সাকিব, জিপিএ ফাইভ ও বাঙালি মধ্যবিত্তের ক্যারিয়ার ভাবনা

সাকিব আল হাসান এইচএসসিতে এ প্লাস পাননি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্সও পাননি। কিন্ত তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে ৬০০+ রান আর ১০+ উইকেট পাওয়া প্রথম ও এক নম্বর ব্যাটসম্যান। এই মুহূর্তে কোনো সন্দেহ ছাড়াই সাকিব বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার।

এই সাকিবকে দেখে কেউ কেউ ঈর্ষাকাতর হতে পারেন। বলতে পারেন, আজ ভাগ্য সহায় থাকলে আপনিও হয়তো ফাঁটিয়ে দিতেন। কিন্ত, সাকিবের অর্জন কিন্তু আকাশ থেকে টপ করে নেমে আসে নাই!

সাকিব এতদূর শুধু প্রতিভা বা ভাগ্যের জোরে আসেননি। প্রতিভার সাথে সাথে পরিশ্রম, পরিকল্পনা, ও পরিকল্পনাকে মাঠে প্রয়োগ করার মেধা – সব কিছুই জরুরী। আর সাকিব এর সবগুলাই ঠিকঠাকমত করতে পেরেছে। সাকিবের ফিল্ডে এগুলোকেই স্টাডি বলে। ওখানে বই পড়ার চেয়ে ম্যাচ ‘রিড’ করতে পারাটা বেশি জরুরী।

বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর সাকিব কিভাবে সংগ্রাম করতেন-হিমশিম খেতেন, সেটা নিজ মুখে একবার তাঁর মা-কে বলতে শুনেছি। বলতে বলতে সাকিবের মা কেঁদেছেন। সেই কান্নায় কষ্ট ছিল না কোনো, ছিল নিজের ফয়সালের জন্য গর্ব। আজকের যে রাফ অ্যান্ড টাফ সাকিবকে দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি – সেটা তিনি হুট করে হয়ে যাননি। কিশোর বয়স থেকে পরিস্থিতির শিকার হতে হতে হয়েছেন।

বিকেএসপিতে নিজের রুমে সাকিব একা একা কাঁদতেন, হোস্টেল পালিয়ে বাড়ি চলে আসতেন। ছেলের কষ্টে মায়ের বুক ফেঁটে যেতো। তখন সাকিবের মা সেটা ছেলেকে বুঝতে দিতেন না। অনেক বড় কিছু অর্জনের জন্য এই ‘সামান্য’ ত্যাগ যে ছেলে-মা কিংবা পরিবারকে করতেই হবে!

নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আমি-আপনি কিংবা আমাদের বাঙালি  মধ্যবিত্ত পরিবার কি এমন ত্যাগ করছে? বা আমাদের পরের প্রজন্ম বা আগের প্রজন্মই বা কি করেছে বা করছে? আদরের সন্তানকে পাঠাবেন না তো বাড়ির বাইরে?- সাকিবও কিন্তু কম আদরের ছিলেন না কোনো কালেই। আদরের ছিলেন বলেই তাঁকে ঘিরে স্বপ্নটাও ছিল বেশি। এভাবে আমরা ভাবতে পারি না। এজন্যই আমাদের ঘরে ঘরে সাকিবদের জন্ম হয় না।

জিপিএ ফাইভ পেলে রেটিং পয়েন্ট বাড়বে, বা ব্যাটিং অর্ডারে এগিয়ে দেওয়া হবে – এমন কোনো ব্যাপার ক্রিকেটে নাই। থাকলে দেখতেন সাকিব গোল্ডেন ফাইভ তো বটেই, ১০০-তে ১০০ পেতো। এটাকে বলে ইনটেন্ট।

সেই ইনটেন্ট ক্রিকেট মাঠের মত জীবনেও দরকার। যারা এই ইনটেন্ট দেখায়ে পরীক্ষায় ভাল করে তাদের পরিশ্রম আর মেধাকে অসম্মান কইরেন না। আর যারা খারাপ করে, তাদের পিঠ চাপড়া-চুপড়ি বাদ দিয়ে বলেন নিজের জন্য সঠিক ফিল্ডটা খুঁজে বের করতে।

প্ল্যানিং শুধু সাকিবের না, সবারই দরকার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।