্রফি ছাড়া ঘরে ফিরতে হত না! একটা নিয়ম জানা বা না জানার পার্থক্যে শিরোপা হাত বদল হয়ে গেলো! ধর্মসেনা বা উইলিয়ামসন যদি নিয়মটা সম্পর্কে অবগত থাকতেন, তাহলে থার্ড আম্পায়ার কলের মাধ্যমে ওই এক রান কমাতে পারতেন! হায়!

কত কাছে, তবুও কত দূরে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।