বিস্ময়ের এই ঘোর যেন না কাটে!

‘সুখকর বিস্ময়’ বলে একটা ব্যাপার আছে! শুক্রবার সকালেও আমার অফিস করা লাগে, এটা হচ্ছে বেদনাদায়ক বিস্ময়। আর দিনের খেলা শুরুর বেশ কিছু সময় পর সকালে অনলাইনে খেলা দেখতে গিয়ে প্রথমেই তামিম ইকবালের একটা কাট শট দেখা ছিল চোখের শান্তি!

চোখের শান্তিটাই মস্তিষ্কের বিভ্রম হয়ে ধরা দিল যখন মনে পড়লো তামিমতো এই ম্যাচে নেই! এরপর যখন আস্তে আস্তে খেয়াল করলাম হেলমেটের আড়ালে খোঁচা খোঁচা ভরাট চাপদাড়ি আর মুখ খোলা রেখে উপরের ঠোঁট বাঁকিয়ে আর নাক-মুখ কুঁচকে সাবলীলভাবে ব্যাটিং করতে থাকা ছেলেটি তামিমের মত হলেও আসলে তামিম নয়, তখন বিভ্রম দূর হয়ে আস্তে আস্তে বিস্ময় হয়ে ধরা দিল!

ছেলেটির স্ট্যান্স, ছেলেটির ব্যাক লিফট, বল খেলার আগে মাটিতে ব্যাট ঢুকে আবার লিফট করা, ফরোয়ার্ড ডিফেন্স, ফ্লিক অনেক কিছুতেই যেন তামিম ইকবালের ছোঁয়া! শুধু তাই নয়। এতোটা সাবলীলভাবে ব্যাট চালিয়েছে যে মনেই হয়নি এটা তার প্রথম টেস্ট! আর ফুটওয়ার্কের কথা বলতে গেলে তামিমকেও অনেক ক্ষেত্রেই পিছে ফেলেছেন, অন্তত এই ইনিংসে!

‘টেস্ট টেম্পারমেন্ট’ নামক যে শব্দটা ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আমদানি করা হয়েছে, যেই রহস্যজনক ব্যাপারটা বার বার আমরা আমাদের ব্যাটসম্যানদের মাঝে খুঁজে খুঁজে হতাশ হয়েছি, সেই ব্যাপারটাই যেন এই ছেলেটার বুড়ো আংগুলে অমোচনীয় কালী দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে!

পুরো ইনিংসে একটাও উচ্চভিলাশী শট নেই! এমনকি যে বলটিতে আউট হয়েছেন সেটিতেও খুব একটা দোষ তাকে দেয়া যাবে না। টার্নিং পিচে দেবেন্দ্র বিশুর দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়েছেন। অল্পের জন্য যেটির ইম্প্যাক্ট আউটসাইড অফ স্ট্যাম্প হয়নি।

আরও অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, তার আউটটি নিয়ে নন্সট্রাইক প্রান্তে থাকা সাকিবও কিছুটা সন্দিহান ছিলেন! হয়তো টার্ন করে বের হয়ে যেতে পারে! কিন্তু বলের লাইন মিস করার সাথে সাথেই সাদমান বুঝে গেছেন যে তিনি আউট! তাই আম্পায়ার আঙুল তোলার সাথে সাথে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে বের হয়ে গেছেন।

নিজের অফ স্ট্যাম্প কোথায় আছে, উইকেটের সামনে ঠিক কোন পজিশনে তিনি ব্যাট চালিয়েছেন, বলটি যে ঠিক উইকেটেই আঘাত করবে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে তার কোন দ্বিধাই ছিল। এতেই বোঝা যায় নিজের প্রতি কতটা বিশ্বাস রেখে তিনি ব্যাট করেছেন! বলটি সামান্য বেশি টার্ন করলে কিংবা তিনি এক মুহূর্ত পরে ব্যাট চালালেই হয়তো আউট হতেন না। কিন্তু, তার অফ স্ট্যাম্পের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ও নিজের উপর বিশ্বাস রাখার এই ব্যাপারটি আমাকে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে!

এক কথায় তামিমের সাথে অদ্ভুত মিল ও নিজের সামর্থ্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখা আত্মবিশ্বাসী এই ছেলেটা আজ ‘সুখকর বিস্ময়’ হয়েই এসেছে!

শুভকামনা সাদমান ইসলাম। এই বিস্ময়ের ঘোর যেন কয়েক দশকেও না কাটে!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।