চুক্তিটা কি তাহলে ‘নন-ক্রিকেটার’ সাকিবের!

আজ গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হবার চুক্তি করলেন সাকিব। খুব ভালো খবর। ৩-৪-৫ কোটি টাকা পাবেন। আরো ভালো খবর।

কিন্তু আমার কৌতুহলী মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে। আজকের দিনে যখন হাসিমুখে চুক্তি করলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই সাকিবের। কারণ সবার ‘অধিনায়ক’ হয়ে ক্রিকেট-ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তিটা কি তাহলে ‘নন-ক্রিকেটার’ সাকিবের? নাকি গ্রামীণফোন এবং সাকিব দুই পক্ষই জানেন, বোর্ডের সাথে এ ঝামেলা কেটে যাবে অচিরে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে কিন্তু খুব কড়া ভাষায় কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি। তাদের নমনীয় হবার ইংগিত তাতে নেই। সত্যি যদি দ্রুত ঝামেলা মিটিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরতে না পারেন সাকিব, তাহলেও কি এ চুক্তি চালিয়ে যাবে গ্রামীণফোন?

ক্রিকেটের এমন ক্রান্তিকালে সব ক্রিকেটার যখন ধর্মঘটে, ঠিক ওই সময় ‘নেতা’ হিসেবে স্পন্সরের সাথে এমন ব্যক্তিগত চুক্তি করা নৈতিকভাবে সাকিবের ঠিক হয়েছে কিনা, সে প্রশ্ন কিন্তু আমি তুলছি না।

তবে আরেকটি প্রশ্ন আছে। গ্রামীণফোন-রবি-এয়ারটেল-বাংলালিংক এমন টেলিকম প্রতিষ্ঠানের সাথে ক্রিকেটারদের চুক্তি করায় বিসিবি থেকে এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া রয়েছে বলে আমি জানি। সেটি রবি যখন জাতীয় দলের স্পন্সর ছিল, তখন কিছু কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের কারণে।

সেই নিষেধাজ্ঞা কি ক্রিকেট বোর্ড উঠিয়ে নিয়েছে? আমি জানি না। সাব্বির রহমানের ‘কুখ্যাত’ এক অ্যাডের পর বিসিবি নিয়ম করেছে- চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে স্পন্সরশিপ করার আগে বোর্ডের কাছ থেকে এনওসি নেয়া বাধ্যতামূলক। গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তির আগে সাকিব সেটি নিয়েছেন? আমি জানি না। যদি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া গ্রামীণফোনের সাথে এ চুক্তি করেন সাকিব – তাহলে জল গড়াবে আরো অনেক দূর।

  • বি. দ্র

‘আপনি কি তাহলে চান না, বোর্ডের সাথে ক্রিকেটারদের বিরোধ কেটে যাক’ কিংবা ‘ক্রিকেটাররা স্পন্সরদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়াটা কি খারাপ’ অথবা ‘সাকিবকের নৈতিকতা নিয়ে কথা বলার আপনি কে?’ – এই লেখায় এমন গর্দভমার্কা প্রশ্ন না করলেই খুশি হব।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।