বিসিবি-সাকিব দ্বন্দ্বের কাটতি আর না বাড়াই!

সাকিব আল হাসানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটের পতন নিয়ে আমি নিঃসন্দেহ। আমার এমন চিন্তার কারণ ব্যাখ্যা করছি।

আইসিসি থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে, সাকিব তা গত আগস্টেই জেনে গিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, ক্যারিয়ার বেশি দূর নেই। তাই দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে বিসিবিকে একটা ঝাঁকুনি দিতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই দেশের ক্রিকেটের উন্নতির অন্তরায় এবং যা যা করা দরকার, তা চিহ্নিত করেছেন। তারপর ক্রিকেটারদের একত্রিত করেছেন।

তিনি জানতেন, দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো পরিবর্তন করতে হলে, লিগগুলোয় নিম্নমানের আম্পায়ারিং, পাতানো খেলা আর দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে বিসিবিতে বড় ঝাঁকুনি প্রয়োজন। কারণ বোর্ড ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষা নিয়ে ভাবিত নয়। নিজে নেতৃত্ব দিয়ে ক্রিকেটারদের আন্দোলনে এনে প্রথমে ১১ দফা, পরে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

৬৬ এর ছয় দফা যেমন বাঙালির মুক্তির দাবি ছিল, ওইভাবে অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মুক্তির সনদ ওই ১৩ দফা। সব দাবি পূরণ না হলেও, বেশিরভাগই বিসিবি মেনে নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি এবং ভাতা বেড়েছে। নারী ক্রিকেটারদের বেতন অল্প হলেও বেড়েছে। তাই, সকল ক্রিকেটারের নেতা সাকিব আল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

এবার ব্যাখ্যা করি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের পতন নিয়ে কেন আমি নিঃসন্দেহ। এখন সকল ফোকাস আইসিসির দেওয়া সাকিবের ওপর নিষেধাজ্ঞার ওপরেই থাকবে। এতে করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে শুদ্ধি অভিযানের এক পার্সেন্ট সম্ভাবনাও আর থাকলো না। লুটে-পুটে খাওয়া লোকগুলো, বিসিবির নির্বাচনে ভোট বাড়াতে প্রতিটি লিগ ধ্বংস করা লোকগুলো বহাল তবিয়তে থাকবে। এবং তাদের কাজগুলোও চলতে থাকবে।

সাকিবের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের ১৩ দফার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, বহু বছর আলোচনাতেই আর আসবে না। আজকের সংবাদ সম্মেলনে রাজা ভাইয়ের করা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরে ব্যাপারটা আরও নিশ্চিত হয়েছি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের আজকের এই অবস্থানে আসতে ক্রীড়া সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যমের অনেক বড় ভূমিকা আছে। ক্রিকেটারদের আন্দোলন এবং এর পরের এক সপ্তাহে আমার পর্যবেক্ষণ বলছে, সিনিয়র সাংবাদিকদের বেশিরভাগই ক্রিকেটের পক্ষে থাকেনি। ক্রিকেটারদের পক্ষে থাকেনি।

১৩ দফার মূল বিষয়গুলো -অর্থাৎ ক্রিকেট কাঠামোর পরিবর্তন বিষয়ে বড় পত্রিকার পাতায়, টেলিভিশন চ্যানেলের রিপোর্টে তেমন উচ্চ-বাচ্য বা বিচার-বিশ্লেষণ দেখিনি। সবারই ফোকাস ছিল বিসিবি প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎকার নেয়ার দিকে। তাতে ক্রিকেট কাঠামোর উন্নয়ন এবং বোর্ডে দুর্নীতির বিষয়গুলো চাপা পড়েছে। কেউই এসব নিয়ে তেমন প্রশ্ন করেনি। সামনে এসেছে বিসিবি বনাম সাকিব আল হাসান দ্বৈরথ।

মিডিয়া ক্রিকেটারদের আন্দোলনের মূল ফোকাস ইচ্ছে করে আড়াল করেছে নাকি বিসিবি-সাকিব দ্বন্দ্বের কাটতি বেশি হবে বলে ওইদিকে মনোযোগ দিয়েছে, বোঝা মুশকিল। প্রথমটি হলে খুব ভয়ানক ব্যাপার। কারণ তাতে প্রমাণ হয়, দেশের ক্রিকেটের চেয়ে বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখা সাংবাদিকদের জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে এই প্রশ্নেরও জন্ম দেয়, গত এক সপ্তাহে অনেকেই বোর্ডের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সহায়ক হননি তো?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।