উত্তর কোরিয়ান ফার্স্ট লেডি: তাঁকে ঘিরেও রহস্যের শেষ নেই

নি:সন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে গোপন দেশটি হল উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের ব্যাপারে তাই খুব সামান্যই জানা যায়। একই ভাবে তাঁর স্ত্রী, মানে দেশটির ফার্স্ট লেডি রি সোল-জুও রহস্যময় এক চরিত্র। খুব বেশি জনসম্মুখে আসেন না বলেই, অন্যান্য দেশের মত নিউজ বুলেটিনে তাকে মুহর্মুহ দেখা যায় না।

এরচেয়েও বড় ব্যাপার হল, তাঁর সত্যিকারের বয়স কত – সেটা নিয়েও আছে ধোয়াশা। এত কিছুর পরও তার জীবনের ব্যাপারে সামান্য কিছু ব্যাপার জানা যায়। সেসব নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

  • শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে

উপকূলীয় শহর চঙজিনে জন্ম রি সোল-জুয়ের।পরিবারের সবাই হয় শিক্ষক, না হয় চিকিৎসক। তাঁর জন্ম ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ এর কোনো একটা সময়। সেই হিসেবে তাঁর বয়স ২৮ থেকে ৩৩-এর মধ্যে।

  • চিয়ারলিডার ক্যারিয়ার

কোরিয়ার নেতাকে বিয়ের আগে দেশটির সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় কিম টু সাং বিশ্ববিদ্যালয়, পোঙগ্যাংয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ২০০৫ সালে তিনি চিয়ারলিডার হিসেবে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে গিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়।

  • গায়িকা

রি সোল-জুয়ের গানের গলা দারুণ। তিনি গান গেতে যথেষ্ট ভালবাসেন। গায়িকির ওপর তিন চীন থেকে উচ্চতর পড়াশোনা করে এসেছেন। এরপরই ভবিষ্যৎ স্বামীর সাথে তাঁর দেখা হয় রাজ্যের উনহাসু অর্কেস্ট্রার ব্রডকাস্টিং পারফরম্যান্সের সময়।

  • তিন বাচ্চার মা

গণমাধ্যমের বিশ্বাস তিনি দুটি কন্যা সন্তান (জন্ম সম্ভবত ২০১০ ও ২০১৩ সালে) ও একটি পুত্র সন্তানের (২০১৭-এর ফেব্রুয়ারি) জননী। দক্ষিণ কোরিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার মতে, তৃতীয় সন্তান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন না রি সোল-জু। তবে, দেশের পুরুষ উত্তরসূরীর খোঁজে তাঁকে সন্তান জন্মদানে বাধ্য করা হয়।

  • বিদ্রোহী মানসিকতা

রি সোল-জু হলেন উত্তর কোরিয়ার একমাত্র ফার্স্ট লেটি যিনি কেশবিন্যাস পাল্টে ছোট করে ফেলেছেন। এর আগের নেতাদের সবার স্ত্রীরই চুল লম্বা ছিল। সেই রীতি তিনি মানেননি। একই সাথে তিনি যথেষ্ট ফ্যাশনেবলও। পাশ্চাত্যের ব্র্যান্ডের প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁকও আছে। তিনি শ্যানেল ও ডিওরের ব্যাগ ব্যবহার করেন। ‍আনুগত্র প্রকাশের ব্যাজ না পরে তাকে দামী ও আকর্ষণীয় ব্রোচ পরতেও দেখা গেছে।

  • নারী স্বাধীনতার পক্ষে

ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রনের পরও রি সোল-জু তাঁর স্বামীর কর্কশ মেজাজের রুক্ষতা কিছুটা হলেও কমাতে পারছেন। তাঁর প্রভাবেই কিম জং উন উত্তর কোরিয়ান মেয়েদের প্যান্ট, কালো টাইটস, জিন্স, এমনকি হিল বা প্ল্যাটফরম জুতো পরার অনুমতি দিয়েছেন। মেয়েরা এখন সে দেশে বাইসাইকেলেও চড়তে পারে।

 

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।