সিঙ্গাপুরের এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করলে ক্ষতি কি!

জীবন হল একটা দৌড় প্রতিযোগীতা। এই দৌঁড়টা শুরু হয়ে যাবে একদম নার্সারিতে ভর্তি মাত্রই। কার নাম্বার কত, কে প্রথম, কে দ্বিতীয়, পাশ-ফেল, অংকে কেন দুই নম্বর কম – দৌঁড় প্রতিযোগীতার শুরু সেই শৈশবের ক্লাসরুম থেকে। শিশু বয়স থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তোমার প্রতিযোগীতা তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সাথেও।

তবে, এই ভাবনাই পাল্টাতে চলেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রনালয় নতুন এক আইন জারি করেছে। এই আইনে বলা আছে, দেশটির প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি স্কুলের রেজাল্ট কার্ডে কোনো রকম প্রথম, দ্বিতীয় বা কোনো বিভাজন উল্লেখ করা থাকবে না। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ওঙ ইয়ে কুঙ বলেছেন, ‘শিক্ষা কোনো প্রতিযোগীতা নয়।’

আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে কোনো বিভাজন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন নম্বর, পাশ-ফেল, গ্রেডিং, মোট নম্বর – এসবের উল্লেখ করাই যাবে না। সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রানলয়ের এই অনন্য উদ্যোগের কারণটা পরিস্কার। তারা তুলনা ও প্রতিযোগীতাকে নয়, বরং সত্যিকারের শিক্ষাটায় জোর দিতে চায়।

এই উদ্যোগের ফলে, নম্বর দেওয়ার প্রথাই বিলুপ্ত হতে চলেছে। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে কিসের বিবেচনায়? শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে তাঁদের গুণগত বিশ্লেষণ করবেন। নম্বর কিংবা গ্রেডের পরিবর্তে এটাই হবে একজন শিক্ষার্থীর মাপকাঠি। শিক্ষকদের সাথে বৈঠকে নিজেদের সন্তানদের ব্যাপারে এই মূল্যায়ন জানতে পারবেন অভিভাবকরা।

শিক্ষামন্ত্রী ওঙ দেশের ১৭০০ টি স্কুলকে উদ্যেশ্য করে বলেন, ‘আমি জানি প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়াটাকেই ঐহিত্যগত ভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের অর্জনের মাপকাঠি হিসেবে দেখে এসেছি। তবে, এই বিভাজনটাকে আমরা ভাল কিছু করতে চাই বলেই বাদ দিচ্ছি। কারণ, আমরা মনে করি এর ফলে শিশুরা বুঝতে শিখবে যে শিক্ষা মানেই প্রতিযোগীতা নয়, বরং নিজেকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারাটাই বড় ব্যাপার। আমরা যেমন রিপোর্ট কার্ডের সুপারিশ করেছি তাতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে এমন কিছু তথ্য দেওয়া থাকবে যাতে করে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা ও ‍দুর্বলতার জায়গাগুলো বুঝতে পারে।’

সিঙ্গাপুর হল সেই দেশ যেখানে একটা সময় কাজ করে পেট চালানোরই কোনো উপায় ছিল না। সেটা খুব বেশি আগের কথা নয়, এই ৬০-৭০ এর দশক হবে। সেখান থেকে বের হয়ে সিঙ্গাপুর আজ গোটা বিশ্বের জন্যই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল। এবার শিক্ষাখাতেও নতুন এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তারা। এই দৃষ্টান্ত সত্যিই অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।

– সিটি নিউজরুম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।