নায়িকা নয়, অভিনেত্রী হয়েই কাজটা করেছি: শানু

বাংলাদেশের প্রথম লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার তিনি। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় আগে তাঁর নামের শুরুতে যুক্ত হয়েছিল ‘সুপারস্টার’ শব্দটি। সিলেটের এমসি কলেজে ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে পড়ার সময় তিনি চলে আসেন পাদপ্রদীপের আলোয়।

তাঁর বাবা ‘এ কে শেরাম’ একজন বিশিষ্ট মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্য গবেষক। বাবার ছোঁয়ায় মেয়ের মাঝেও রয়েছে সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। শোবিজে আলো ছড়ানো মেয়ে কবিও বটে। টেলিভিশনের পর্দায় শুধু নয় তিনি আলোকিত করেছেন সাহিত্যের অঙ্গনও। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর তিনটি কবিতার বই।

তিনি শানু, আমাদের ‘দেবী’, শানারেই দেবী শানু। ছোটপর্দার শানু কেন বড়পর্দায় নেই তা নিয়ে কম আক্ষেপ ছিলো না দর্শকের। শানুর কেন যেন সবকিছু হচ্ছিলো না। তবে সে আক্ষেপ ঘুচলো বলে। তিনি বড়পর্দায় হাজির হচ্ছেন, নায়িকা হয়ে, এতদিন পরে।

কেএইচকে প্রোডাকশনের ছবি ‘মিস্টার বাংলাদেশ’-এর নায়িকা শানু, তার চরিত্রের নাম ‘কুমু’; তার বিপরীতে ‘জাগো’ খ্যাত খিজির হায়াত খান।

কেমন ছিল চিত্রনায়িকা শানুর যাত্রা? এক সন্ধ্যায় আন্তরিক পরিবেশে অলিগলি.কমের কাছে শানু তুলে ধরলেন তার ‘মিস্টার বাংলাদেশ’-এর ‘কুমু’ হয়ে ওঠার গল্প।

‘মিস্টার বাংলাদেশ’র সাথে যুক্ত হওয়ার গল্প

অন্য একটি প্রজেক্টে কাজ করার কথা ছিল একই প্রোডাকশন হাউজের সঙ্গে, তা হয়নি। তবে এটি হলো। হলি আর্টিজানের হামলায় নিহত হয়েছিলেন খিজির হায়াত খানের কাছের বন্ধু ইশরাত আখন্দ। সে ঘটনার আলোকে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ নির্মাণের চিন্তা করেন তিনি। এ প্রজেক্টে অনেক ঝুঁকি ছিল, তবুও রাজি হলাম। নায়িকা নয় একজন অভিনেত্রী হয়েই কাজটা করেছি।

প্রথম সিনেমা . . .

প্রথম সিনেমা ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ বিশেষ কিছু। ঠিক যেমন ছিল প্রথম কবিতার বই, প্রথম যখন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার হওয়া, অনুভূতিগুলো খুবই ভালো লাগার জায়গাজুড়ে। আবার প্রচারণার জন্য নানান জায়গায় নানানভাবে ছুটে চলা, সবকিছুই প্রথম। এই যে ছোট ছোট নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, সবকিছুই ভালোলাগার, ভালোবাসার। সারাজীবনের স্মৃতিতে জমা হয়ে রইলো বিশেষকিছু হয়ে।

নায়ক, সহশিল্পী, প্রযোজক খিজির হায়াত খান সম্বন্ধে

তাঁকে চেনা একজন পরিচালক হিসেবে। একজন পরিচালক অভিনয়টা সবচেয়ে ভালো বোঝেন। ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবিটি তাঁর ভাবনাপ্রসূত। ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে তিনটি অধ্যায়, জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজের প্যাশনের জায়গা থেকে তিনি কাজটা করেছেন, ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ছবির ইব্রাহিম চরিত্রটিকে নিজের মাঝে ধারণ করেছেন। ফিজিক্যাল ট্রেনিং হতে শুরু করে স্টান্টম্যান ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ শট দিয়েছেন। সকলেই ভালোবাসার জায়গা থেকে কাজটা করেছেন, একটি ভালোবাসার নাম ‘মিস্টার বাংলাদেশ’।

নায়কের সাথে রসায়ন . . .

‘কুমু’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, একজন ইব্রাহিমের ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ হয়ে ওঠার পেছনে ‘কুমু’র ভালোবাসার অবদান সবচেয়ে বেশী। পুরো গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘কুমু’র ভালোবাসা। চেষ্টা ছিল সর্বোচ্চ, বাকিটুকু বিচারের ভার দর্শকের।

কুমার বিশ্বজিৎ’র গানে অভিনয় . . .

রোমান্টিক গানে অভিনয়, বিপরীতে নির্মাতা খিজির হায়াত খান। কখনো মনে হয়নি আমি একজন নির্মাতার সাথে অভিনয় করছি, মনে হয়েছে আমি ‘কুমু’ ও আমার ‘ইব্রাহিম’। এখনো গানটি দেখলে মনে হয় আমি তো ‘কুমু’! পুরো যাত্রা জুড়েই এ ঘোর চলছে।

শাহরিয়ার সজিবের চরিত্র . . .

খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সজিব। তরুণ প্রজন্মকে ম্যানিপুলেট করে জঙ্গীবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো নেতিবাচক চরিত্রে তিনি যে ইফোর্ট দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। দর্শক বুঝতে পারবেন তিনি কত ভালো কাজ করেছেন।

সিনেমার প্রচারণা . . .

বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরে আসছে। সাম্প্রতিক কিছু চলচ্চিত্রের সাফল্য সে কথাই বলে। যেমন – পোড়ামন ২, দেবী, স্বপ্নজাল, আয়নাবাজী, মনপুরা ইত্যাদি। প্রমোশান করা ইমপর্টেন্ট, কারণ দর্শককে জানাতে হবে যে আমরা এত সুন্দর একটি ফিল্ম বানিয়েছি যাতে তারা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে। একজন নির্মাতা যে শ্রম, ভালোবাসা, আবেগ দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে সেটিকে অ্যাপ্রিশিয়েট করে হলেও হলে গিয়ে সিনেমা দেখা উচিৎ।

ছোটপর্দা থেকে সিনেমায় পদার্পণ . . .

ইচ্ছে ছিল আরো আগে সিনেমায় আসার। সবারই তো ইচ্ছে থাকে টেলিভিশন, মঞ্চ বা বেতারে কাজ করার, যেকোন মাধ্যমই হোক। আমারও ছিল, হয়নি কারণ ব্যাটে বলে মিলছিলো না। এবার মিলে গেল।

সিনেমায় নিয়মিত হওয়া প্রসঙ্গে . . .

ইচ্ছে আছে আরো কাজ করার। বিশেষ করে অ্যাকশনধর্মী কোন ছবির কাজ। সে ছবিতে বর্তমানের যে কেউ কাজ করতে পারেন, ফিট কোন নায়ক। হতে পারেন আরিফিন শুভ কিংবা অন্য কেউ।

পাঠকের জন্য . . .

আপনারা হলে গিয়ে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ দেখবেন। সিনেমা হয়তো পরেও দেখা যায় টিভি প্রিমিয়ারে, কিন্তু হলে গিয়ে দেখলে যে উৎসব উৎসব ভাব থাকে তা পাওয়া যায় না। আমার অনুরোধ আপনারা হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।