সাকিবদের জন্ম হয় সেরা হওয়ার জন্যই

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটা জয়ের পিছনে টিম ওয়ার্ক ছিলো আমাদের মূল শক্তি। এই ম্যাচে শুধু সাকিবকেই বড় করে চোখে পড়তে পারে আপনার। কিছুটা হয়তো দেখবেন মুস্তাফিজও।

কিন্তু এই সহজ জয়টা গড়ে উঠেছে আমাদের বোলিংয়ের প্রথম ওভার থেকেই।

টন্টনের মাঠ অনেক ছোট। উইকেটও ব্যাটিং সহায়ক। এখানে অনেক রান হবে ধরেই রেখেছিলেন সবাই। অনেকেই জানতেন এই মাঠে ৩১০-৩২০ নিরাপদ স্কোর না। জিততে হলে সাড়ে তিনশ’ করতে হবে। আমিও তাই ভেবেছিলাম অনেকের মতো।

শেষ পর্যন্ত আমাদের পেস বোলাররা আর স্পিনার সাকিব আল হাসান কাজটা করে ফেলেছেন বুদ্ধি আর সাহস খাটিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তারা আটকে দিয়েছেন ৩৩০ এর নিচে। যা এই মাঠে চেইস করার মতো। কারণ – বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি পেতে বিগ শটে খুব বেশি পাওয়ার, টাইমিংয়ের দরকার পড়েনা এখানে সব সময়। প্র‍য়োজন পড়ে না খুব অ্যাকিউরেসিরও। অনেক মিসকিউড শট এই মাঠে সহজে ছক্কা হতে পারে যা অন্য মাঠে হবে ক্যাচের শিকার।

যাই হোক নিজের শেষ স্পেলে, ডেথ ওভারে মুস্তাফিজ দারুণ একটা ব্রেক থ্রু করে দিয়েছিলেন, তাকে যোগ্য সাপোর্ট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অন্তত ২০/২৫ রান কম করতে বাধ্য করে ফেলেছেন সাইফ। ইনিংসের একদম শেষ দিকে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য স্কোর ৩৪০-৩৫০ দেখা যাচ্ছিলো যে কোনো হিসাবে।

আমার চোখে ম্যাচের প্রধান টার্নিং পয়েন্ট আসলে শেষ ওভারগুলোয় আমাদের বোলারদের কম রান দেওয়া আগ্রাসী বোলিং।

ফিল্ডিংয়েও খুব স্পিরিটেড ছিলো আমাদের দল আজকে। বোলারদের সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়ে গেছেন আমাদের ফিল্ডাররা।

ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসান এই মহা কার্যকর ইনিংসটা না খেললে হয়তো জেতাটা অনেক কঠিন হয়ে যেতো আমাদের। তবে লক্ষ্য করে দেখেন মুশফিক ছাড়া আর যে ক’জন ব্যাট করেছেন সবাই কমবেশি কন্ট্রিবিউট করে গেছেন।

শুরুতে সৌম্য আবারো বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও দলকে চাংগা করে দিয়ে গেছেন কিছু সাহসী শট খেলে আর কম বলে বেশি রান করে আস্কিং রেইটকে আয়ত্তের ভিতরে রেখে গিয়ে। অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল যেভাবে পরাস্ত হচ্ছিলেন শুরু থেকে আর বলের লাইন মিস করছিলেন তা ভয়ংকর হয়ে উঠতো দলের জন্য সৌম্য বিগশটগুলি (কম হলেও) ঐ সময়টায় না খেললে। সৌম্য আউট হওয়ার পর তামিম অবশ্য নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছিলেন সাকিবের সাহসী সাহচর্য পেয়ে। তামিমের ব্যাটিংও শেষ পর্যন্ত প্রশংসার দাবিদার – সাকিবের সংগে একটা খুব দরকারী জুটি গড়ে তোলায়।

আর লিটনের কথা কি বলবো। তাকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কমেন্টেটর ইয়ান বিশপের মন্তব্যটাই তুলে দেই – ‘আজ লিটন তাঁর ব্যাট দিয়ে মোনালিসার ছবি আঁকছেন।’

আসলেই ব্যাট হাতে মোনালিসা এঁকে যাচ্ছিলেন লিটন দাস। জয়ের জন্য সাকিবের সঙ্গে খুব প্র‍্যাকটিক্যাল ব্যাটিং যেমন করেছেন লিটন সিঙ্গেলস, ডাবলস নিয়ে নিয়ে তেমনি খেলেছেন চোখ জুড়ানো কিছু আর্টিস্টিক শট।

মোট কথা, বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং – তিন ডিপার্টমেন্টেই অসাধারণ খেলেছে বাংলাদেশ এই ম্যাচে। আর সাকিবকে নিয়ে এককভাবে, আলাদাভাবে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো – সাকিবদের জন্ম হয় সেরা হওয়ার জন্যই। তারা বেঁচে থাকতে পারেন সেরা হয়েই – শত প্রতিকূলতায়, বাঁধায়, বিপত্তিতে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।