২৮ বছর পর…

১৯৯০ সালের নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস। সেবার শ্যুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। কাণ্ডারি ছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি।

এরপর থেকে শ্যুটিংয়ে পিস্তলের ইভেন্টে আর কখনো খুব একটা আলোচিত হয়নি বাংলাদেশের নাম। এবার সেই অচলায়তন ভাঙলেন এক তরুণ। তিনি হলেন, শাকিল আহমেদ। তিনি অস্ট্রেলিয়ার গোলকোস্টে চলমান কমনওয়েলথ গেমসে উজ্জ্বল করলেন বাংলাদেশের নাম।

২৮ বছর বাদে কোনো পিস্তলের ইভেন্টে পদক পেল বাংলাদেশ। ৫০ মিটার পিস্তলে রূপা জিতে সেই অচলায়তন ভাঙলেন শাকিল। শাকিলের মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে, সেটা তিনি দু’বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসেই পরিস্কার করে দিয়েছিলেন।

সেবার, ফেব্রুয়ারিতে গুয়াহাটির কাহিলিপাড়া শুটিং রেঞ্জে ইতিহাস পাল্টেছিলেন তিনি। জিতেছিলেন বাংলাদেশ শ্যুটিংয়ে ফ্রি পিস্তল ইভেন্টের প্রথম আন্তর্জাতিক সোনা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই শ্যুটার এবার নিজেকে প্রমাণ করলেন আরো বড় মঞ্চে।

খুলনার ছেলে শাকিলের ফাইনাল স্কোর ২২০.৫। আব্দুল্লাহ হেল বাকির মত তাঁকেও হারতে হয়েছে এক অস্ট্রেলিয়ানের কাছে। সোনা জিতেছেন অজি শ্যুটার ড্যানিয়েল রেফাকোলি। ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের ওমপ্রকাশ মিথারওয়াল।

অ্যাথলেটিকের অন্যান্য ইভেন্টের চেয়ে শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্য বরাবরই বেশি। তবে, সেটা বাকিদের ‍তুলনায় হয়তো কিছুই না। সেদিক থেকে এবারের কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটিংয়ে জোড়া রূপা নিশ্চয়ই বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।

আর সেই প্রাপ্তিটা কত বড় সেটা বোঝা গেল শাকিল পোডিয়ামে ওঠার পর। সঞ্চালক চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘শাকিল, দ্য ন্যাশনাল হিরো অব হিজ কান্ট্রি।’ আরেকটি বার গর্বে আমাদের বুকটা ফুলে উঠলো। আরেকটিবার ভিনদেশে গর্বিত হল বাংলাদেশ!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।