জয়সুরিয়া-শচীন পারলে, সাকিব-মুশফিক কেন নয়!

ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা ওপেনারদের সংক্ষিপ্ত একটা তালিকা করলে তাতে ওপরের দিকেই থাকবে সনাথ জয়াসুরিয়ার নাম। অথচ, মজার ব্যাপার হল ক্যারিয়ারের প্রথম তিন বছর তিনি ওপেনিংয়ে নামার সুযোগই পানই। অধিকাংশ সময় ব্যাট করেছেন ছয় বা সাতে। কখনো পাঁচ এমনকি আট নম্বরেও ব্যাট করেছেন।

আস্তে আস্তে তাঁর প্রমোশন হয়। ১৯৯৩ সালের দুই সেপ্টেম্বর কলম্বোতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম তিন নম্বরে ব্যাট করেন মাতারা হারিকেন। প্রথম দফাতেই সাফল্য আসেনি। আবার নেমে যান ছয়-সাতে। অক্টেবরে শারজাহতে পেপসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন।

এতদিন যে ব্যাটসম্যান কোনো হাফ সেঞ্চুরিরই দেখা পাননি, তিনি এবার করে ফেললেন জোড়া হাফ সেঞ্চুরি, সেটাও আবার তিন নম্বরে ব্যাট করে। টিম ম্যানেজমেন্ট এবার নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হল।

তারপরও তিন নম্বর পজিশনে তিনি স্থায়ী হলেন না। সেখান থেকে ওপেনিং পজিশনে চেষ্টা করা হল। ওই দুই হাফ সেঞ্চুরির ঝলক আর দেখা গেল না। ফলাফল, আবারো তাঁকে নেমে যেতে হল পাঁচ-ছয়ে।

১৯৯৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সফরে আবারও হুট করে ওপেনিংয়ে সনাথ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনি করলেন তিনটা হাফ সেঞ্চুরি।

এরপরে আর তাঁকে ও শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিয়মিত ওপেনিং করে তিনি কালক্রমে হয়ে উঠেছেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম বিধ্বংসী এক ওপেনার। শ্রীলঙ্কা দলকে এনে দিয়েছেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপের শিরোপা।

ওয়ানডে ক্যারিয়ার যখন শেষ করেছেন তখন তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ২৮ টি সেঞ্চুরি, ৬৮ হাফ সেঞ্চুরি ও ১৩,৪৩০ রান। জয়াসুরিয়া ছিলেন প্রথাবিরুদ্ধ ব্যাটসম্যান। নিজের ব্যাটিং স্টাইল দিয়ে তিনি মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন।

ব্যাটিংয়ের ধরণে শচীন টেন্ডুলকার ছিলেন পুরোপুরি আলাদা। আধুনিক ক্রিকেটে শচীন ছিলেন টেকনিকের মাস্টার। যেকোনো বোলিং অ্যাটাক, যেকোন উইকেটে, যেকোনো পজিশনে তিনি ছিলেন কার্যকর।

ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন প্রকৃত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। নিয়মিত ব্যাট করতে নামতে পাঁচে। সেখান থেকে প্রমোশন পেয়ে চারে খেলেছেন। কালক্রমে ওপেনার হয়েছেন। আবারো দলের প্রয়োজনে চারে গেছেন, ফিরে এসে আবারো ওপেন করেছেন। শেষ অবধি থিঁতু হয়েছেন ওপেনিংয়েই।

ওয়ানডেতে শচীনের রান ১৮,৪২৬। সেঞ্চুরি ৪৯ টি। হাফ সেঞ্চুরি ৯৬ টি। এমনি এমনি তাকে কিংবদন্তি বলা হয় না।

কীর্তির দিক থেকে না হোক, অন্তত ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের দিক থেকে জয়াসুরিয়ার সাথে সাকিব আল হাসান ও শচীনের সাথে মুশফিকুর রহিমকে মেলানো যায়। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজের সবচেয়ে বড় কারণ হল ওপেনিং জুটি। সেখানে অফফর্মে থাকা প্রথাগত ওপেনারের চেয়ে কি ফর্মে থাকা কাউকে ‘মেক শিফট ওপেনার’ হিসেবে কাজে লাগানো যায় না?

মুশফিক অবশ্য আগেও ওপেন করেছেন। ২০১১ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মুশফিক করেছিলেন ৯৮ রান। ফলে, ওপেনিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর যে বেশ ভালই আছে সেটা না বলে দিলেও চলে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে তামিম ইকবালকে বাদ দিলে এই সাকিব, মুশফিক বা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই সব ধরণের বোলিংয়ের বিপক্ষে সমান পারদর্শী। বা বলা ভাল, তাঁদের পারদর্শীতা অন্যদের চেয়ে ভাল। সেক্ষেত্রে তাঁদের কাউকে সুযোগ দিয়ে দেখা যেতে পারে।

জয়সুরিয়া-শচীন পারলে, সাকিব-মুশফিক কেন নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।