স্কুবি-ডু-বি-ডু, হ্যোয়ার আর ইউ!

২০১৩ সালের ঘটনা। টিভি গাইড নিজেদের ৬০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সর্বকালের সেরা ৬০ টি টেলিভিশন কার্টুনের এক তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে পঞ্চম স্থানে এমন একটা কার্টুন সিরিজ জায়গা করে নেয় যার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত – স্কুবি ডু!

এই আমেরিকান কার্টুনটি কবে থেকে যাত্রা ‍শুরু করেছে, জানতে পারলে রীতিমত আকাশ থেকে পড়বেন। সেটা আজ থেকে প্রায় ৪৯-৫০ বছর আগের কথা। ১৯৬৯ সাল, হান্না বারবেরা প্রোডাকশনের জন্য প্রথম কার্টুনটি নির্মান করেন জো রুবি ও কেন স্পিয়ার্স। নাম ছিল – ‘স্কুবি-ডু, হোয়্যার আর ইউ?’

তখন এটা দেখা যেত প্রতি শনিবার সকালে। আমেরিকার ইতিহাসে এখনো এটা শনিবার সকালে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে সম্প্রচারিত হওয়া টেলিভিশন শো। সব মিলিয়ে এই কার্টুনে কুশীলবরা মোট ৩৯২ জন ভিন্ন ভিন্ন ভিলেনের সাথে লড়াই করেছেন।

কার্টুনটি প্রাথমিক ভাবে যখন পরিকল্পনা করা হয় তখন নাম রাখা হয় ‘উ-হু স্কেয়ার্ড?’। তবে, প্রযোজকদের কাছে মনে হয়েছিল, নামটা বাচ্চাদের জন্য একটু বেশিই ভীতিকর। নাই নামটা পাল্টে ফেলে, এর সাথে একটা পোষা কুকুর যোগ করারও সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।

কুকুরটা একটু তোতলা। ‘র’ শব্দটা উচ্চারণে সমস্যা হয়। নাম রাখা হয় স্কুবি-ডু। পুরো নাম স্কুর্বার্ট ডু। নামের পেছনেও গল্প আছে। প্রি-প্রোডাকশন সংক্রান্ত এক বৈঠকে একজন প্রযোজক এই নামটি প্রস্তাব করেন। আদতে তিনি ছিলেন ফ্যাঙ্ক সিনাত্রার ‘স্ট্রেঞ্জার’স ইন দ্য নাইট’ গানের ভক্ত। গানটিতে একটা লাইন ছিল – ‘ডু-বি-ডু-বি-ডু’। ব্যস, হয়ে গেলে স্কুবি-ডু-বি-ডু!

কুকুর যোগ তো হল, এবার ব্যাপার হল কন্ঠ দেবে কে? এগিয়ে এলেন ডন মেসেক। এই যুগে তিনি খ্যাতনামা ভয়েজ আর্টিস্টদের একজন। স্কুবি ডু’র খ্যাতির পর তিনি ‘পাপা স্মার্ফ’ নামের আরেকটি অ্যানিমেটেড শোতেও ভয়েজ দেন।

দুই নির্মাতা জো রুবি ও কেন স্পিয়ার্স

এই কার্টুনের আরেকটি স্থায়ী আর কালজয়ী চরিত্র হল শ্যাগি। এই শ্যাগিকে ঘিরেও অনেক গল্প আছেন।  শ্যাগির কন্ঠটা দিতেন ক্যাসি ক্যাসেম নামের একজন ভয়েজ আর্টিস্ট। তবে, তাঁর ভুতুড়ে এক দাবী ছিল। তিনি চেয়েছিলেন চরিত্রটা, মানে শ্যাগি যেন আজীবনই ভেজিটেরিয়ান থাকে। পরে শ্যাগিকে ‘বার্গার কিং’-এর একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। ক্ষোভ নিয়ে একদম কাজই ছেড়ে দেন ক্যাসি।

এই শো-এর ১২ টি ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে। তবে, সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় ‘স্কুবি-ডু, হোয়্যার আর ইউ?’ (১৯৬৯-১৯৭০) ও ‘হোয়াটস নিউ, স্কুবি-ডু? (২০০২-২০০৬)। যদিও, এত বিপুল জনপ্রিয়তার পরও এই কার্টুনটি মাত্র দু’টি বড় পুরস্কারের মনোনয়ন পায়। প্রথমটা হল ১৯৯০ সালের ডে টাইম ইমি। এরপর দ্বিতীয়টি হল ২০০৩ সালে আউটস্ট্যান্ডিং পারফরম্যান্স ইন অ্যানিমেটেড প্রোগ্রামঅ

একটা সময় এসে আর শুধু কার্টুনে পোষাচ্ছিল না। রীতিমত হলিউডে নির্মিত হয় স্কুবি-ডু। ২০০২ সালের সিনেমাটি তাতে অভিনয় করেন ম্যাথিউ লিনার্ড, ফ্রেডি প্রিঞ্জ জুনিয়র, সারা মিশেল গেলার ও লিন্ডা কারডেলিনি।  পরে ২০০৪ সালে ‘স্কুবি ডু-২: মনস্টার্স আনলিশড’ নামের সিকুয়েলও নির্মিত হয়।

স্কুবি ডু সিনেমার একটি দৃশ্য

একটা সময় পর্যন্ত স্কুবি-ডু’র নাম ছিল গিনেজ বুকেও। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা কোনো অ্যানিমেটেড টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে সবচেয়ে বেশি এপিসোড সম্প্রচারের রেকর্ড ছিল স্কুবি ডু’র। পরে এই রেকর্ড ভেঙে দেয় ‘দ্য সিম্পসন্স’।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।