সাকিবই এই দশকের সেরা অলরাউন্ডার, নাকি ক্রিকেটার!

এই দশকের সেরা ব্যাটসম্যান কে? এই প্রশ্নের জবাবে আপনার মাথায় বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন, জো রুট কিংবা ডেভিড ওয়ার্নারের নাম আসবে। একইসঙ্গে দশকের সেরা বোলারের নাম জানতে চাইলে জেমস অ্যান্ডারসন, ডেল স্টেইন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন কিংবা লংকান রঙ্গনা হেরাথের নাম আসবে।

দশকের সেরা ব্যাটসম্যান বা সেরা বোলারের নাম নিয়ে অনেক তর্ক, বিতর্ক, আলোচনা করা যাবে। আসবে নানান কীর্তি, নানান নাম। কিন্তু এক জায়গায় এসে আপনাদের প্রায় বেশিরভাগের মতের হবে মিল। এই দশকের সেরা অলরাউন্ডার কে? সবাই বলতে বাধ্য থাকবে নামটা সাকিব আল হাসান।

হয়তো আশেপাশে দুর্দান্ত বছর কাটানো বেন স্টোকসের নাম আসবে, আসবে আরো কিছু নাম! কিন্তু এই দশকে সাকিবের কীর্তির ধারেকাছেও নেউ কেউ। সাকিব তার অর্জনে সমসাময়িক সব অলরাউন্ডারদের ছাপিয়ে গেছেন। অলরাউন্ডারদের দায়িত্ব অনেক। একজন ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করেন আর বোলার বোলিং। অলরাউন্ডারদের সামাল দিতে হয় দুটো দিকই। যেহেতু এই দশকে সাকিব ব্যাট হাতে সমান পাল্লা দিয়ে লড়েছেন ব্যাটসম্যানদের সাথে, বল হাতে বোলারদের সঙ্গে। সেরা অলরাউন্ডার নিশ্চয় এই দশকের সেরা ক্রিকেটারও হবেন। কারো আপত্তি নেই তো?

যথাক্রমে টেস্ট, ওয়ানডে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের এই দশকের অর্জন ও কীর্তির সাথে অন্যদের রান, উইকেটের তুলনা।

_______________

সাকিব এই দশকে টেস্টে ৪২ ম্যাচে ৪২ গড়ে রান করেছেন ৩১৪৭। এই দশকে টেস্টে সাকিবের চেয়ে বেশি রান করেছেন ৩৬ জন ব্যাটসম্যান, এরমধ্যে মাত্র একজন সাকিবের চেয়ে কম টেস্ট খেলেছেন। তাও ব্যবধান এক টেস্ট ও রান ব্যবধান ৫১। বাকী ৩৫ জনের সবাই সাকিবের চেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন। সাকিবের চেয়ে বেশি গড় ২৩ জনের, ১২ জনের ব্যাটিং গড় সাকিবের চেয়ে কম।

বল হাতে সাকিব ৪২ টেস্টে নিয়েছেন ১৬২ উইকেট। এই দশকে সাকিবের চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন ২৩ জন বোলার।

অলরাউন্ডারদের মধ্যে এই দশকে টেস্টে ১৫০০ রান ও ১০০ উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার সাকিব ছাড়া আর আটজন। কিন্তু ৩০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার বাংলাদেশের সাকিব।

এই দশকে সাকিব ১৩১ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৮ গড়ে রান করেছেন ৪২৭৬ রান। সাকিবের চেয়ে বেশি রান করেছেন ২২ জন ব্যাটসম্যান।

ওয়ানডে ক্রিকেট বোলার সাকিবের চেয়ে এই দশকে বেশি উইকেট নিয়েছেন মাত্র একজন বোলার। সাকিবের চেয়ে ৭১ উইকেট বেশি নিয়েছেন লাসিথ মালিঙ্গা যদিও ৩১ ওয়ানডে ম্যাচ বেশি খেলেছেন। সাকিব ১৩১ ম্যাচে ৩০ গড়ে নিয়েছেন ১৭৭ উইকেট।

ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের মধ্যে এই দশকে ২০০ রান ও ৫০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করেছেন মাত্র ১৫ জন। ২০০০ রানের সঙ্গে উইকেট সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হলে সে কীর্তি মাত্র ৫ জন অলরাউন্ডারের। এই দশকে ৩০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার সাকিব।

এই দশকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৬৫ ম্যাচে ২৬ গড়ে সাকিব রান করেছেন ১৪৩৮। তারচেয়ে বেশি রান করেছেন ২১ জন ব্যাটসম্যান। বোলার সাকিব আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিয়েছেন ২০ গড়ে ৭৯ উইকেট। তারচেয়ে বেশি উইকেট শুধুমাত্র দুজনের। প্রথম জনের সাথে সাকিবের ব্যবধান পাঁচ উইকেটের।

অলরাউন্ডারদের মধ্যে এই দশকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট রয়েছে মাত্র চারজনের। সেখানে রান ও উইকেটের বিচারে সাকিব ঢের এগিয়ে। সাকিব তুলনামূলক ম্যাচও খেলেছেন কম।

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এই দশকে সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩৮ ম্যাচে ৩৭ গড়ে রান করেছেন ৮৮৬১। তারচেয়ে বেশি রান ২০ জন ব্যাটসম্যান। আর বোলার সাকিব ২৩৮ ম্যাচে ২৯ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৪১৮টি। সাকিবের চেয়ে এসময়ে বেশি উইকেট ছিল ৯ জন বোলারের।

এই দশকে ব্যাটে বলে অলরাউন্ডার সাকিবের একচ্ছত্র আধিপত্য। তার রান আর উইকেটের অর্ধেকেরও কম ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ডাবল পূর্ণ করতে পেরেছেন আর মাত্র তিনজন অলরাউন্ডার। যেখানে সাকিব সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাকিব এই দশকের একমাত্র অলরাউন্ডার যিনি ব্যাট হাতে ৪০০০ রান ও বল হাতে ৩০০ উইকেট পেয়েছেন।

এই দশকের অন্যতম ব্যস্ত ক্রিকেটার ছিলেন সাকিব। এই দশকে বরাবর ১১০০০ বল ব্যাটিং করা বোলার সাকিব বল করেছেন ১৮২৩৩টি। ফিল্ডিং ছাড়া শুধুমাত্র ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে সাকিব জড়িত ছিলেন ২৯২৩৩ বলে।

এক দশক বড্ড ব্যস্ত সাকিব নিশ্চয় এখন অবসরযাপন করেছেন। তাঁর দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকলাম। থাকলাম আরেকবার জয় আর নানান কীর্তির সাক্ষী হওয়ার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।