কোহলি-স্মিথ হতে হবে না, কিন্তু সাকিব-তামিম তো হওয়া যায়, নাকি?

তামিমের ইনিংসটি হয়তো আমরা কখনোই ভুলব না। তবে আমার মনে আরও বেশি গেঁথে গেছে ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে বলা তামিমের কিছু কথা। শুনবেন?

‘আজকের ইনিংসের সবচেয়ে ভালো ব্যাপার যেটি ছিল, আপনারা নর‍ম্যালি দেখেন, বড় ম্যাচে সবসময় বিদেশী ক্রিকেটাররাই ভালো খেলে, পারফর্ম করে। সেমিফাইনাল-ফাইনালে তারাই ম্যাচ জেতায়। আজকে একজন বাংলাদেশী জিতিয়েছে, এটিই আমার সেরা অর্জন আজকে। কত রান করেছি, কত কিছু করেছি, এসব ব্যাপার না। কিন্তু বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার আজ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। এর চেয়ে বড় কিছু আমার কাছে আর হতে পারে না।’

‘আশা করি, আমার ইনিংস দেখে অন্য আরও অনেকে, জুনিয়র যারা আমার সঙ্গে খেলে, ওরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে যে বিদেশীদের দিকে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে না, নিজেরাই করতে পারি। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

_______________

নিজের প্রথম বিপিএল ফাইনাল, প্রথম বিপিএল শিরোপা, প্রথম বিপিএল সেঞ্চুরি। এক ইনিংসে একগাদা রেকর্ড। অথচ এসব কিছুই না, তামিম ইকবালের কাছে এই ম্যাচের সেরা অর্জন, বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার ম্যাচের নায়ক হয়েছে। দেশের ক্রিকেটে একটা নজির গড়তে পেরেছেন। এমন কিছু করেছেন, দেশের অন্যরা যেটি দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

আমরা তো ফেসবুকে অনেক দেশপ্রেম দেখাই। ক্রিকেট প্রেম দেখাই। দেশের ক্রিকেট নিয়ে চিন্তায় কাতর হই। এই তামিমদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলি, তাদের ক্রিকেট শেখাই, দেশপ্রেম শিখাই, আরও কত কিছু! অথচ দেখুন তো, একটু ওদের মতো আমরা ভাবতে পারি কিনা?

ক্রিকেট মাঠে সাফল্য আরও আসবে তাদের, ব্যর্থতাও অনেক আসবে। তো, নিবেদন বা দেশপ্রেম নিয়ে যখন প্রশ্ন করব, আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা যে বুলি আওড়াচ্ছি, তারা সেটি করে দেখাচ্ছে। নিত্য করছে। দিনের পর দিন করছে। দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে ঘাম ঝরাচ্ছে। নিজেদের উজার করে দিচ্ছে। কখনও সেটির ফল উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে, কখনও আঁধারে ডুবে যায় বা আড়ালে পড়ে থাকে। কারণ, খেলাধুলায় এটা হয়ই। কিন্তু নিবেদনটা থাকেই।

আমরা জানপ্রাণ দিয়ে কি-বোর্ড চেপে জ্ঞান বিতরণ করি, তাদের গুষ্ঠি উদ্ধার করি, এটাই দেশের প্রতি আমাদের নিবেদন। আমাদের দেশপ্রেমের নিদর্শন। হাওয়াই দেশপ্রেমে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। তারা গায়ে-গতরে, মননে-মানসিকতায় নিবেদনের প্রমাণ দিয়ে যায়।

_______________

যে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য তামিম কথাগুলি বললেন, যাদের অনুপ্রেরণা জোগালেন, তারা কি শুনছেন? দেখছেন? বুঝছেন? সত্যিই অনুপ্রাণিত হয়েছেন? তামিমের মতো কিছু করার জেদ মনে ধারণ করেছেন?

বহুবার বলা কথাটি এই প্রসঙ্গে আবারও বলতে হয়। কোহলি-স্মিথদের দিকে তাকিয়ে হাহাকার না করলেও চলবে। ওরা হয়তো দূর আকাশের তারা। কিন্তু আপনার ড্রেসিং রুমে দেশের ক্রিকেটের যে পাঁচ মহানায়ক আছেন, তাদের দিকেই দেখুন না!

আপনার-আমার চোখের সামনেই তারা কিভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছে, দেশের ক্রিকেটকেও নিয়ে গেছে পরের পর্যায়ে। কোহলির মতো কোনো টেন্ডুলকার রোল মডেল তাদের সামনে ছিল না। দেশের ক্রিকেটের ভদ্রস্থ কোনো জায়গা ছিল না আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তার পরও তারা পেরেছেন। কোনো জাদুর ছোঁয়া নয়, রকেট সায়েন্সও নয়। তীব্র তাড়না ও আকাঙ্ক্ষা, বড় স্বপ্ন লালন করা আর সেটিকে পাওয়ার জন্য পরিশ্রম, ত্যাগ, নিবেদন। এই তো!

কোহলি-স্মিথ হতে হবে না, কিন্তু সাকিব-তামিম তো হওয়া যায়, নাকি?

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।