নোবেল করলে লীলাখেলা, সাকিব-শাকিব করলে পাপ

মঈনুল আহসান নোবেল, ঢাকার ছেলে। ভারতের জি বাংলায় প্রচারিত ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠানের এই প্রতিযোগী নিয়মিত ওপার বাংলার মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন, সুনাম কুড়াচ্ছেন। তাঁর গাওয়া জেমসের ‘বাবা’ গানটা প্রচণ্ড আলোচিত হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সুবাদে ভাইরালও হয়েছে।

কলকাতার রাস্তায় এখন তাই নোবেলের বড় বড় বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। নি:সন্দেহে এই খবরগুলো আমাদের গর্বিত করে। নোবেলের কণ্ঠটা ভিন্নধর্মী, সেই সুবাদেই তিনি এতটা আলোচিত। একটা সময় হয়তো তিনি পশ্চিমবঙ্গেই ক্যারিয়ার গড়বেন। হয়তো ওপারের সিনেমাতে নিয়মিত তাঁর গান শুনবো আমরা। হয়তো, বাংলাদেশে খুব বেশি কাজও করা হবে না।

ব্যাপার হল, তখনও যেন তাঁকে নিয়ে এখনকার মত আমাদের গর্ববোধ থাকে!

এই ‘সৌভাগ্য’টা অনেকেই হয়নি। এই যেমন, নায়ক শাকিব খান। ঢাকার সিনেমার সাথে তিনি প্রায় সমান তালেই কাজ করে চলেছেন টালিউডে। দেব, জিৎ, সোহম ইত্যাদি প্রথম সারির নায়কদের সাথে পাল্লা দিয়ে সিনেমা করছেন। সেসব সিনেমাগুলো বেশ ব্যবসাও করছে।

কিন্তু, দুর্ভাগ্য শাকিবের। এই করতে গিয়ে ভক্তদের একটা অংশকে নিজের নিন্দুকেও পরিণত করেছেন  বাংলাদেশের কিং খান। তাদের দাবী বাংলাদেশই শুধু সাকিবের একমাত্র দাবীদার, অন্য কেউ নয়। এটা এক রকমের ছেলেমানুষী। তবে, আশার ব্যাপার হল এমন ভাবা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি নয়। আবার নেহায়েৎ কমও নয়। একই রকম কথা বার্তা জয়া আহসানকে নিয়েও বিস্তর হয়, যিনি এখন কলকাতার বিকল্প ধারার সিনেমাগুলোতে নিয়মিত এক চরিত্র। এর আগে একই রকম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে নায়ক রাজ রাজ্জাক কিংবা ফেরদৌসকেও।

কিংবা, যদি বলি সাকিব আল হাসানের কথা। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার এখন বিশ্বজুড়ে চলমান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোর অন্যতম পরিচিত মুখ। কখনো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), কখনো ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), কখনো বা পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলে চলেছেন তিনি। এসব করতে গিয়ে প্রায়ই জাতীয় দলের ক্যাম্প মিস করেন, অনুশীলনে কম সময় দেন, ঘরোয়া লিগ খেলেন না।

ফলে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে সাকিবের পারফরম্যান্সটা আমরা দেখি না, আমরা দেখি তিনি ‘টাকার জন্য খেলেন’। যেখানে সাকিবের এই বিশ্বমানের ক্রিকেটার হয়ে ওঠা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিৎ সেখানে আমরা তাঁর অযাচিৎ সমালোচনা করি। এমনকি ‘সাকিব দেশের জন্য নয়, নিজের জন্য খেলেন’ – এমন কটু কথা বলতেও ছাড়ি না’। অথচ, সেই সাকিব দেশের জন্য টানা খেলতে গিয়েই আঙুলের বড়সড় এক ইনজুরিতে পড়েছেন, যার কারণে তাঁর বিশ্বকাপ খেলাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

কিংবা মুস্তাফিজুর রহমানের কথাও বলা যায়। যার যেকোনো ইনজুরি হলেই আমরা দোষ দেই আইপিএলকে। এসব যেন, নোবেলের ক্ষেত্রে না হয়। শিল্প একটা বৈশ্বিক ব্যাপার। সেটা নোবেল বিশ্বের যে দেশে করেই সুনাম কুড়াক না কেন, শেষ অবধি বাংলাদেশ তাঁকে নিয়ে গর্বিতই হবে, এই সহজ কথাটা এখন যেমন মানছে, ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতেও আশা করি মানবেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।