সফল নায়িকার ব্যর্থ বোন

বলিউডে ব্যর্থতার কোনো কোনো ক্ষমা নেই। আর সাজা আজীবনের জন্য নির্বাসন। সে আপনার বাবা-মা, ভাই-বোন যেই হোক না কেন। অনেক সময়ই এখানে যোগ্যতা ও প্রতিভা না থাকলে পরিবারের প্রতিপত্তি কোনো কাজেই আসে না।

এই অভিনেত্রীদের কথাই ধরুণ না। তাঁদের প্রত্যেকের বোন নিজেদের কাজ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু, তারা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। বরং, শক্ত প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে না পেরে হারিয়ে গেছেন।

  • সামিতা শেঠি

শিল্পা শেঠির বোন সামিতার অভিষেক ২০০০ সালের সিনেমা ‘মোহাব্বাতে’ দিয়ে। প্রথম সিনেমাতেই সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান ও ঐশ্বরিয়া রায়ের মত তারকাদের। ‘মোহাব্বাতে’র সাফল্যের পর আরো বেশ কয়েকটি প্রোজেক্টে নাম লেখান তিনি। কিন্তু ‘অগ্নীপাঙ্খ’, ‘ওয়াজাহ’, ‘ফারেব’-এর মত ফ্লপ সিনেমা উপহার দেন। পরে তিনি পেশা পাল্টে ইন্টেরিওর ডিজাইনিংয়ে চলে যান। সর্বশেষ ২০০২ সালের ‘মেরি ইয়ার কি শাদি হ্যায়’ সিনেমার ‘শারারা শারারা’ আইটেম গানের সুবাদে তিনি আলোচিত হয়েছিলেন।

  • অমৃতা অরোরা

আইটেম কুইন মালাইকা অরোরা’র বোন অমৃতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন প্রায় এক যুগ। ২০০২ সালের ফ্লপ সিনেমা ‘কিতনে দুর, কিতনে পাস’ সিনেমা দিয়ে তাঁর বলিউডে অভিষে হয়। এরপর ‘জামিন’ ও ‘গার্লফ্রেন্ড’-এর মত সিনেমা করলেও ব্যবসায়িক সাফল্য আসেনি। বাধ্য হয়ে ‘গোলমাল’ ও ‘কামবাখত ইশক’-এ অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন ও কারিনা কাপুরের সাথে সাপোর্টিং রোলও করেন। এত কিছুর পরও তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো স্থায়ী ছাপ রাখতে পারেননি তিনি।

  • তানিশা মুখার্জী

তানিশা হলেন বলিউড অভিনেত্রী তানুজা মুখার্জীর মেয়ে। বোন হলে কাজল। ২০০৩ সালে বলিউড সিনেমা ‘শশশহহহ…’-এর আগেই তেলেগু ও তামিল সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর তিনি ‘নিল এন নিকি’ ও ‘সরকার’ সিনেমা করেন। সাফল্যের সিঁড়িটা তিনি ধরতে পারেননি। এরপর টেলিভিশনের পর্দায় আসেন। তাঁকে ‘বিগ বস’ ও ‘খাত্রো কা খিলাড়ি’-তে দেখা যায়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘আন্না’ নামের একটি সিনেমা করেছিলেন। এটাও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

  • রিঙ্কি খান্না

রিঙ্কি হলেন ডিম্পল কাপাডিয়া ও রাজেশ খান্নার মেয়ে। বোন হলেন টুইঙ্কল খান্না। আসল নাম ছিল রিঙ্কল খান্না। সিনেমায় আসার আগে নাম পাল্টে হয়ে যায় রিঙ্কি। ১৯৯৯ সালের সিনেমা ‘প্যায়ার মে কাভি কাভি’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। এখানে ব্যর্থ হওয়ার পর আর কখনোই বড় কোনো চরিত্রে কাজ করেননি তিনি। সাপোর্টিং রোল করেন ‘জিস দেশ মে গঙ্গা র‌্যাহতা হ্যায়’, ‘ঝাঙ্কার বিটস’, ‘চামেলি’। এরপর সব ছেড়ে দিয়ে তিনি বিয়ে করে বিলেতে স্থায়ী হয়ে যান।

  • সিম্পল কাপাডিয়া

অভিজ্ঞ অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার বোন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘অনুরোধ’ সিনেমায় তাঁর অভিষেক হয়। এরপর ‘শাখা’, ‘লুট মার’, ‘নসিব’ ইত্যাদি ফ্লপ সিনেমায় কাজ করেন তিনি। এরপর সিনেমায় অভিনয় ছেড়ে দিয়ে কস্টিউম ডিজাইনিংয়ের কাজ শুরু করেন।

এরপর ‘জীবন ধারা’ ও ‘প্যায়ার কে দো পাল’-এ সাপোর্টিং রোল করেন। এরপর চিরতরে কস্টিউম ডিজাইনিংকেই নিজের পৃথিবী বানিয়ে ফেলেন সিম্পল। ক্যারিয়ারে তিনি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও শাবানা আজমীদের মত শীর্ষ অভিনেত্রীর কস্টিউম ডিজাইন করেছেন। ২০০৯ সালে হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়।

– আরভিসিজে অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।