বাংলাদেশ সেদিন দেখেছিল সালমান শাহ-শাবনূর জুটির উত্থান

এই দিন সেই দিন কোনোদিন তোমায় ভুলবোনা
চলতে চলতে পাবো দু’জন স্বপ্নের ঠিকানা।

ধনীর ছেলে সুমন আর গরীব ফুল ব্যবসায়ী সুমির প্রেমগাঁথার চিত্ররুপ ‘স্বপ্নের ঠিকানা’। দূর্ঘটনায় সুমন স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেললে তার জীবনে আসে আরেক নায়িকা, আর তখন শুরু হয় সুমীর আরেক অধ্যায়, নিজের ভালোবাসাকে ফিরে পাবার পরীক্ষা।

সালমান শাহ ও শাবনূর জুটির এই ছবি দর্শকেরা দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যবসাসফল ছবি হিসেবে এটি স্বীকৃত। অথচ, মজার ব্যাপার হল – প্রথমে নাকি এই ছবি ঢাকা শহরের সিনেমা হলের মালিকেরা চালাতে চায় নি। পরে এই ছবির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় নিজেরাই এই ছবি চালিয়েছেন সপ্তাহের পর সপ্তাহ।

সালমান শাহ তখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক, তারুণ্যের প্রতীক। তবে এই সিনেমা আলোকিত করে সুমি চরিত্রে অভিনয় করা শাবনূর। মূলত এই ছবির পরেই দর্শক থেকে সিনেমা নির্মাতাদের চোখে বিশেষ নায়িকা হয়ে উঠে শাবনূর, অভিনয় গুনে অর্জন করে নেন বাচসাস পুরস্কার। সালমান-শাবনূর জুটির সাফল্যের জয়রথে এই ছবি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।

আলম খানের সুরে সবকটি গান হয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়। এটলাস মুভিসের ব্যানারে এম এ খালেকের পরিচালনায় এই ছবিতে আরো ছিলেন রাজিব, আবুল হায়াত, ডলি জহুর, দিলদার ও সোনিয়ারা।

১৯৯৫ সালের ১১ মে সারাদেশে  ঈদে মুক্তি পায় এই তুমুল ব্যবসাসফল ছবি। একই ঈদে মুক্তি পায় আরো পাঁচটি ছবি, সেই সময়ের ক্রেজ সৃষ্টিকারী নায়িকা মৌসুমীর মুক্তি পায় মোট তিনটি সিনেমা, তিনটিই বাণিজ্যিক সফল হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে ওমর সানীর সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করা সিনেমা ‘মুক্তির সংগ্রাম’, এটি নির্মাতা উত্তম আকাশের প্রথম ছবি।

সেই সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও রুবেলের সাথে প্রথমবারের মত পর্দায় হাজির হন মৌসুমী, ছবির নাম ‘ভাংচুর’। তাঁর অভিনীত আরেকটি হিট হওয়া ছবি ‘সংসারে সুখ দু:খ’ তে মূল ভূমিকায় ছিলেন শাবানা ও আলমগীর। এছাড়া বাকি দুইটা মুক্তি পাওয়া ছবি বুকের ধন ও বাংলার কমান্ডো, বাণিজ্যিক ভাবে সফলতা পায় নি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।