সাকিব, বিসিবি, দেশপ্রেম আর অত্যাবেগী ভক্তকুল

সাকিব নাকি আরব আমিরাতে টি-টুয়েন্টি লিগ খেলার অনুমতি চেয়েছিলেন বিসিবি’র কাছে। বিসিবি এই ‘অতি গোপনীয়’ খবর মিডিয়ার কানেও দিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে বেশ কিছু লেখাও দেখলাম ফেইসবুকে। সব জায়গাতেই দেখলাম আবার ভিলেন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। অনেকেই সেই পুরনো মন্তব্য ঝাড়ছেন ‘দেশের চাইতে টাকা বড় সাকিবের কাছে’।

আসলেই কি শুধু বাড়তি উপার্জনের জন্য খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব? নাকি অনেক দিন খেলতে না পারায় নিজেকে একটু ম্যাচ প্র‍্যাকটিসে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন? না কি আন্তর্জাতিক ক্লাব ক্রিকেটে নিজের চাহিদাটা যাতে ফুরিয়ে না যায় তা বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন?

হ্যাঁ, টাকা কামাই নিশ্চই এই প্যাকেজের একটা অংশ। টাকা কামাই করাই তো একজন পেশাজীবির কাজ। ক্রিকেটই তো সাকিবের রুটি-রুজি।

তবে একটা ব্যাপার খুব ইন্টারেস্টিং। গত কয়েক সপ্তাহ মানে দুবাই থেকে সাকিবের ইনফেকশনে ধরা আঙুল নিয়ে দেশে আসা, তারপর অস্ট্রেলিয়া গিয়ে সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত বিসিবিকে গালি দিতে প্রতিযোগিতা লেগে গেছিলো আমাদের ক্রিকেট সমর্থক মহলে। ‘সাকিবের আংগুল আর কোনোদিন ঠিক হবে না’-র পিছনে বিসিবিকে আততায়ী বানিয়ে মিনিটে মিনিটে কাঠগড়ায় তোলা শুরু করে দিয়েছিলেন আমাদের অনেক ক্রিকেট বোদ্ধা, কিছু অতি আবেগী তরুণ সাংবাদিকও।

এখন, মাত্র সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ওই একই মানুষদের দেখছি বিসিবি’র ভক্ত হয়ে গেলেন আর সাকিবের দেশপ্রেম নিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে (কেউ কেউ সরাসরি) প্রশ্ন তোলা শুরু করলেন!

কেউ যদি দাবি করে সাকিবের কারনে যে পরিমান কথা শুনতে হয়েছে বিসিবির কর্মকর্তাদের তার প্রতিশোধ নিতেই কায়দা করে গোপন খবরটা বাজারে ছেড়ে দিয়েছে বিসিবি, তার জবাব কি দিবেন আপনি?

রিহ্যাবে বা বিশ্রামে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বাইরে খেলতে যেতে চাইলে সাকিবের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কাজটা উচিত না বলা যেতে পারে। কিন্তু দেশের প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট নেই – এমন মন্তব্য কি সুস্থ মাথায় করা যেতে পারে?

আমরা তো বাইরের লিগে খেলতে যাওয়ার ইচ্ছেটা কেন হলো সাকিবের সেই ব্যাখ্যা সাকিবের মুখ থেকেই এখনো শুনলাম না! না শুনেই রায় দিয়ে দিচ্ছি। ‘দেশের প্রতি সাকিবের কমিটমেন্ট কম, টাকার প্রতি বেশি’ এমন নোংরা ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছি?

সাকিবের দোষ-ভুল থাকতেই পারে তার নেয়া কিছু কিছু সিদ্ধান্তে। তাই বলে আমরা একটা কথা কেন ভুলে যাই মাঝেমাঝে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাকিব আল হাসান-ই আমাদের ক্রিকেটের সবচাইতে বড় অ্যাম্বেসেডর। সাকিবকে দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট চেনে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ফলো করে এমনকি বাংলাদেশের পতাকার রঙ জানে, এমন মানুষ বিদেশে এলে অনেক দেখতে পাবেন।

যে মানুষটার কাজে আর নামে বাংলাদেশ সম্মানিত হচ্ছে দেশের বাইরের ক্রিকেট অংগনে যখন-তখন, তার হাজার খুঁত বের করতে পারেন আপনি, দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না! পারেন কি?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।