নিজের পায়ে কুড়াল মারা বাদশাহ!

বিপণন ব্যাপারটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে খুবই জরুরী। ইন্ডাস্ট্রিতে একটা ছবি বা সিরিজের বিপণন যেমন হয়, তেমনি কোনো ব্যক্তিরও বিপণনটাও ক্ষেত্রে বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ। এটা একজন তারকা ইমেজের জন্য জরুরী।

কেস স্টাডির জন্য আমরা যদি শাহরুখ খানকে ধরি, তাহলে বলা যায় চলতি সময়ে এই ব্যাপারটাই তাঁকে একটা হাস্যরসাত্মক বিষয়বস্তুতে পরিণত করছে। দায়টা তাই তার প্রোডাকশন হাউজ রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টকে নিতেই হচ্ছে।

একটু ভেঙে বলি এবার।

সাম্প্রতিক সময়ে রেড চিলিস যতগুলো ছবি বানিয়েছে, সবগুলোতেই কম বেশি ‘জোকার’ সেজেছেন বলিউড বাদশাহ। হ্যা, নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে বের হওয়া কোনো ছবির প্রচারে তিনি থাকতেই পারেন, তার জন্য কৌতুক করাটা কতটা যৌক্তিক!

সদ্য নেটফ্লিক্সের ‘বার্ড ও ব্লাড’-এর কথা এখানে না টানলেই নয়। কয়েকদিন ধরে নেটফ্লিক্স বার্ড অব ব্লাডের নানারকম টিজার আনলো। আর তার প্রতিটাতেই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শাহরুখ। সেখানে কই তিনি আগের সব জঞ্জাল সরিয়ে আরো আকর্ষণীয় হবেন, তা না করে নিজেকে গৎবাঁধা কমেডির ছকেই আটকালেন।

যতদূর বোঝা যাচ্ছে, ‘বার্ড অব ব্লাড’ হতে যাচ্ছে অ্যাকশন ও পলিটিক্যাল থ্রিলার ঘরানার। সেখানে কমেডি ব্যাপারটা কতটুকু যায়! এখানে চাইলেই রহস্যময় ও লোম খাড়া করা থ্রিলিং কিছু নির্মান করা যেত, সমস্যাটা ঠিক কোথায।

শাহরুখ খান এক যুগে রোম্যান্সের বাদশাহ হিসেবে জনপ্রিয় হলেও তিনি থ্রিলারেও যে কম যান না সেটা তো ‘বাজিগর’-এই প্রমাণ হয়ে গেছে সেই নব্বই দশকে। তো, বেহুদা নিজের ইমেজ নষ্ট করা কেন!

শাহরুখ খান একজন মহীরুহ। তিনি এই সময়ে জ্যাকেটের ভেতর থেকে এভাবে কলা বের করে জোর করে হাসানোর চেষ্টা করবেন, সেটা খুবই অসহ্য ব্যাপার!

শাহরুখ খান এখন এসবই করছেন। সেটা অ্যাওয়ার্ড শো হোক, কিংবা হোক কোনো প্রচারণামূলক কাজ। সেখানে তিনি এতদিন ধরে নিজের কামানো ঐতিহ্যটাকেই জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। ফলে, এতদিনে তাঁর যে ইমেজটা তিলে তিলে গড়ে উঠেছে তার এক নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এই সময়ে তাঁর ছবিগুলো আগের মত রমরমা ব্যবসা করতে না পারলেও কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায় যে শাহরুখ খান একজন সুপারস্টার। তাঁর ইমেজেও তাই সুপার স্টারডমের ছিটেফোঁটা থাকাটা দরকার। এই ব্যাপারে অমিতাভ বচ্চন বা রজনীকান্তরা এই বয়সে এসেও যতটা সচেতন, শাহরুখ তার ধারের কাছেও যেতে পারছেন না। নিজের পায়ে ক্রমাগত কুড়াল মেরে চলেছেন তিনি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।