‘অক্ষয় আমাকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলেছে’

অক্ষয় কুমার আর শিল্পা শেঠির তখন কেবল ছাড়াছাড়ি হয়েছে। শিল্পা খুব ভেঙে পড়েছিলেন। পরে শিল্পা বলেছিলেন, ‘ওটা আমার জন্য খুব শক্ত একটা সময় ছিল। আমি খুবই খুশি যে এখন অন্ধকারটা কেটে গেছে। কালো মেঘের পর রুপালি আলো তো হাসবেই। বিষয়গুলো আমার ব্যক্তিগত ও পেশাদার ক্যারিয়ারকে বিপর্যস্ত করছিল। অবশেষে আমি সব কিছু পেছনে ঠেলে সামনে এগোতে পারলাম। ‘

আরো বলেছিরেন, ‘আমার কি ভেঙে পড়ার কোনোই কারণ ছিল না? যখন আপনি এমন একজনকে ভালবাসবেন যে কি না আপনার পেছনে আরেকজনকে মন দিয়ে বসবে, তখন ব্যাপারটা যথেষ্ট বিরক্তিকর।  আমি কখনো ভাবিনি যে ও ডাবল টাইমিং করতে পারে, সেটাও আবার আমার সাথে সম্পর্কে থাকা অবস্থায়।’

শিল্পা আর অক্ষয়ের অভিনীত শেষ সিনেমা ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধাড়কান’। এই সিনেমা মুক্তির আগেই তাঁদের ব্রেক-আপ হয়। সিনেমা মুক্তি সন্নিকটে বলেই তখন মুখ খুলেননি শিল্পা, তাতে সিনেমাটার ব্যবসা হুমকির মুখে পড়তে পারতো। পরে শিল্পা বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, আগে আমাদের সিনেমাটা ঠিকঠাক মত মুক্তি পাক। যাতে করে প্রযোজকরা কিছু না বলতে পারে। আমি তো নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কারণে তাঁদের বিরক্ত করতে পারি না। তাই ‘ধাড়কান’ শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করছিলাম।’

কিভাবে ও কেন এই জুটির ব্রেক আপ হল – সেসব নিয়ে তখন মুখরোচক সব গল্প ছাপা হত গণমাধ্যমে। শিল্পা নিজেও বিস্তর কথা বলতেন। অক্ষয় তো এসবে ক্ষেপে গিয়ে জনসম্মুখে বলেছিলেন, ‘শিল্পার এখন এসব তামাশা বন্ধ করা উচিৎ।’ শিল্পা জবাবে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ওটা তাঁর মন্তব্য, আমার নয়। ও যা করেছে, তার পর আর কিই বা বলবে। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো দ্বিমত নেই। কেউ একজন তো লাগবে যে কিনা মানুষকে তাঁর ব্যাপারে জানাবে, বাকি মেয়েদের সাবধান থাকতে বলবে।’

শিল্পা যেন তখন নিজের রাগকেও নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন না। এক সাক্ষাৎকারে বলে বসেন, ‘আমি খুবই রেগে ছিলাম, ওকে এটা জানিয়ে দেওয়া দরকার যে খুন করে কেউ পার পেয়ে যেতে পারে না।’ এমনকি এরপর টুইঙ্কল খান্নার সাথৈও কথা হয় শিল্পার। শিল্পার সাথে ব্রেকাপের পর এই টুইঙ্কলকেই বিয়ে করেন অক্ষয়। শিল্পা বলেন, ‘না ওকে (টুইঙ্কল) নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। কেউ আমাকে ধোঁকা দিলে ওর কি দোষ। আরেকজন নারীকে দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। পুরোটাই অক্ষয়ের দায়।’

অক্ষয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বোমাস্বরূপ যে মন্তব্যটি শিল্পা করেন তা হল, ‘অক্ষয় আমাকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলেছে। এরপর অন্য কাউকে খুঁজে পেয়েছে। একমাত্র তাঁর ওপরেই আমার যত ক্ষোভ। একদিন ও এর ফলাফল টের পাবে।

এমন মুখ কালাকালি চলেছে অনেকদিন। শিল্পাও পরে নিজের জীবনে ঘুরে দাড়িয়েছেন। নিজের অতিত ভুলিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অতিতকে ভোলা খুব সহজ নয়। তবে, আমি খুশি যে, ঘুরে দাঁড়ানোর মত মানসিক শক্তিটা আমি সঞ্চয় করতে পেরেছিলাম। আমি সব ভুলে গেছি। ওর সাথে আমি আর কাজ করবো না। এখন ব্যাপার গুলো আগের চেয়ে অনেক সহজ।’

২০০৯ সালে নিজের নতুন জীবনে পা রাখেন শিল্পা শেঠি। বিয়ে করেন ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাকে। রাজকীয় এক বিয়ে হয় দু’জনের। ২০১২ সালে এই দম্পতির একটা ছেলে হয়। শিল্পা আর অক্ষয়ের মধ্যকার সম্পর্কও এখন সহজ হয়ে গেছে। শিল্পার বাবা যখন মারা যান, তখন পাশে দাঁড়াতে বন্ধুর মত ছুটে যান অক্ষয়!

– বলিউড বাবল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।