কোথায় হারালো সেই আত্মবিশ্বাস!

অনেকদিন আগে রণজিৎ বিশ্বাসের একটা লেখা পড়েছিলাম, সাকিব আল হাসানের উপর। তিনি লিখেছিলেন সাকিব ব্যাটসম্যান হিসেবেও সলিড না আবার বোলার হিসেবেও ভয়ংকরতম কেউ না কিন্তু সাকিবের যেটা ছিলো সেটা হচ্ছে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস আর চ্যাম্পিয়ন হবার মানসিকতা।

কিন্তু ব্যাট হাতে কোথায় হারালো সেই আত্মবিশ্বাস? টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেন ব্যাট করা ভুলেই গেলেন তিনি! গত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, বিপিএল, নিদাহাসের দুই ম্যাচ, আইপিএল, আফগানিস্তান সিরিজ প্রায় সব জায়গাতেই ব্যাট হাতে প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। লম্বা ইনিংস খেলতে পারছেন না, সেট হলেও ফিফটি পাচ্ছেন না। লেগ সাইডে শ্লগ সুইপ ছাড়া আর কোন শট খেলছেন না যার ফলে বাধ্য হয়ে ডাউন দ্য উইকেট আর লং অনে খেলতে হচ্ছে।

বোলিং হয়তো ভালো-ই হচ্ছে তবুও আগের মত অ্যাকুরেসি নেই, আমরা যারা সাকিবকে ২০০৬ সাল থেকে দেখছি তারা জানি বিগত ১২ বছরে বোলিং এর ধার অনেকটাই কমে গিয়েছে। কিন্তু কেন? অতিরিক্ত খেলার চাপ?

গত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের টেস্টে বিশ্রাম নিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে ঠিক কি সাকিবিয় পারফরমেন্স দিতে পেরেছিলেন? হয়তো ফ্যানরা তর্ক করবে, যুক্তি দিবে কিন্তু সঠিক উত্তর হচ্ছে “না”। সাকিবের নিজের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, সেই হিসেবে যদি পরিমাপ করা হয়?

দলের কথা বললে সবার আগে আসবে অধিনায়কের কথা, আইপিএল শেষে সাকিব বিশ্ব একাদশে খেলছিলেন না বিশ্রাম নেয়ার জন্য। দেরাদুনে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন দুই দিন পর, দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দলের সাথে অনুশীলন করেননি। এই সবই হয়তো ‘বিশ্রাম’ নেবার জন্য। কিন্তু একি দেখলাম! সাকিবের চোখে মুখে রাজ্যের ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, যেন খুব বিরক্ত। জোর করে মাঠে নামিয়েছে কেউ তাকে? বোলার বেড়ধক পিটুনি খাচ্ছে কিন্তু অধিনায়ক যেয়ে তার সাথে কথা বলছেন না, পিঠ চাপড়ে দিচ্ছেন না। আর ব্যাট হাতে যেন খেলাটাই ভুলে গিয়েছেন।

ফ্রাঞ্চাইজি লিগের প্রভাব কি তবে জাতীয় দলে?

প্রথম ম্যাচে রুবেলের পাশাপাশি রাহী আর রাজুর হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন তিনি, এইরকম অনভিজ্ঞ দুইজন বোলার আর সাথে ডেথ ওভারে দেদারছে রান বিলানো রুবেল, শেষ তিন ওভার আর কোন অধিনায়ক এই প্যাটার্নে সাজাতো বলে বিশ্বাস করিনা আমি। আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানদের শরীরে প্রচুর শক্তি, পাশতুন আর পাঠানদের সেটা জন্মগত, তাই রুবেল-রাহীদের সামান্য লাইন মিস করা বল তারা সজোরে মারতে পারে, কিন্তু টাইট লাইনের স্পিন? না তারা টেকনিক্যালি এতো বেশি নিঁখুত এখনো হয়নি যে একজন ভালো মানের স্পিনারকে মেরে ওভারে ২০-২২ রান নিবে।

স্পিন ডোমিনেট করা এই সিরিজে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকের সর্বোচ্চ ব্যাবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মাহমুউল্লাহকে যেভাবে তিনি অনিয়মিত (পার্টটাইমার) বলেছেন বাস্তবে মাহমুদুল্লাহ অনেক গুন ভালো বোলার।

কথায় বলে ‘ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। কিন্তু লিড কি করতে পারছেন ক্যাপ্টেন? কোথায় হারালো সেই আত্মবিশ্বাস? কোথায় হারালো সেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।